
পুর্ব শত্রুতার জেরে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা এলাকার পাঁচুড়িয়া ইউনিয়নে প্রতিপক্ষের হামলায় প্রায় অর্ধশত বাড়িঘরে হামলা ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শনিবার ভোররাতে উপজেলার পাঁচুড়িয়া ইউনিয়নের উত্তর চরনারানদিয়া চরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ কারনে এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এদিকে আইনশৃঙ্খলা মোতায়ন থাকার পরেও নতুন করে হামলার আশঙ্কায় সাধারণ মানুষ। তারা অনেকে বাড়িঘরের মালামাল নিয়ে গ্রাম ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলেযাচ্ছে বল জানাগেছে। ঘটনার প্রকাশ, গত ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে পাঁচুড়িয়া ইউনিয়নের বিজয়ী চেয়ারম্যান এস এম মিজানুর রহমান ও পরাজিত প্রার্থী খালিদ মোশাররফ রঞ্জু সমর্থকদের মাঝে দন্ড দীর্ঘদিন ধরে চলমান থাকায় মাঝে মধ্যেই এলাকার বিভিন্ন স্থানে বিরোধ চলছিলো। এর জের ধরে ইউনিয়নের উত্তর চরনারানদিয়া গ্রামে বর্তমান চেয়ারম্যান এস এম মিজানুর রহমানের সমর্থক ইউপি সদস্য আজগার আলী পক্ষের লোকজনের সাথে পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী খালিদ মোশাররফ রঞ্জুর সমর্থক কামাল মোল্যা ও আকবর মোল্যার পক্ষের লোকজনের মধ্যে সম্প্রতি কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন অনেকে। তাদের ধারনা এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার ভোররাতে ইউপি সদস্য আজগার আলী’র পক্ষের লোকজন প্রতিপক্ষ কামাল মোল্যা ও আকবর মোল্যার পক্ষের লোকজনের বাড়ি ঘরে হামলা চালায়। এসময় বিভিন্ন প্রকার দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রায় শতাধিক দুর্বৃত্ত মিলে কয়েক ঘন্টাব্যাপী এ নারকিয় হামলা চালায়। এসময় শিশু সহ নারী-পুরুষ নির্বিশেষে জিবন বাচাতে দৌঁড়ে পালিয়ে রক্ষা পেলেও তাদের বাড়িঘরে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে নগদ অর্থ সহ লুট পাট করা হয় বলে জানিয়েছেন তারা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামজুড়ে ধ্বংসযজ্ঞের আলামত। বাড়ি ঘরের টিনেরচালা ও ঘরের বেড়া, কুপিয়ে ছিন্নভিন্ন করা হয়েছে। গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে জানালা-দরজা। বসতঘর, রান্নাঘর, ছাড়াও দোকান পাট, গোয়ালঘর। হামলার হাত থেকে ঘরের আসবাবপত্র সহ কোনো কিছুই রেহাই পায়নি। তাদের আকুতি হটাৎ এই হামলায় সাজানো-গোছানো সংসার আজ ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তদের অনেকে। কেঁদে কেঁদে বলছিলেন, হামলার সময় লুটে নেওয়া হয় নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, কালার টিভি, ফ্রিজ, মোবাইল ফোন সহ গোয়ালের গরু বাছুর, দোকানের মাল পত্র। হামলায় ক্ষয়ক্ষতি পরিমাণ প্রায় কোটি টাকার মত দাবি তাদের। হামলার অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য আজগার আলী অস্বীকার করেন। তিনি উল্টো অভিযোগ করেন। ‘তার পক্ষের লোকজনের বাড়িতে প্রতিপক্ষ প্রথম হামলা করেছে। এ-র আগেও প্রতিপক্ষের লোকজন তার ভাইকে অতর্কিত হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করেছে । এরপর তার ছেলে ও ভাতিজাকে প্রতিপক্ষের লোকজন কয়েকবার হামলার চেষ্টা করেছে’। এবিষয়ে পরের দিন সকালে, আলফাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবু তাহের আমাদের প্রতিনিধিকে বলেন ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোন অপ্রীতিকর ঘটনা মোকাবেলায় আইন শৃংখলা রক্ষা বাহিনী সর্বদা তৎপর। ঘটনার বিষয়ে, আমরা এখনও কোন পক্ষের লিখিত অভিযোগ পায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলেই তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।