1. admin@dhakapost71.com : admin :
  2. dhakapost71@gmail.com : dhakapost71 :
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
নোয়াখালীর উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি সম্ভাবনা শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক বরগুনায় জুলাই শহীদ দিবস পালিত। মাদকসেবনের প্রতিবাদ করায়……… নোয়াখালীতে বিএনপি নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এ-র দাবিতে শ্রীমঙ্গলে রাস্তা অবরোধ। বরগুনার আমতলীতে মিথ্যা মামলা ও মানহানিকর প্রচারণার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন। কালিহাতীতে জুলাই শহীদ দিবস পালন উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত বিশ্ব সাপ দিবসেই শ্রীমঙ্গলে অজগর সাপ উদ্ধার। নিকলীতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও জুলাই শহীদ দিবস পালন, শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল কবিরহাটে ঐতিহাসিক জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা নাজিম উদ্দিন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও গাছের চারা বিতরণ

দাগনভূঞা সাব রেজিস্ট্রি অফিসের অনিয়ম পরিনত হয়েছে নিয়মে

  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৬ জুলাই, ২০২৫
  • ৪০০ বার পঠিত

ডেক্স রিপোর্ট ফেনী :

দাগনভূঞা (ফেনী) উপজেলার দাসপাড়ায় অবস্হিত সাব রেজিস্ট্রি অফিস দীর্ঘদিনের অনিয়মে শিকলবন্দী।এই যেন এক ধরা ছোঁয়ার গল্পের অদৃশ্য ছত্রচায়ার যোগসূত্র।সম্প্রতি এই অফিসের সাব রেজিস্ট্রার আকিল উদ্দিন, করণিক নছের উদ্দিন, উমেদার নোমান এবং অফিস সহায়ক সায়েম কে নিয়ে একাধিক অনিয়ম প্রসঙ্গে দৈনিক আমার সংগ্রাম,সাপ্তাহিক মুক্তমন এবং মুক্তমন মাল্টিমিডিয়ায় ভিডিও নিউজসহ বেশ কয়েকটি নিউজ প্রকাশিত হয়। সাপ্তাহিক মুক্তমন পত্রিকায় ” দাগনভূঞা সাব রেজিস্ট্রি অফিসের ঘুষ বানিজ্য চরমে” এই শিরোনামে নিউজের বিস্তারিত তে ১৮ই ফেব্রুয়ারী ২০২৫ ইং দৈনিক আমার সংগ্রাম পত্রিকায় অনিয়ম প্রসঙ্গে অনুসন্ধানী নিউজ প্রকাশের কথা উঠে এসেছে। সরকারি একটি জনগুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের এমন অপকর্মেের বিষয়ে প্রকাশিত নিউজের সূত্র ধরে শুরু হয় ব্যপক অনুসন্ধান।অনুসন্ধানকালে জানা গেছে ,করণিক,উমেদার,মোহরার ও নকল নবিশ সাহেদ এরা পরস্পর আত্মীয় স্বজন এবং তারাই এই অফিসের সকল অনিয়মের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। আর সকল অনিয়মের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে কাজ করছেন সাব রেজিস্ট্রার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেবাগ্রহীতার অভিযোগের ভিত্তিতে অনিয়মের গভীরে প্রবেশ করতে দেখা যায় তাদের অন্যায় অনিয়ম দামাচাপা দিতে সব সময় নীরব ভূমিকা পালন করেছেন সাব রেজিস্ট্রার। অফিস সহায়ক সায়েমের বিষয়ে নিউজ প্রকাশিত হওয়ার পর ও নিজ দপ্তরের একজন অধনস্ত কর্মচারীর বিষয়ে সঠিক কোন উত্তর মেলেনি সাব রেজিস্ট্রার আকিল উদ্দিনের নিকট থেকে। এদিকে অফিস সহায়ক সায়েম নিউজের শিরোনাম হওয়ার পর থেকেই নিষ্পাপ সাজে সাব রেজিস্ট্রার। যেনো তিনি কিছুই জানেন না অফিসের কোন অপকর্মের বিষয়ে এমন ভাব প্রদর্শন করেছেন। অনুসন্ধান পর্বের সন্দেহ গভীর হতে থাকলে বের হয়ে আসে আরো অজানা তথ্য। যেখানে এই অফিসের এজলাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দেখা মিললো উমেদার নোমানের। সেবাগ্রহীতাদের বোকা বানিয়ে সাব রেজিস্ট্রারের অফিস কার্যক্রম অবাক হওয়ার মতো। যেখানে উমেদার কোন সরকারি পদ নয় কিংবা এজলাসে থাকার কোন বিধান নেই সেখানে একটি গোপন ভিডিও তে দেখা যায় উমেদার নোমান সাব রেজিস্ট্রারের অতি নিকটে দাঁড়িয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র হাতাহাতি করছেন। নোমানের পদ এবং কাজের বিষয়ে জানতে আকিল উদ্দিন কে ফোন করলে তিনি জানান,নোমান উমেদার কাম নাইট গার্ড। প্রশ্ন তাহলে ডিউটি কোথায় করার কথা,মুঠোফোনের অপরপ্রান্তে চুপচাপ ছিলেন সাব রেজিস্ট্রার। পূণরায় আবার জানতে চাইলে বলেন, জনগনের ভোগান্তি কমাতে কাজের চাপ থাকলে নোমান সহযোগীতা করে। তবে কি আপনার উত্তর সরকারি আইন ও বিধানের উপরে জানতে চাইলে আবারো নীরবতা পালন করেন। নোমানের অবস্থান যেখানে প্রতিদিনই এজলাসে দেখা যায় সেখানে কাজের চাপের কথা বলে পার পাওয়ার বৃথা চেষ্টা এবং নাইট গার্ডের ডিউটি কি করে দিনে এবং এজলাসে হয় তা বোধগম্য নয়। তবে এটিই স্পষ্ট যে,একটি অনানুষ্ঠানিক পদের একজন ব্যক্তির এজলাসে থাকার অবস্থান প্রমান করে এই দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ সকল নথিপত্র সে হাতাহাতি করে। তাহলে দপ্তরের নথিপত্রের গোপনীয়তা,স্বচ্ছতা আর সুরক্ষা কি প্রশ্নবিদ্ধ নয়। সাব রেজিস্ট্রারের এজলাসে উমেদারের অতি নিকটে অবস্থান এবং আচার আচরণে প্রমাণ করে নিঃসন্দেহে একে অপরের দূর্ণীতির বিশ্বস্ত সহচর। অর্থাৎ এই অফিসের ঘুষ লেনদেন থেকে শুরু করে যতো অনিয়ম সকল কিছু সাব রেজিস্ট্রারের প্রত্যক্ষ মদদে কেরাণী নছের উদ্দিনের সহযোগিতায় নোমানের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয় বলে ও জানা গেছে। অফিসের দ্বায়িত্ব পালনে রয়েছে আরো অনিয়ম। একজনের কাজ করছেন অন্যজন। নিয়ম অনুযায়ী ফিস কালেকশন করার কথা সাব রেজিস্ট্রার তা করছে করণিক। টিপ নেওয়ার কথা করণিক তা করছে অন্যজন। এছাড়াও জানা যায়,অসুস্থ ব্যক্তিদের বাসায় গিয়ে দলিল সম্পন্নকরণে ভিজিট কমিশনের কাজটি সাব রেজিস্ট্রার এবং অফিস সহায়কের করার কথা থাকলে ও তা করছে শুধুমাত্র উমেদার নোমান। এই অফিসের মামা ভাগিনা সিন্ডিকেট ভাঙার জন্য সর্বপ্রথম নোমান কে এজলাস থেকে সরিয়ে দেওয়া এবং কেন সাব রেজিস্ট্রার সরকারি বিধান তোয়াক্কা না করে এমন কাজটি করেছেন সেই বিষয়ে বিভাগীয় শাস্তির ব্যবস্হা গ্রহণের স্বীদ্ধান্ত অবশ্যই এড়িয়ে যাওয়ার মতো হতে পারে না উদ্ধোর্তন কর্তৃপক্ষের। মনে হয় ছোট বেলার এক গল্পের বইয়ের নামের মতো যেনো একের ভিতর সব। এখানেই শেষ নয়। উমেদার নোমান কখনো বুজতে দেয় না সে সরকারি কর্মচারী নয়। অজ্ঞতার অন্ধকারে থাকা এখানে আসা অনেকেই মনে করেন নোমান সরকারি কর্মচারী। সাব রেজিস্ট্রারের অতি নিকটে থেকে করছে অর্থের বিনিময়ে দলিলের সিরিয়াল লঙ্ঘন,জমির শ্রেণী পরিবর্তন করে ভ্যাট ফাঁকি দেওয়া,সাংবাদিক ও বিভিন্ন সংস্থার নাম দিয়ে অর্থ আদায়সহ নানা অনিয়ম। গোপন অবস্থানের ভিত্তিতে দেখা যায় গত কিছু দিন পূর্বে দলিল লেখক সমিতির সভাপতি, বিশিষ্ট রাজনীতিবীদ মতিন চৌধুরীর দলিলের সিরিয়াল লঙ্ঘনের কারনে তিনি অফিসে প্রকাশ্যে তার উপর ক্ষীপ্ত হোন এবং চিৎকার করে তাকে দ্বিতীয় সাব রেজিস্ট্রার বলে ও আখ্যা দেন। তাহলে বুজার বাকি কি থাকলো সে কোথায় কি করছে? বাকী থাকলো প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা গ্রহনসহ দুদকের অভিযান পরিচালনা করে এই অফিস কে আগা গোড়ায় দূণীতিমুক্ত করা। পরস্পর কথোপকথনে আরো জানা যায়,৫ ই আগষ্টে পালিয়ে যাওয়ার পর ফ্যাসিস্ট আওয়ামিলীগ সরকারের দাগনভূঞার তিনজন ক্ষমতাবান ব্যক্তির দলিল নোমান বাসায় গিয়ে কমিশনে সম্পন্ন করে। সরকারি কর্মচারী না হয়ে ও বিধান বহির্ভূঃত সুস্থ ব্যক্তি কে অসুস্থ দেখিয়ে যাচাই না করে অথবা অসুস্হতার কোন প্রমানপত্র না নিয়ে শুধুমাত্র একটি আবেদনের ভিত্তিতে কমিশনে দলিল সম্পাদনের অনুমতি দাতা সাব রেজিস্ট্রার এই অফিসের দূণীতির অভিভাবক তাতে কোন সন্দেহ নেই। নিয়মিত অফিসে না আসা,কর্মস্হলে যোগদানের দীর্ঘদিন পরও নিজের নাম নেমপ্লেটে না লাগানো,সপ্তাহে ২-৩ লক্ষ টাকা অবৈধ আয়ের কথা ও উঠে আসে পূর্বের প্রকাশিত নিউজে।গনমাধ্যমে লিখনীর পর আনুমানিক দুই মাস পূর্বে নেমপ্লট লাগানো হয়। এতোসব অনিয়ম কিভাবে কার ছত্রছায়ায় এতোদিন চলছে এবং কতো টাকার মালিক বনেছেন এই ব্যক্তিরা,অপরাধের শাখা-প্রশাখাই বা কতদূর তা হয়তো দুদকের নিখুঁত অনুসন্ধানে বের হতে পারে। তার অবৈধ আয়ের কথা অনেক দলিল লেখক আড়ালে বললে ও তাদের লাইসেন্স বাতিল হওয়ার ভয়ে প্রকাশ্যে বলছে না। একাধিকবার নিউজ প্রকাশিত হওয়ার পর ও ফেনী জেলা রেজিস্ট্রার এসব অনিয়ম সম্পর্কে জানার পর ও নেয়নি কোন ব্যবস্হা।সরকারি বিধান বহির্ভূত অনিয়ম কে সঙ্গী করে এই অফিসের কার্যক্রম আর কতদিন চলবে সেই প্রশ্নই রইলো সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উদ্বোর্তন কর্তৃপক্ষ মহলে।

Facebook Comments Box
এ জাতীয় আরও খবর
© All rights reserved © 2023 Dhaka Post 71
Theme Customized By Shakil IT Park