
পিরোজপুর প্রতিনিধি :
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন পরিষদের এক কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় দফাদার ও মহল্লাদারের বিরুদ্ধে মঠবাড়িয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
আহত ব্যক্তি হলেন সাপলেজা ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর মো. জাহিদুল ইসলাম বেপারী। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন— সাপলেজা ইউনিয়নের দফাদার মো. মাসুম বিল্লাহ (পিতা: ছমেদ দফাদার) ও মহল্লাদার হযরত আলী।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সাপলেজা ইউনিয়নে বর্তমানে কোনো স্থায়ী প্রশাসনিক কর্মকর্তা কর্মরত না থাকায় পাশের হলতা-গুলিশাখালি ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ওই কর্মকর্তার নামে কোনো অনুমোদিত ইউজার আইডি না থাকায় ইউনিয়ন পরিষদের স্থায়ী কর্মচারী মো. জাহিদুল ইসলামের আইডি ব্যবহার করা হচ্ছিল।
এ নিয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও হিসাব সহকারী জাহিদুল ইসলামের মধ্যে আগে থেকেই মতানৈক্য চলছিল বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনিক কর্মকর্তার অসহযোগিতার কারণে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনসহ ইউনিয়ন পরিষদের বেশিরভাগ কাজ একাই সামলাতে হচ্ছিল জাহিদুল ইসলামকে।
জানা যায়, নিয়মিত মাসিক প্রতিবেদন তৈরির অংশ হিসেবে ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের নবজাতক শিশুদের হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করতে দফাদার মাসুম বিল্লাহর কাছে তথ্য চান জাহিদুল ইসলাম। কিন্তু দফাদার তথ্য দিতে গড়িমসি করলে এ নিয়ে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একপর্যায়ে দফাদার মাসুম বিল্লাহ ও মহল্লাদার হযরত আলী ক্ষিপ্ত হয়ে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জাহিদুল ইসলামের ওপর হামলা চালান। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় রেফার করেন। বর্তমানে তিনি খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত দফাদার মাসুম বিল্লাহ তৎকালীন পলাতক চেয়ারম্যান মিরাজের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও সহপাঠী ছিলেন। চেয়ারম্যানের প্রভাব ব্যবহার করে তিনি অতীতেও নানা অনিয়ম ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীর স্ত্রী জানান, ঘটনার পর তিনি মঠবাড়িয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকলিমা আক্তার বলেন,
“বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি। তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”