
জামালপুর প্রতিনিধি,
জামালপুরের সরিষাবাড়ী থানার নারী ডেস্কের টয়লেটে আনোয়ার হোসেন নামে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান,পুলিশের এক এসআইসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সরিষাবাড়ী আমলি আদালতে নিহতের বাবা আব্দুস সামাদ দুলু বাদী হয়ে মামলটি দায়ের করেন। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তানজিনা আক্তার মামলাটি আমলে নিয়ে সরিষাবাড়ী থানার ওসিকে ওই ঘটনায় কী পদক্ষেপ নিয়েছেন তা আদালতকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে জানাতে বলেছেন। রবিবার (৪ ফেব্রুয়ারী ) নিহতের বাবা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন । তবে বিষয়টি নিয়ে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে বিচারের দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এদিকে আনোয়ারের বাবার মামলা দায়েরের অভিযোগ সুত্রে জানা যায় , গত ২৬ ডিসেম্বর বিকেলে আনোয়ার হোসেন সরিষাবাড়ী উপজেলার চাপারকোনা বাজারে কেনাকাটা করতে গেলে পূর্ব শত্রুতার জেরে ডোয়াইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক স্বপনের নির্দেশে তার অনুসারী সোহেল রানা, ফিরোজ মিয়া ও মনছুর মিয়া তাকে সেখান থেকে জোরপূর্বক তুলে স্থানীয় চাপারকোনা মহেষ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের পেছনে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে মারপিট করে হামলাকারীরা নিজেরা পুলিশে খবর দিলে আহত আনোয়ার হোসেনকে সরিষাবাড়ী থানায় নিয়ে আসেন পুলিশ। পরে রাত ১১টার দিকে ডোয়াইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক স্বপন তার লোকজন নিয়ে থানায় প্রবেশ করে। ওইদিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে ইউপি চেয়ারম্যান, আনোয়ারের বাবা আব্দুস সামাদ দুলুকে ফোন করে জানায় তার ছেলে গুরুতর অসুস্থ। তাকে চিকিৎসার জন্য সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে গিয়ে আনেয়ারকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায় পিতা আব্দুস সামাদ।
খোজ ও গোপন সুত্রে জানা গেছে , ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা আনোয়ার হোসেন সরিষাবাড়ী থানার এজাহারভূক্ত আসামী ছিলেন।২০২৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে তিনটায় তাকে নিজ গ্রামের চাপারকোনা বাজার থেকে এসআই শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম গ্রেফতার করে ইউপি চেয়ারম্যানের অনুরোধে আসামী হাজতে না রেখে নারী ও শিশু ডেস্কে রাখা হয় । এরপর রহস্যজনক কারণে থানার টয়লেটে মারা যায় । পরে ১২:৫০ মিনিটে পুলিশ তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে পুলিশ আনয়নকারী না হয়ে আনোয়ারের এক আত্মীয়কে আনয়নকারী বানিয়ে হাসপাতালের খাতায় নাম লিপিবদ্ধ করেন । এদিকে বিষযটি নিয়ে আলোড়ন সৃষ্টি হলে পরদিন এসআই শহিদুল ইসলাম বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে নিয়ে যায়। বিভিন্ন তদবীরের মাধ্যমে তিনি হার্টস্ট্রোকজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে কাগজ কলমে নিশ্চিত করেন । ময়না তদন্ত শেষে পরে রাত ৮ টায় আনোয়ারের জানাযা দাফন সম্পন্ন করা হয়।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মেহেদি হাসান জানান, আনোয়ার হোসেনকে হাসপাতালে আনার পর ইসিজি করা হয়। পরীক্ষা-নীরিক্ষায় পর তাকে জীবিত পাওয়া যায়নি। তাকে হাসপাতালে আনার আগেই মৃত্যু হয়েছে বলা যায়।
নিহতের স্ত্রী আলপনা বেগম অভিযোগ করেন, পুলিশ সুস্থ মানুষ ধরে নিয়ে গেছে। থানার নেওয়ার পর সর্বশেষ সন্ধ্যায় তার সাথে ফোনে কথা হয়, তখনও তার স্বামী ভালো ছিলেন। রাত ১২টায় হঠাৎ খবর আসে যে, তার স্বামী স্ট্রোক করেছে।
বোন নুরজাহান বেগম অভিযোগ করেন, তার ভাই সুস্থ ছিল, পুলিশ ধরে নিয়ে নির্যাতন করেছে, তাই তিনি মারা গেছেন। ভাই হত্যার বিচার দাবি করেন তিনি।
মামলায় বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম জানান, এই ঘটনায় হামলাকারী সরিষাবাড়ী উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের দোলভিটি গ্রামের মৃত. নুরুল ইসলামের দুই ছেলে ও ইউপি চেয়ারম্যানের খালাত ভাই সোহেল রানা ও ফিরোজ মিয়া, একই ইউনিয়নের চাপারকোনা গ্রামের মান্নান মিয়ার ছেলে মনছুর মিয়া, ডোয়াইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক স্বপন ও সরিষাবাড়ী থানায় কর্মরত পুলিশের এসআই শহিদুর ইসলামকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক স্বপনকে বার বার কল দেওয়া হলেও মোবাইল বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এব্যাপারে অভিযুক্ত এসআই শহিদুর রহমান জানান, এটা একটা মিথ্যা মামলা । তবে আসামী গ্রেফতার করে নারী ডেস্কে কেন রাখা হয়েছিল প্রর্শ্নে জবাবে তিনি বলেন , আসামীকে গ্রেফতার কওে যথা নিয়মে থানা হাজতে রাখা হয়েছিল। থানা হাজতে আসামী থাকলে নারী ডেস্কের টয়লেটে কিভাবে গেল প্রশ্নের জবাবে তিনি এড়িয়ে যায় ।
এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মুশফিকুর রহমান রবিবার দুপুর ২টা ৩৯ মিনিটে মুঠোফোনে জানান , নিহতের বাবা বাদী হয়ে কোর্টে মামলা দায়ের করেছে । কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল তা আদালতকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে জানাতে বলা হয়েছে । এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছিল । রিপোর্ট কোর্টে পাঠানো হবে ।
রাসেল সেক
জামালপুর