1. admin@dhakapost71.com : admin :
  2. dhakapost71@gmail.com : dhakapost71 :
শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৭ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
পোরশায় যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলো ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ২০২৬’ সাভারে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ গেল সাংবাদিকের, সাংবাদিক মহলে শোকের ছায়া ধর্ম ও রাজনীতি তত্ত্ব:- নান্দনিক সৌন্দর্যে বদলে যাচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিশ্বরোড, নতুন সাজে মুগ্ধ এলাকাবাসী। চাপরাশিরহাটে কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও উচ্চশিক্ষায় ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রাম-২০২৬ অনুষ্ঠিত মাধবপুর থানার শ্রেষ্ঠ পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ নির্বাচিত হলেন ইকতার মিয়া। পোরশায় নিজ উদ্যোগে ভাঙা রাস্তা সংস্কার করলেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ আয়নাল হক সাভারে শ্রমিক আন্দোলনে সংঘর্ষ ওসি ও সাংবাদিক আহত, পুলিশের গাড়িতে আগুন নিকলীতে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-সিজন ২-এর উদ্বোধন পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

ধর্ম ও রাজনীতি তত্ত্ব:-

  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬
  • ৪৪ বার পঠিত

যারা ইসলামী রাজনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করেন তারা “ধর্ম ও রাজনীতি ” আলাদা এই তত্ত্ব দাঁড় করিয়ে যে সব অবান্তর যুক্তির আশ্রয় নিয়ে থাকে তার মধ্যে অন্যতম হল “ধর্ম মানুষের ব্যক্তিগত ব্যপার”। একে রাজনীতিতে টেনে আনা উচিত নয়। অপরটি হল পবিত্র ধর্মকে রাজনীতিতে টেনে আনলে ধর্মকে অপবিত্র করা হয় । তারা এও বলে যে একটি দেশে বিভিন্ন ধর্মের লোক আছে! ইসলাম রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হলে অমুসলিমদের কি হবে ? ধর্ম কি ব্যক্তিগত ব্যপার ? তারা ধর্মের সংজ্ঞায় বলেছে যে- ” আল্লাহর সাথে বান্দার ব্যক্তিগত সম্পর্কই ধর্মের মূলকথা।এটি ইসলামের জন্য মোটেই প্রযোজ্য নয়।

বিশ্বব্যাপী ইসলামী জাগরণ ঠেকানোর উদ্দেশ্যে এবং ইসলামী আন্দোলনের মূল ধারার কার্যসমূহের উপর আঘাত হানার ক্ষেত্র প্রস্তুত বা অজুহাত সৃষ্টির জন্যই ঐ সব ব্যক্তি ও সংস্থাকে ইসলামের চিহ্নিত দুশমনরাই মাঠে নামিয়েছে। অতএব এই ব্যাপারে মুসলিম জনসাধরণের বিশেষ করে নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিদের যারা ইসলামী আন্দোলনের কার্যক্রমকে আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছেন তাদের এই ব্যাপারে অসতর্ক থাকার কোন সুযোগ নেই।

কারণ যুগে যুগে ইসলামী আন্দলনের ধারা পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যাবে এক ধরনের কুচক্রী দল থাকবেই যারা এই আন্দোলনকে নস্যাৎ করার ব্যর্থ প্রয়াস চালায় যা আল্লাহর রাসুলের (সা) সময়েও বিদ্যমান ছিল।

সত্যি বলতে এ ধরনের সীমিত অর্থে ইসলাম কোন ধর্ম নয়। ইতোপূর্বে বলা হয়েছে ইসলাম হচ্ছে পরিপূর্ণ জীবন বিধান, যার পরিধি মানব জাতির সকল দিক ও বিভাগে বিস্তৃত।

প্রচলিত অর্থে নবী করীম (সা)-কে নিছক ধর্মগুরু ও আসমানী কিতাব কে নিছক ধর্মগ্রন্থ মনে করা হয়, যা আদৌ ঠিক নয় । নবী করীম (সা)-কে প্রেরণ ও আসমানী কিতাব নাযিলের সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন,-“নিশ্চয়ই আমি আমার রাসূলকে প্রেরণ করেছি স্পষ্ট প্রমাণসহ এবং তাদের সঙ্গে দিয়েছি কিতাব ও ন্যায় নীতি যাতে মানুষ সুবিচারের উপর প্রতিষ্ঠিত হয়। আমি লৌহ দিয়েছি যাতে রয়েছে প্রচন্ড শক্তি এবং তাতে মানুষের জন্য রয়েছে বহুবিধ কল্যাণ। এই জন্য যে আল্লাহ জানতে চান কে প্রত্যক্ষ না করেও আল্লাহ ও রাসুলকে সাহায্য করে ? আল্লাহ শক্তি মান পরাক্রমশালী।” [সুরা আল হাদিদ: ২৫]।

অতএব ধর্ম ব্যক্তিগত ব্যাপার এই অজুহাত তুলে মানব জীবনের সিংহ ভাগ ইসলামের বাইরে রাখার কোন সুযোগ নেই । ধর্ম ব্যক্তিগত ব্যপার এই অবান্তর কথাটি সম্পর্কে কুরআনের দুটি আয়াতের অপব্যবহার এবং অপপ্রয়োগ করতে দেখা যায় এক শ্রেণীর জ্ঞানপাপী বুদ্ধিজীবী ও রাজনীতিবিদদের পক্ষ থেকে। এর একটি আয়াত হল : “দ্বীনের ব্যপারে জোর জবরদস্তি নেই।” সত্যপথ ভ্রান্তপথ থেকে সুস্পষ্ট হয়েছে। সুতরাং যে তাগুতকে অস্বীকার করবে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে সে এমন এক মজবুত হাতল ধরবে যা কখনো ভাঙ্গবেনা, আল্লাহ সর্বশ্রোতা প্রজ্ঞাময় ”। [আল বাকারা: ২৫৬] এই আয়াতটির পুরো বিষয় বস্তুকে সামনে রাখলে তা থেকে ধর্ম নিরপেক্ষতা আবিষ্কারের কোন সুযোগ নেই।

এখানকার মূল বিষয়টি হল আল্লাহ তায়ালার সঠিক পরিচয় সামনে রেখে আল্লাহ তায়ালার প্রতি তার কিতাব ও রাসুলদের প্রতি এবং আল্লাহর কাছে চুড়ান্ত জবাবদিহিতার জন্য আখিরাতের জীবনের যে ধারণা দেয়া হয়েছে তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপনের বিষয়টি মানুষের স্বাধীন ইচ্ছার উপর ছেড়ে দেয়া হয়েছে । সুস্পষ্টভাবে জেনে বুঝে মানুষ ঈমান আনবে এটাই আল্লাহর বিধান। এই ঈমান বা বিশ্বাস আনার ক্ষেত্রে বল প্রয়োগের সুযোগ রাখা হয় নি।

অতএব,আমি ইসলাম কবুল করব কি করব না এক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা অবশ্যই আমার আছে।
কিন্তু ঈমান আনার পর; ইসলাম কবুল করার পর; মুসলমান হিসেবে পরিচয় দেয়ার পর আমি ইসলামী আইন মানব কি মানব না অথবা কোনোটা মানব কোনোটা মানবনা এই এখতিয়ার কারোর নেই।তাই রাজনীতি, অর্থনীতি সহ জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রের জন্য ইসলামের যে হুকুম রয়েছে তা ধর্ম ব্যক্তিগত ব্যাপার এই অজুহাতে পাশ কাটানোর কোন সুযোগ নেই। অপর যে আয়াতটি তারা ব্যবহার করে থাকে তা হল সূরায়ে ক্বাফিরুনের অংশবিশেষ। “তোমাদের ধর্ম তোমাদের জন্য, আমাদের ধর্ম আমাদের জন্য”। এটা ছিল মূলত; মুশরিকদের অযৌক্তিক একটি আপোষ প্রস্তাবকে প্রত্যাখান করার উদ্দেশ্যে নাযিলকৃত আয়াত। আল্লাহর নির্দেশ না মানাকে ধর্মনিরপেক্ষতার দলিল হিসেবে ব্যবহারের কোন সুযোগ নেই। এটা বলা হয়েছে অমুসলিমদের উদ্দেশ্যে। মুসলমানদের জন্য এটা কোন অবস্থায়ই প্রযোজ্য নয়।

ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করাকে যারা সত্যি অপছন্দ করেন, ক্ষতিকর বলে বিশ্বাস করেন , তাদের ভূমিকাও স্বচ্ছ সুস্পষ্ট হওয়া দরকার।
কুরআন ও রাসুল (সা) এর আদর্শের মধ্যেই ইসলামের বাস্তব ও প্রকৃত রূপ অবিকল বর্তমান রয়েছে।
কিন্তু বর্তমানে পরিকল্পিতভাবে মানবতা ও মনুষত্বের উপর ইবলিশি শক্তির বিজয় নিশ্চিত করার ধারাবাহিক প্রয়াস লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এটা অব্যাহতভাবে চলতে থাকলে শুধু ইসলাম আর মুসলমানরাই ক্ষতিগ্রস্থ হবে না, বিপর্যস্ত হবে গোটা মানব সমাজ।

পরিশেষে বলা যায়, রাজনৈতিক স্বার্থে ধর্মের ব্যবহার আর ধর্মের ভিত্তিতে রাজনীতি করা- অন্য কথায় ইসলামকে হীন রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার আর নিষ্ঠার সাথে আন্তরিকতার সাথে ইসলামের ভিত্তিতে রাজনীতি করা যে এক কথা নয় তা সুস্পষ্ট এবং সুনিশ্চিত । এই দুটোকে এক করে দেখা চরম অন্যায় এবং সকল ন্যায় নীতির পরিপন্থী। একটি বর্জনীয় অপরটি ঈমানের অপরিহার্য দাবী।

ইনকিলাব তথা ইসলামী বিপ্লব জিন্দাবাদ!!

মাওলানা শাহ্ মুহাঃ মাসউদুর রহমান
আইএবি মোমেনশাহী জেলা দক্ষিণ

Facebook Comments Box
এ জাতীয় আরও খবর
© All rights reserved © 2023 Dhaka Post 71
Theme Customized By Shakil IT Park