
বিশেষ প্রতিনিধিঃ
রুহুল আমীন খান (উজ্জ্বল)।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ইউএনওর পদক্ষেপে সন্তোষ মাধবপুরবাসীর
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) | ৮ জুলাই ২০২৬
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার আন্দিউড়া উম্মেতুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে রায়হান মিয়া (২৪) নামে এক যুবককে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০০ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত রায়হান মিয়া উপজেলার মীরনগর গ্রামের কাউসার মিয়ার ছেলে।
বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পেনাল কোড, ১৮৬০-এর ৫০৯ ধারায় এ দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।
স্থানীয় সূত্র ও উপজেলা প্রশাসন জানায়, বুধবার দুপুরে আন্দিউড়া উম্মেতুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক ছাত্রী বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার পথে অভিযুক্ত রায়হান মিয়া তাকে বিভিন্ন অশোভন অঙ্গভঙ্গি করে উত্ত্যক্ত করেন এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন ও প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর আদালত অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে তাৎক্ষণিকভাবে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান বলেন, “নারী ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। ইভটিজিং, শ্লীলতাহানি কিংবা নারীর প্রতি যেকোনো ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। এ ধরনের অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান ও আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।”
দণ্ডাদেশ কার্যকরের অংশ হিসেবে রায়হান মিয়াকে পুলিশি হেফাজতে হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। মাধবপুর উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপজেলা প্রশাসনের এমন তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনসমাগমস্থলে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হলে ইভটিজিং ও নারী হয়রানির ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে এবং শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে চলাফেরা করতে পারবে।
স্থানীয় সচেতন মহলও নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের এমন কঠোর অবস্থানকে সময়োপযোগী বলে মন্তব্য করেছেন। তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান ধারাবাহিকভাবে পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।