
আকতার হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার
টাকার জন্য এক গৃহবধূকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে । গুরুতর আহত অবস্থায় ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে । বর্তমানে তিনি হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ।
মারধরের শিকার গৃহবধুর নাম শিউলি রানী রায় (৩২)। তিনি কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার নিরোধ কুমার রায়ের মেয়ে ।
শিউলির স্বামী বিদ্যুৎ কুমার দত্ত (৪০) কুষ্টিয়ার আমলাপাড়ার বাসিন্দা । তিনি ঢাকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ।
সাত বছর আগে পারিবারিকভাবে তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তারা রাজধানীর মিরপুরের মাজার রোড এলাকায় বসবাস করেন । শুক্রবার ( ১৭ জুলাই ) হাসপাতালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন শিউলি ও তার পরিবারের সদস্যরা। এ সময় তারা ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
শিউলি রায় বলেন, ‘বিয়ের পর থেকেই ছোটখাটো বিষয় নিয়ে শাশুড়ি ও ননদরা আমাকে দোষারোপ করতেন। পরে আমার স্বামীর বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে পারিবারিক অশান্তি আরও বাড়ে। বিদেশে যাওয়ার জন্য তিনি আমার কাছে টাকা চাইতেন। আমি টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে প্রায়ই আমাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হতো।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘গত ১২ জুলাই রাতে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে আমার স্বামী রুটি তৈরির বেলন দিয়ে আমাকে মারধর করেন। এতে আমার মাথা, মুখমণ্ডল, হাত, পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত হয় । এ সময় ডান চোখেও আঘাত পাই।’
তিনি বলেন, ‘মারধরের ঘটনার পর আমাকে ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে বাবার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে মোটরসাইকেলে তুলে কুষ্টিয়ার উদ্দেশে রওনা হন। পথে সাভারের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অদূরে গলফ ক্লাব এলাকায় মোটরসাইকেল থেকে সড়কে পড়ে আমি অচেতন হয়ে যাই। পরে স্থানীয় লোকজন আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।’
হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের এক স্টাফ বলেন, ‘মোটরসাইকেল থেকে পড়ে শিউলি অচেতন হয়ে গেলে পেছন থেকে আসা একটি প্রাইভেটকারের চালক তাকে উদ্ধার করে রক্তাক্ত অবস্থায় আমাদের হাসপাতালে নিয়ে আসেন। এ সময় উপস্থিত লোকজন তাঁর স্বামীকেও হাসপাতালে নিয়ে আসেন । পরে তিনি হাসপাতাল থেকে চলে যান। শিউলির জ্ঞান ফেরার পর তার কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত জেনে আমরা বিষয়টি তার পরিবারের সদস্যদের জানাই।’
শিউলির পরিবারের দাবি, বিয়ের পর থেকেই বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনার জন্য অর্থের প্রয়োজনের কথা বলে শ্বশুরের কাছ থেকে টাকা এনে দিতে শিউলিকে চাপ দিতেন বিদ্যুৎ কুমার দত্ত । এ বিষয়কে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল।
তাদের অভিযোগ, শিউলির শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা বিষয়টি জানলেও কোন ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো তাঁকেই (শিউলি) দোষারোপ করতেন।
শিউলির ভাই শুভ রায় বলেন, ‘হত্যার উদ্দেশ্যেই আমার বোনকে মারধরের পর মোটরসাইকেলে করে নিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়। যাতে তার মৃত্যুর কারণ দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়া যায়।’
তিনি বলেন, এব্যাপারে আমরা আশুলিয়া থানায় অভিযোগ দিয়েছি। তবে ওই অভিযোগে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা না থাকায় আদালতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি। ।’
এ বিষয়ে শিউলির স্বামী বিদ্যুৎ দত্তের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, ‘আসামি গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছেন । তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’