
বিশেষ প্রতিনিধি: রুহুল আমীন খান (উজ্জ্বল)।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা থেকে আখাউড়া বাইপাস হয়ে মূল আখাউড়া পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়ে পানি জমে ছোট ছোট পুকুরে পরিণত হয়। ফলে প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী হাজারো মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগী, শ্রমিক ও বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির স্থায়ী সংস্কার না হওয়ায় প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বৃষ্টির সময় গর্তগুলো পানিতে ঢেকে যাওয়ায় কোথায় রাস্তা আর কোথায় গর্ত—তা বোঝা যায় না। এতে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে এবং যানবাহন বিকল হয়ে পড়ছে। অনেক সময় সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট, এমনকি যোগাযোগও সাময়িকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত সিএনজি অটোরিকশা, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, পিকআপ, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে চালকদের শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি যানবাহনেরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। সিএনজি ও অটোরিকশা চালকরা জানান, প্রতিদিন এমন ঝুঁকিপূর্ণ সড়কে চলাচল করতে গিয়ে তাদের কোমর ও মেরুদণ্ডে ব্যথা দেখা দিচ্ছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত মেরামত ব্যয় বহন করতে হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন গর্ভবতী নারী, অসুস্থ রোগী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং শিক্ষার্থীরা। জরুরি রোগী বহনকারী যানবাহনও অনেক সময় নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না। স্থানীয়দের মতে, এটি শুধু একটি সড়কের সমস্যা নয়; এটি জননিরাপত্তা ও জনদুর্ভোগের একটি বড় বিষয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মাঝেমধ্যে সড়কের কিছু অংশে সংস্কারের কাজ হলেও তা অত্যন্ত নিম্নমানের হওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। তারা বলেন, বারবার অস্থায়ী সংস্কারের পরিবর্তে টেকসই ও মানসম্মতভাবে পুরো সড়কটি পুনর্নির্মাণ করা জরুরি।
গত ৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে এ বিষয়ে চম্পকনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ সিরাজুল ইসলাম সিরাজ সড়কটি পরিদর্শন করেন। তিনি সড়কের বেহাল অবস্থা দেখে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আশ্বাস দেন। এছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্যও সড়কটি পরিদর্শন করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এলাকার ব্যবসায়ী, কৃষক, পরিবহন শ্রমিক, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষের একটাই দাবি—চান্দুরা থেকে আখাউড়া পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দ্রুত ও স্থায়ীভাবে সংস্কার করা হোক। তারা মনে করেন, এই সড়কটি এলাকার যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
এ বিষয়ে সর্বস্তরের জনগণ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), জেলা প্রশাসন, জেলা পরিষদ এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে তারা স্থানীয় সংসদ সদস্যের কার্যকর হস্তক্ষেপের মাধ্যমে দ্রুত সড়কটির টেকসই সংস্কার কাজ শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন।