
মাওলানা মোঃ আব্দুল মোতালেব,
স্টাফ রিপোটার।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের মাননীয় চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি বলেছেন, বর্তমান সরকারের প্রণীত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট দেশের সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সুরক্ষা এবং সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করার একটি যুগান্তকারী দলিল। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর এত জনকল্যাণমুখী, জীবনঘনিষ্ঠ ও মানুষকেন্দ্রিক বাজেট আর কখনও প্রণীত হয়নি।”
জাতীয় সংসদের এলডি হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু উপস্থিত ছিলেন।
চীফ হুইপ বলেন, এ বাজেট দেশের মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখার লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, বরং দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং টেকসই অগ্রযাত্রার একটি সুদূরপ্রসারী রূপরেখা।
বাজেটের উদ্দেশ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, “৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বাজেটকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মানুষের বাজেট, জনবান্ধব বাজেট এবং জনগণের কল্যাণ ও জীবনমান উন্নয়নের বাজেট হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।”
সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা এবং বিরোধী দলের সক্রিয় অংশগ্রহণের বিষয়টি উল্লেখ করে চীফ হুইপ বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম বিরোধী দল বাজেট প্রণয়ন ও আলোচনায় এত ব্যাপক ও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করেছে। তিনি বলেন, “বিরোধী দলকে ২৬ শতাংশ সময় বরাদ্দ দেওয়া হলেও আমরা আরও সময় বৃদ্ধি করেছি। ফলে তারা প্রায় ৩১ শতাংশ সময় নিয়ে বাজেটের ওপর বক্তব্য রাখার সুযোগ পেয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, বিরোধী দলীয় নেতার অনুরোধের পর প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে সাইকেলের ওপর প্রস্তাবিত কর প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন। এটি সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে জনগণের স্বার্থে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং গণতান্ত্রিক সৌহার্দ্যের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় সহনীয় রাখতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে নূরুল ইসলাম মণি বলেন, “প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের ৬৩টি আইটেমে কোনো কর বৃদ্ধি করা হয়নি। পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় প্রায় ৫০ লাখ ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে অসচ্ছল পরিবারের, বিশেষ করে মায়েদের আর্থিক সহায়তা ও স্বচ্ছলতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
জুলাই আন্দোলনের তরুণদের অবদানের কথা স্মরণ করে চীফ হুইপ বলেন, “এ দেশের তরুণ প্রজন্ম অত্যন্ত সাহসী, দেশপ্রেমিক ও দায়িত্বশীল। জুলাই আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, আমি তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং যারা আহত হয়েছেন, তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা ও দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।”
সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের কোনো বিকল্প নেই। জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংশোধন সম্ভব হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পরিশেষে চীফ হুইপ দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। একই সঙ্গে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী বাজেটের যথাযথ বাস্তবায়নে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।