
মাহাবুব হাসান খান
স্টাফ রিপোর্টার
দেশের গাজীপুর জেলার টঙ্গীর তুরাগ নদীর পারে শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) ফজরের নামাজের মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে রোববার (৪ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ মুসলিম জমায়েত ৫৭তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া এর দ্বিতীয় পর্ব ৯-১১ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। দিন আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়েই শেষ হবে এবারের ইজতেমার মূল কাজ। তবে এই ইজতেমায় দেশ-বিদেশ থেকে আগত হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা মহান আল্লাহ পাকের কাছে। তাদের অতীতের জীবন কর্মের পাপাচার থেকে ক্ষমা প্রার্থনার জন্য অধির আগ্রহে প্রহর গুনছে বিশ্ব ইজতেমার মূল তাপপূর্ণ আখেরি মোনাজাতের জন্য।
মুসল্লীরা বলেন, শুধু ইজতেমার মাঠে যারা এসেছেন তারাই নয়। যারা বিভিন্ন কারণে স্বশরীরে উপস্থিত হতে পারছেন না, বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বই ধর্মপ্রাণ মুসলমানে টেলিভিশনে দেখে আখেরি মোনাজাতের অংশগ্রহণ করার জন্য অপেক্ষার প্রহর গুনছে।
সোনালীনিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সুদূর পঞ্চগড় থেকে আসা মুসল্লী মোহাম্মদ হান্নান বলেন, মুসলিম বিশ্বের সর্ববৃহৎ জমায়েত হজ্জ এর পরেই দ্বিতীয় বৃহৎ জমায়েত বাংলাদেশের ইজতেমা। এই ইজতেমায় অংশগ্রহণ করার জন্য সারা বিশ্বের সকল দেশ থেকেই মুসলমানেরা আসেন। তিনি বলেন, লাখ লাখ ধর্ম প্রাণ মুসল্লীদের এখানে আসার একটাই উদ্দেশ্য আখেরি মোনাজাতের অংশ করে মহান আল্লাহ পাকের কাছে নিজের পাপাচার কর্মের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা।
পাকিস্তান থেকে এসেছেন আসিফ আলী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের এই ইজতেমার মাঠে উপস্থিত হওয়ার জন্য সারা বছরই অপেক্ষা করেন। এখানে বিপুল সংখ্যক লোকজনের সঙ্গে মোনাজাতে অংশ করতে সর্বোচ্চ ত্যাগ শিকার করেন।
এদিকে বাংলাদেশ সরকার দেশ বিদেশ থেকে আগত ইজতেমার মুসল্লীদের নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা করেছেন।
দুই পর্বের ইজতেমায় দেশ-বিদেশে থেকে আসা হাজার হাজার যেসব মুসল্লী ইজতে মাঠে অবস্থান করবেন এবং ইজতেমার বয়ান শুনতে তুরাগ পারের পাশের এলাকায়ও যেসব ধর্মপ্রাণ লোকজন অবস্থান করবেন। তাদেরকে নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা দিতে এরই মধ্যে প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করে সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুলিশ ও র্যাবের সদস্যরা।
গাজীপুর জেলা পুলিশের পাশাপাশি বাংলাদেশ পুলিশের সদর দপ্তরের পক্ষ থেকেও ইজতেমার নিরাপত্তা বিধানে নেওয়া হয়েছে সমন্বিত ব্যবস্থা।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার মাহবুব আলম জানিয়েছেন, দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। এখন কোনও সমস্যা নেই। দুই পর্বেই ইজতেমায় আইনশৃংখলা পরিস্থতি সুন্দর ও স্বাভাবিক রাখতে ইতিমধ্যে ছয় হাজার পুলিশ দায়িত্ব পালনের কাজ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, পুলিশ ছাড়াও আনসার র্যাবসহ অন্যান্য বাহিনী প্রতি বছরের মতো নিয়োজিত থাকবে। এছাড়াও পুলিশ সদর দপ্তরের পক্ষ থেকেও মনিটরিং এর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
দিকে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি ইনামুল হক সাগর সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মুসল্লীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, কোন অপরিচিত বা সন্দেহভাজন ব্যক্তি এবং কোনও পোটলা, ব্যাগ বা সন্দেহজনক বস্তুর উপস্থিতি দেখামাত্র তাৎক্ষণিকভাবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অবহিত করার জন্য। এছাড়াও ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দেওয়া দিক নির্দেশনা অনুযায়ী কিছু নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
অপর দিকে বাংলাদেশ র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এর পক্ষ থেকেও ইজতেমার মাঠ ও এর আশেপাশের এলাকায় অবস্থান নেওয়া আগত ধর্মপ্রাণ মুসল্লীদের নিরবিচ্ছিন্ন নিরাপত্তা প্রদানের জন্য নেওয়া হয়েছে ৫ স্তরের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
র্যাব-১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোস্তাক আহমেদ বলেন, দুই পর্বের আখেরী মোনাজাত শেষে মুসল্লিরা নিরাপদে ইজতেমার ময়দান থেকে বাড়িতে যেতে পারবেন এবং ইজতেমায় আগত সকল নিরাপত্তা নিয়ে র্যাব প্রস্তুত রয়েছে। তিনি জানান,নিরাপত্তা একটি সমন্বিত উদ্যোগ। এখানে যারা আছি প্রত্যেককেই এই উদ্যোগে অংশগ্রহণ করার প্রয়োজন রয়েছে। র্যাব শুধু নিরাপত্তাই নয়,ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবাও দেবে। পুরো ইজতেমা ময়দানে প্রবেশের ১৮টি গেটে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও বিদেশি মেহমানদের কামড়ার গেটেও রয়েছে সিসি ক্যামেরা। রাত-দিন সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের জন্য রয়েছে একটি মূল নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ও দুটি উপ-নিয়ন্ত্রণ কক্ষ।
র্যাবের এই কর্মকর্তা আরও বলেন,ইতিমধ্যে ইজতেমার মাঠে ও এর বাহিরের আশেপাশের এলাকা গুলোতেও যে কোন ধরনের নাশকতা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবেলা করার জন্য ৯টি অবজারভেশন পোস্ট,৯টি ওয়াচ টাওয়ার সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে। এছাড়াও পুরো ময়দান পর্যবেক্ষণের জন্য আকাশপথেও টহলে থাকছে র্যাবের হেলিকপ্টার। তিনি বলেন,এর পাশাপাশি আরও থাকবে র্যাবের বোম্ব স্কোয়াড, ডগ স্কোয়াড ও স্ট্রাইকিং ফোর্স। তুরাগ নদীতে টহলের জন্য থাকছে র্যাবের স্পিডবোট।
বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে জানা গেছে, গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে বিশ্ব ইজতেমায় আগত দেশি-বিদেশি ধর্ম প্রাণ মুসল্লীদের সুবিধার স্বার্থে কোন মুসল্লী অসুস্থ হলে ইজতেমার জন্য নির্ধারিত অস্থায়ী হাসপাতাল ও নিকটবর্তী হাসপাতাল,স্বাস্থ্যসেবা কর্মী বা প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সহায়তা নিতে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আহ্বান জানানো হয়েছে।
এছাড়া জরুরি প্রয়োজনে ইজতেমাস্থলের নিকটস্থ পুলিশ কন্ট্রোল রুমে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পুলিশের সহয়তা মুসল্লীদের সহজ ভাবে পেতে পুলিশের কিছু নম্বর দেওয়া হয়েছে। এই নম্বর গুলো হলো :ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)উপ-পুলিশ কমিশনার, উত্তরা- ০১৩২০-০৪১৭৪০, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এয়ারপোর্ট)- ০১৩২০-০৪১৭৪১, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণখান)- ০১৩২০-০৪১৭৪২, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তরা)- ০১৩২০-০৪১৭৪৩, সহকারী পুলিশ কমিশনার (উত্তরা)- ০১৩২০-০৪১৭৫৪, সহকারী পুলিশ কমিশনার (এয়ারপোর্ট)- ০১৩২০-০৪১৭৫৭, সহকারী পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-উত্তরা পশ্চিম জোন)- ০১৩২০-০৪৩৯৫৫, অফিসার ইনচার্জ, উত্তরা পূর্ব থানা- ০১৩২০-০৪১৭৮৯, অফিসার ইনচার্জ, উত্তরা, পশ্চিম থানা০১৩২০-০৪১৮১৭, অফিসার ইনচার্জ- তুরাগ থানা- ০১৩২০-০৪১৮৪৫ এবং ট্রাফিক কন্ট্রোল রুম- ০১৭১১-০০০৯৯০।
উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ দক্ষিণ)- ০১৩২০-০৭০৩৩০, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ দক্ষিণ)- ০১৩২০-০৭০৬৪১, সহকারী পুলিশ কমিশনার (টঙ্গী জোন)- ০১৩২০-০৭০৬৫৮, অফিসার ইনচার্জ, টঙ্গী পশ্চিম থানা- ০১৩২০-০৭০৭৫১, ডিউটি অফিসার, টঙ্গী পশ্চিম থানা- ০১৩২০-০৭০৭৫৯, অফিসার ইনচার্জ, টঙ্গী পূর্ব থানা- ০১৩২০-০৭০৭২২, ডিউটি অফিসার্র, টঙ্গী পূর্ব থানা- ০১৩২০-০৭০৭৩০, ডিউটি অফিসার্র, টঙ্গী পূর্ব থানা- ০১৩২০-০৭০৭৩০, ইজতেমা কন্ট্রোল রুম (হটলাইন)- ০১৩২০-০৭২৯৯৯, কন্ট্রোল রুম, জিএমপি- ০১৩২০-০৭২৯৯৮ এবং ট্রাফিক কন্ট্রোল রুম-০১৩২০-০৭১২৯৮।
পুলিশের পাশাপাশি র্যাবের মাধ্যমেও মুসল্লীরা সহয়তা নিতে পারবেন। সহয়তা পাওয়ার নম্বর গুলো হলো : র্যাব-১ কন্ট্রোল রুম- ০১৭৭৭৭১০১৯৯, র্যাব হেডকোয়ার্টার্স কন্ট্রোল রুম- ০১৭৭৭৭২০০২৯ এবং প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ যোগাযোগ করুন।