
নিজস্ব প্রতিনিধি।
বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের হাছনা পাড়ার (নাইচ্ছার ঝিরি) কবির আহমদ ও নুরুন্নেছা বেগমের বসত বাড়ির মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে।
একটি মামলায় দুই পরিবারের কেউ জেলে কেউ পলাতক রয়েছে, ফাঁকা পেয়ে দুই পরিবারের বাড়ি লুট করা হয়েছে মর্মে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
দুই গেরস্তের বসতবাড়ি, গোলার ধান, জমির ফসল, বাগানের গাছ, নগদ টাকা ও ৩টি পুকুরের মাছ লুট করে নিয়ে যাওয়ার হয়েছে এমন অভিযোগ এনে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক কবির আহমদের পক্ষে তার মেয়ে রোকেয়া বেগম বাদী হয়ে লামা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৮ জনকে বিবাদী করে মামলা দায়ের করেছেন। লামা কোর্টের সি.আর. মামলা নং- ১৮৯/২০২৪। উপজেলার ৫নং সরই ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড হাছনা পাড়ায় (নাইচ্ছার ঝিরি) এই ঘটনা ঘটে। বিবাদীরা হলেন, মোঃ আব্দুল ওয়াহেদ, মোঃ মোবিন, মিনহাজ উদ্দিন, মছুদা বেগম, মিঠু আকদার, ফাতেমা বেগম, জান্নাত আরা বেগম ও হোসনে আরা।
মামলার সূত্রে ও বাদী রোকেয়া বেগম জানান, ১৯৮০-৮১ইং সনের ৬২৪৫ নং বন্দোবস্তি মূলে তার বাবা কবির আহমদ ৩০১নং সরই মৌজার নাইচ্ছার ঝিরি এলাকায় ৩ একর ৩য় শ্রেণীর জমি এবং ১৯৮৬-৮৭ইং সনের ১৫২৬নং বন্দোবস্তি মোকদ্দমা মূলে ৫ একর ১ম ও ২য় শ্রেণীর জমির মালিক স্বত্ত্ববান ও ভোগ দখলে আছেন। উক্ত জায়গায় বাদীনির পিতা রোপিত ও সৃজিত আকাশমনি, মেহগণি, গর্জন ও ম্যালেরিয়া গাছসহ ৩ একর জায়গার রোপিত গাছ ১১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকায় জনৈক খুলু মিয়া সওদাগরের কাছে বিক্রি করেন। গত ১৪ মে ২০২৪ইং মঙ্গল বার নগদে ৬ লক্ষ টাকা প্রদান করেন এবং বাকী টাকা গাছ কাটা শেষে দেয়া হবে বলে চুক্তিবদ্ধ হয়। কিন্তু দূর্ভাগ্য জনক ভাবে বিগত ১৬ মে ২০২৪ইং বেলা ১১টায় গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে পার্শ্ববর্তী আকবর আহমদ পক্ষের সাথে এক অনাকাঙ্কিত ঘটনা সংগঠিত হয়। উক্ত ঘটনায় আকবর আহমদের ভাই মোঃ ওসমান গনি নামে এক জন মারা যায়। সে ঘটনাকে কেন্দ্র করে ৬নং বিবাদী ফাতেমা বেগমের স্বামী আকবর আহমদ বাদী হয়ে লামা থানার মামলা নং- ১০(০৫) ২০২৪ইং দায়ের করে। মামলায় বাদী রোকেয়া বেগমের পুরো পরিবারকে আসামী করায় বাদীনির বাড়ি একেবারে পুরুষ শূন্য হয়ে পড়ে।
সেই সুযোগে বিবাদীগণ আক্রোশ ও প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে বিগত ১৭ মে ২০২৪ইং শুক্র বার সকাল ৯টায় ১-৮নং বিবাদীগণ সহ আরো অজ্ঞাতনামা ০৪/০৫ জন সন্ত্রাসী নিয়ে দেশীয় অস্ত্র সস্ত্র সহ দা, কিরিচ, লোহার রড, গাছের বাটাম নিয়ে এসে ১নং বিবাদীর নির্দেশে ২-৮নং বিবাদীগণ বাদীনির পিতার বাড়ি বাহিরে থাকা গোলা ভর্তি প্লাস্টিকের বস্তায় থাকা ৫০০ আড়ি ধান চুরি করে ট্রলি গাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে যায়। একই লোক জন দরজা জানালা ভাংচুর করে জোর পূর্বক বাদীনির মাতামহের বাড়িতে অনাধিকার প্রবেশ করে বাড়িতে থাকা ২০০ কেজি চাউল চুরি করে নিয়ে যায়। বাড়ির ভিতরে থাকা বাদীনি শোর চিৎকার করতে থাকলে বিবাদীগণ এলোপাতাড়ি মারধর করে বাদীনিকে ৩ মাসের শিশুসহ কক্ষে আটক করে রেখে বাদীনির মাতামহের কক্ষে থাকা আলমারীতে রক্ষিত গাছ বিক্রয়ের নগদ ৬ লক্ষ টাকা ছিনিয়ে নেয়। এছাড়া ব্যবহারের ২ ভরি স্বর্ণালংকার, বাড়িতে থাকা ৫০ হাজার টাকার মূল্যের ক্রোকারিজ সামগ্রী ছিনিয়ে নেয় এবং বাড়ির ভিতরে থাকা ব্যবহারের হাড়ি, পাতিল, আসবাবপত্র, দরজা, জানালা ভাংচুর করে আনুমানিক ১ লক্ষ টাকার ক্ষতিসাধন করে।
বিবাদীগণ বাড়ির পার্শ্ববর্তী টিলা ভূমিতে ৩০ শতক জায়গা বাদীনির মাতামহ কর্তৃক সৃজিত ১টি পানের বরজে বিক্রয়ের উপযোগী আনুমানিক ৩ লক্ষ টাকার পান ছিড়িয়া নিয়ে যায় এবং বাগানে থাকা স্তুপকৃত আনুমানিক ৫ লক্ষ টাকার গাছ লুট করে নিয়ে যায়। বিষয়টি মুঠো ফোনে জানালে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গ্রাম পুলিশ বিবাদীগণের কবল থেকে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে যায়। বিবাদীগণ ইহাতেও ক্ষান্ত না হয়ে পরবর্তীতে গত ৫ জুন ২৪ইং বিকাল অনুমান ৪টায় সকল বিবাদীগণ বাদীনির বসতবাড়িতে এসে অশ্লীল ভাষায় গালি-গালাজ করে বলে যে, “গত ১৭/০৫/২০২৪ইং তারিখের ঘটনার বিষয়ে কোন প্রকার মামলা মোকদ্দমা করার সাহস করলে পূর্বের ন্যায় আরও বেশি মাত্রাই অত্যাচার, নির্যাতন সহ ক্ষতি সাধন করবে। বাড়ি-ঘরে শান্তিতে বসবাস করিতে দিবে না” মর্মে প্রাণনাশের হুমকি প্রদর্শন করে।
মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবি মোঃ রুবেল হাসান বলেন, ‘মামলায় ১৪৩, ৪৪৮, ৪২৭, ৩২৩, ৩৭৯, ৩৮০, ৫০৬(২) দঃবিঃ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়েছে। স্বাক্ষী প্রমাণে সত্যতা পেলে বিবাদীদের প্রচলিত আইনে সাজা হবে।’ এদিকে বিবাদী পক্ষের লোক জন জানান, তাদের ভাই ওসমান গনি হত্যা মামলা হতে রেহাই পেতে তাদের মামলার আসামীরা এই ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নিয়েছে। আনিত অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এই ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি।