
——————————————
মু আ হা ইবনে জালাল
নড়িয়া উপজেলা প্রতিনিধি
শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলাধীন কেদার পুর ইউনিয়নের পাঁচ গাঁও গ্রামের মামুন মাদবরের ছেলে রাব্বি মাদবর (২৪) পার্শ্ববর্তী বাগানের পরিত্যাক্ত ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।
স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও আত্মীয় স্বজন সূত্রে জানা যায়,প্রায় তিন বছর পূর্বে একই গ্রামের মিয়া চান এর মেয়ে মিম আক্তার (১৮) এর সথে প্রেমের সম্পর্কের সূত্রে রাব্বি মাদবর বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হয়।বিয়ের কিছু দিন ভালোই কাটতে থাকে। এরপর শুরু হয় দাম্পত্য কলহ। এরই জের ধরে গত মাস ছয়েক আগে মিম আক্তার রাগ করে বাবার বাড়ী চলে যায় এবং রাব্বি কে তালাক দিয়ে দেয়। এতে সে ভীষণ মুষড়ে পড়ে। শোনা যায়, তালাকের পরও তাদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল।
গতকাল ০৩ জুন ২০২৪ খ্রি সোমবার মিম আক্তারের আবার নতুন করে বিয়ের সংবাদে রাব্বি মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ে।রাত্রি বেলা সবার অলক্ষ্যে পার্শ্ববর্তী বাগানের পরিত্যাক্ত ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।
রাব্বি র বাবা মামুন মাদবর জানায়,সকাল বেলা ছেলের কক্ষে তাকে না পেয়ে খুঁজতে বের হই।পরে পার্শ্ববর্তী বাগানের ঘরে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পাই। পুলিশ কে খবর দেওয়া হলে তারা মরদেহ উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়ে দেয়।
এক প্রশ্নের জবাবে রাব্বি র মা মমতাজ বেগম বলেন,আমার ছেলে তার স্ত্রী মিম কে খুবই ভালোবাসতো।তবে তাদের মধ্যে প্রায়ই সাংসারিক ঝগড়াঝাটি লেগে থাকতো।গত মাস ছয়েক আগে মিম আক্তার রাগ করে বাবার বাড়ী চলে যায় এবং স্বামী কে তালাক দিলে আমার ছেলে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ে নিজেকে দুনিয়া থেকেই সরিয়ে দেয়।মিমের জন্যই আমার ছেলে আত্মহত্যা করেছে। আমরা এর বিচার চাই। এ বিষয়ে মিম জানায়, বিয়ের পর থেকেই রাব্বি আমাকে প্রচুর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতো। তাই আমি তাকে তালাক দেই। বিয়ের পরে তার সাথে আমার কোনো যোগাযোগ ছিল না।
নড়িয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি জনাব মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,আমরা খবর পাওয়ার পরপরই মরদেহ উদ্ধার করি এবং ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে দেই। এ নিয়ে একটা অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।