
===================================
চন্দন মিত্র দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ
======================
দিনাজপুর কাহারোল উপজেলায় এক ব্রাহ্মণ পরিবারের বিরুদ্ধে টাকা ও গহনা চুরির মিথ্যে অপবাদ দিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে পুত্রবধূ জবা চক্রবর্তীকে বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে দিনাজপুর কাহারোল উপজেলার কেউটপাড়া এলাকায়।
গত ৯ জুন দিবাগত রাত ৩টায় দিনাজপুর চেক আপ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জবা চক্রবর্তীর মৃত্যু হয় ।
নিহত জবা চক্রবর্তী ওরফে ঝুমি(৩২)লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্দা উপজেলার পূর্ব বেসগ্রামের জগদ্বীশ চক্রবর্তীর মেয়ে।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা জগদ্বীশ চক্রবর্তী বাদী হয়ে নিহত জবা চক্রবর্তীর স্বামী শংকর বন্দোপাধ্যায়,শ্বশুর কালিয়া বন্দোপাধ্যায়,শ্বাশুরী গৌরী বন্দোপাধ্যায় ও দেবর কৃষ্ণ বন্দোপাধ্যায়কে আসামী করে কাহারোল থানায় একটি এজাহার দাখিল করেন।
কাহারোল থানায় দাখিলকৃত এজাহার সুত্রে জানা যায় দীর্ঘ ১৫বছর পূর্বে নিহত জবা চক্রবর্তীর সাথে দিনাজপুর কাহারোল উপজেলার কেউটেপাড়া এলাকার কালিয়া বন্দোপাধ্যায়ের ছেলে শংকর বন্দোপাধ্যায়ের সাথে হিন্দু শাস্ত্রমতে বিবাহ হয় ।তাদের শ্রাবন বন্দোপাধ্যায় নামে ১০বছরের একটি পুত্র সন্তান এবং শ্রাবন্তী বন্দোপাধ্যায় নামে ৬ বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।বিয়ের পর থেকেই নিহতের স্বামী শংকর বন্দোপাধ্যায় কারনে অকারণে স্ত্রী জবার উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল ।একইভাবে গত ৬ জুন সকাল ৯টায় নিহত জবা চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ৫০হাজার টাকা ও ২ভরি স্বরনালংকার চুরির অভিযোগ এনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায় এবং এক পর্যায় উপরোক্ত আসামীরা জোরপূর্বক জবার মুখে বিষ ঢেলে দেয় এবং সেটা দেখতে পায় তার ছোট মেয়ে শ্রাবন্তী বন্দোপাধ্যায় । বিষের যন্ত্রণায় যখন সে ছটফট করতে থাকে তখন গুরুতর অবস্থায় জবাকে প্রথমে কাহারোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে।সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চেকঅআপ হাসপাতালে নিয়ে আসলে গত ৯মে শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টায় জবা চক্রবর্তীর মৃত্যু হয় ।
আর এ ঘটনার পর পরেই জবার স্বামীসহ শ্বশুর বাড়ির লোকজন হাসপাতাল থেকে সটকে পরে।
নিহত জবার পিতা জগদ্বীশ চক্রবর্তী প্রতিনিধিকে বলেন বিয়ের পর থেকেই তার স্বামী শংকরসহ তার পরিবারের লোকজন আমার মেয়েকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল।আমার মেয়ে মুখ বুঝে সব সহ্য করেছে। কোনদিন প্রতিবাদ করেনি।ইতিপূর্বেও তারা আমাকে এবং আমার মেয়েকে মিথ্যে চুরির অপবাদ দিয়ে মামলাও করেছিল শুধু মেয়ের ভবিষ্যত আর ব্রাহ্মণ সমাজ ভাংবোনা বলেই আবার স্থানীয় ব্যক্তি বর্গের সহোযোগিতায় আপষ মীমাংসা করে মেয়েকে তাদের ঘড়ে পাঠিয়েছিলাম।কিন্তু ভাবেনি আমার মেয়ে আর জীবিত আমার বাসায় ফিরে আসবে না। আমার নাতি নাতনিকে পর্যন্ত তার মায়ের কাছে যেতে দেয়নি এবং শেষ দেখাটাও দেখতে দিলনা।কারন নাতনি শ্রাবন্তী তার মাকে জোর পূর্বক বিষ খাওয়াতে দেখেছে এবং সেই আমাকে কল করে বলেছে ।
সে আত্মনাদ করে বলেন আমার মেয়েকে যারা নির্দয় ভবে মেরেছে আমি তাদের শাস্তি চাই।নিহত জবার বোন লাবনী চক্রবর্তী বলেন আমার বোনকে দুদিন ধরে খেতে পর্যন্ত দেয়নি সে আমাকে ফোন করে বলেছিল।তারা মানুষ না ,ব্রাম্মন নামের কলঙ্ক ।তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
কাহারোল থানার অফিসার ইনচার্জের সাথে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি প্রতিনিধিকে বলেন এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে ।ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তবে নিহতের পরিবার থেকে বলা হচ্ছ এটা আত্মহত্যা নয়,এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড সেই সাথে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান ।