
মোঃ শহিদুল ইসলাম
নিজস্ব প্রতিবেদক খুলনাঃ-
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী মাসুমা বেত্রাঘাতে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। শিক্ষক মহাসিনের শাস্তি দাবি করে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) উপজেলা নিবার্হী অফিসার ও থানা অফিসার ইনচার্জ বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন ভুক্তভোগী ছাত্রীর অভিভাবক।
শিক্ষক মোঃ শফিকুল ইসলাম মহাসিনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। অদৃশ্য কারণে কখনো সাধারণ ক্ষমা অথবা সাময়িক বরখাস্ত পর্যন্ত সীমাবদ্ধ এর ফলে বারবার অপরাধ করেও রয়েছে বহাল তবিয়তে । এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্থায়ী ভাবে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলেছেন অভিভাবকরা।
অভিযোগ ও অভিভাবকদের সূত্রে জানা যায়, খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী অসুস্থার কারনে ক্লাস শুরু হওয়ার দু’ মিনিট পরে স্কুলের চার তলা ভবনে শ্রেণী
কক্ষের সামনে পৌঁছালে শ্রেনী শিক্ষক মোঃ জসিম তাকে ক্লাস রুমে ঢুকতে না দিয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষকের অনুমতি নিয়ে আসতে বলেন এ সময় ছাত্রী তার অসুস্থতার কথা শ্রেনী শিক্ষকে বলেন। এরপরেও ঐ ছাত্রীকে অনুমতি নিয়ে আসতে বলা হয়। চার তলা থেকে নিচে এসে শ্রেনী কক্ষে প্রবেশের অনুমতি চাইলে সহকারী প্রধান শিক্ষক মহাসিন অনুমতি না দিয়ে শ্রেনী কক্ষের সামনে দাড়িয়ে থাকতে বলেন।
তিনি কিছু সময় পর বেত নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়ে ঐ ছাত্রীকে বেত্রাঘাত করেন। এরফলে সে অসুস্থ হয়ে শ্রেনী কক্ষে অচেতন হয়ে পড়ে ছাত্রীটিকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে ছাত্রীর মা এসে শিক্ষকের এহেন ও কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে উপজেলা নিবার্হী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযুক্ত শিক্ষক শফিকুল ইসলাম মহাসিন বলেন, অসুস্থতার কথা আমাকে বলেনি। আমি তার হাতে আস্তে দুটি বেত্রাঘাত করে ক্লাস রুমে গিয়ে বসতে বলি।
অভিভাবকরা জানান, সহকারী প্রধান শিক্ষক মহাসিন একেরপর এক অঘটন ঘটিয়ে যাচ্ছে কখনো রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় কথনো অর্থনৈতিক প্রভাবে আবার কখনও কখনও প্রধান শিক্ষকের আস্থাভাজন হওয়ায় প্রধান শিক্ষক প্রভাব বিস্তার করে শিক্ষক মহাসিনের সকল অপরাধ ধামাচাপা দিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষক মহাসিনের বিরুদ্ধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন অভিভাবক ও স্থানীয় সমাজ সচেতন ব্যক্তিবর্গ।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ ফরহাদ হোসেন জানান, সিসিটিভির ফুটেজ দেখে এ বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছি। তাৎক্ষণিক শিক্ষককে ডেকে সতর্ক করা হয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমা আক্তারের কাছে শিক্ষক কতৃক ছাত্রী প্রহর ও অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আকাশ থেকে পড়েছেন এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেনা বলে জানান। একজন শিক্ষা কর্মকর্তার এমন মন্তব্য শুনে সবাই হতবাক।
সরকারি আইন উপেক্ষা করে স্কুল চলাকালীন সময়ে ছাত্রীকে বেত্রাঘাতে আহত করার বিষয়ে জানতে চাইলে, উপজেলা নিবার্হী অফিসার সুজন দাশগুপ্ত বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্ৰহন করা হবে ।