
সংবাদদাতা: মোঃ নুরুল ইসলাম, নিকলী—কিশোরগঞ্জ
কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা নিকলীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)সহ সরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ খালি। পাশাপাশি উপজেলার ত্রিশোধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানের পদও দীর্ঘ দিন যাবৎ খালি। ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রম, আইনশৃঙ্খলা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে প্রাপ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন উপজেলাবাসী।
জানা যায়, গত ২৮ জুলাই নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বদলিজনিত কারণে দায়িত্ব ছাড়েন। এরপর থেকে ওসি (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
অন্যদিকে, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ গত ১৭ মে বদলি হন। তার বদলির পর থেকে পদটি খালি রয়েছে। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহানা মজুমদার মুক্তি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের দায়িত্বও পালন করে আসছিলেন। তবে গত ২৫ আগস্ট মাতৃত্বজনিত ছুটি ও বদলির কারণে ইউএনওর পদটিও খালি হয়ে যায়। ফলে একই সময়ে উপজেলার প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পদে স্থায়ী কর্মকর্তা না থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।
শুধু প্রশাসন নয়, নিকলীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও দীর্ঘদিন ধরে প্রধানের পদ শূন্য রয়েছে। নিকলী সরকারি মুক্তিযোদ্ধা আদর্শ কলেজের অধ্যক্ষের পদ প্রায় এক মাস ধরে শূন্য। নিকলী জিসিপি মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ প্রায় এক বছর, জারইতলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধানের পদ প্রায় এক বছর, এবি নূরজাহান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধানের পদ প্রায় ৯ বছর, মজলিশপুর শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধানের পদ প্রায় এক বছর এবং ছাতিরচর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধানের পদও প্রায় এক বছর ধরে শূন্য রয়েছে। এছাড়া মোহরকোণা আশরাফিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষের পদ প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে শূন্য রয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রাথমিক শিক্ষাতেও রয়েছে বড় ধরনের সংকট। উপজেলার ৬০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিপরীতে বর্তমানে প্রধান শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ২৫ জন। এর মধ্যে ৬ জন চলতি দায়িত্বে রয়েছেন। ফলে ২৯টি বিদ্যালয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক না থাকায় এসব বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে নানা সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
স্বাস্থ্য খাতের চিত্রও উদ্বেগজনক। নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ মোট ২৯ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও কাগজে-কলমে রয়েছেন মাত্র ১১ জন। তাদের মধ্যে আবার তিনজন ডেপুটেশনে কর্মরত। ফলে কর্মরত চিকিৎসকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মাত্র সাতজনে। প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসক সংখ্যা অত্যন্ত কম হওয়ায় উপজেলার বিপুলসংখ্যক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাওর অধ্যুষিত নিকলীর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলায় একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকায় সরকারি সেবা গ্রহণে জনগণকে নানা ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো দ্রুত পূরণ না হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ভূমি-সংক্রান্ত সেবা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা এবং স্বাস্থ্যসেবায় সংকট আরও প্রকট হতে পারে।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী-বাজিতপুর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবালের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, “দাপ্তরিক গুরুত্বপূর্ণ পদ খালি থাকলে জনভোগান্তি হওয়া স্বাভাবিক। দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করছি।”
স্থানীয় বাসিন্দারা নিকলীর শূন্য পদগুলোতে দ্রুত স্থায়ী কর্মকর্তা ও প্রধান নিয়োগের মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল এবং জনগণের সরকারি সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।