
মোঃ মিঠু হাওলাদার
মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
আগামী ২৯শে মে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে অনুষ্ঠিত হবে ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। ভোটের মাঠে রয়েছে হেভিওয়েট ৩ চেয়ারম্যান প্রার্থী। উঠান বৈঠক, পথসভাসহ বিভিন্ন কৌশলে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকগণ। চলছে ত্রিমুখী লড়াই। ভোটারদের মাঝে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। আলোচনা সমালোচনা নিয়ে মাঠে রয়েছেন টানা দু’বারে বিপুল ভোটে নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক খান মো. আবু বক্কর সিদ্দিকী। তিনি দুইবারই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে রেকর্ড পরিমাণ ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এবারো জনগণের রায় নিয়ে হেটট্রিক জয়ের স্বপ্ন তার। কিন্তু মাঠে তীব্র লড়াই করছেন তরুণ ছাত্রনেতা ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. জহিরুল ইসলাম জুয়েল। তিনিও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি।
বিজ্ঞাপন
জয়ের আশায় উপজেলার এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত ছুটে চলছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। এই নির্বাচনে পরিবর্তন ঘটিয়ে নতুন কিছু গড়ার প্রত্যাশা তার।
অন্যদিকে দলের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নীরব প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন উপজেলা বিএনপি’র সাবেক আহ্বায়ক ও সাবেক সভাপতি আলহাজ মো. আশ্রাফ আলী হাওলাদার। জানাজা, জিয়াফত, বিবাহসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকছেন তিনি। হাটবাজার, রাস্তাঘাটে ছুটে বেড়াচ্ছেন। পথসভায় জনগণের সঙ্গে কুশল বিনময় ও ভোট প্রার্থনা করেছেন। সুষ্ঠু ও নিরেপক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জয়ের সম্ভাবনা দেখছেন তিনি। চেয়ারম্যান পদে এডভোকেট মো. আবদুস ছালাম খান মনোনয়নপত্র দাখিল করলেও আলোচনা বা সমালোনায় নেই তিনি। সাধারণ ভোটারদের মাঝে বিরাজ করছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
ভোটাররা জানান, আবু বকর একজন ভদ্রলোক। তিনি কিছু দিতে পারুক আর না পারুক অন্তত আমাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করেন। সুখে-দুঃখে ছুটে আসেন। আমাদের সমস্যাগুলো তার কাছে নিজে গিয়ে বলতে পারি। কোনো দালালের দরকার হয় না। তাকে স্যারও বলতে হয় না। তাকেই এবার ভোট দিবো। আবার কেউ বলেন, দুইবার তো দেখলাম। এবার পরিবর্তন চাই আমারা। জুয়েল তরুণ এবং মসজিদসহ বিভিন্ন বিভিন্ন জায়গায় সাহায্য সহযোগিতা করেন। সুযোগ হলে তাকে ভোট দেবো এবং অন্যদের তাকে ভোট দিতে উৎসাহিত করবো।
অন্যদিকে শোনা যাচ্ছে নীরব সুর। উপজেলার বিএনপি’র ভোটগুলো যদি ধরে রাখতে পারে তাহলে আশ্রাফ হাওলাদারের নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তারা বলেন, আওয়ামী লীগের ভোট আবু বকর ও জুয়েলের মধ্যে ভাগ হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে আশ্রাফ এগিয়ে থাকতে পারে। বিএনপিমনা এক ভোটার বলেন, সুযোগ পেলে আমরা অবশ্যই আশ্রাফকে ভোট দিবো।