
বিশেষ প্রতিনিধি:
রুহুল আমীন খান (উজ্জ্বল)।
হবিগঞ্জের মাধবপুরে এক অসহায় ব্যক্তির মালিকানাধীন অটোরিকশা (মিশুক) জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে মো. ফারুক মিয়া (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে মাধবপুর থানা পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে ভুক্তভোগীর অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার গোয়ালনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফারুক মিয়াকে আটক করা হয়। তিনি গোয়ালনগর গ্রামের কাঁচন মিয়ার ছেলে।
থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মাধবপুর উপজেলার আদাঐর ইউনিয়নের কবিলপুর গ্রামের মো. নাজির মিয়ার মালিকানাধীন একটি অটোরিকশা (মিশুক) ভাড়ায় চালিয়ে আসছিলেন মো. হাসান মিয়া। গত ৮ আগস্ট সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে গোয়ালনগর জামে মসজিদের সংলগ্ন এলাকায় অটোরিকশাটি নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ফারুক মিয়া ও জাহাঙ্গীর মিয়া পরস্পর যোগসাজশে চালক হাসান মিয়ার সঙ্গে কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন।
অভিযোগে বলা হয়, একপর্যায়ে ফারুক মিয়া চালক হাসান মিয়াকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে গলায় হাত দিয়ে চেপে ধরেন। পরে তার কাছ থেকে অটোরিকশার চাবি নিয়ে নেন এবং ঘটনাস্থল থেকে অটোরিকশাটি নিয়ে চলে যান। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর অটোরিকশাটির মালিক নাজির মিয়া মাধবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত ও অভিযান শুরু করে। একপর্যায়ে রোববার দুপুরে গোয়ালনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফারুক মিয়াকে আটক করা হয়। একই সঙ্গে তার কাছ থেকে অভিযোগে উল্লেখিত অটোরিকশাটিও উদ্ধার করা হয়।
ভুক্তভোগী নাজির মিয়া বলেন, “আমি একজন অসহায় মানুষ। আমার একমাত্র আয়ের মাধ্যম অটোরিকশাটি জোর করে নিয়ে যাওয়ায় আমি থানায় অভিযোগ করি। পুলিশ অটোরিকশাটি উদ্ধার করায় আমি কৃতজ্ঞ।”
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, ফারুক মিয়ার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ রয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ ও মামলার বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী নাজির মিয়া এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্তসাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।