
পোরশা (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
নওগাঁর পোরশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চাহিদার তুলনায় শয্যা সংখ্যা অপ্রতুল হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন চিকিৎসাধীন রোগীরা। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ রোগী ভর্তি থাকায় বাধ্য হয়ে অনেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন মেঝে বা ফ্লোরে। এতে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা।
১. স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওপর অতিরিক্ত চাপ
পোরশা উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার হাজার হাজার মানুষের চিকিৎসাসেবার একমাত্র ভরসাস্থল এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। সম্প্রতি হঠাৎ করেই রোগীর সংখ্যা বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালের ভেতরের পরিবেশ হয়ে পড়েছে জনাকীর্ণ।
২. মৌসুমি রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে এই অঞ্চলে বেশ কিছু মৌসুমি রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
সর্দি-জ্বর
ডায়রিয়া
নিউমোনিয়া
৩. মেঝে ও বারান্দায় চিকিৎসা
নির্ধারিত বেড খালি না থাকায় পুরুষ, নারী ও শিশু ওয়ার্ডের বারান্দা এবং মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে অনেককে। ফ্লোরে চিকিৎসা নেওয়া একাধিক রোগীর স্বজনদের অভিযোগ—
”হাসপাতালে বেড খালি না থাকায় বাধ্য হয়ে মেঝেতে থেকেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। গরমে ও গাদাগাদি পরিবেশে ফ্লোরে থাকা অত্যন্ত কষ্টকর হলেও অন্য কোনো উপায় না থাকায় এখানেই থাকতে হচ্ছে।”
৪. কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও আশু সমাধান
এই সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পোরশা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. কামাল উদ্দীন জানান,
”হাসপাতালে রোগীর চাপ প্রতিনিয়তই বাড়ছে, যার কারণে অনেক রোগীকে ফ্লোরে স্থান দিতে হচ্ছে। তবে এই সংকট খুব বেশি দিন থাকবে না। হাসপাতালটিকে অতি দ্রুত ১০১ শয্যায় উন্নীত করার প্রক্রিয়া চলছে। এটি বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসার এই সংকট দূর হবে এবং তারা উন্নত সেবা পাবেন।”
৫. স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি
কর্তৃপক্ষের ১০১ শয্যা করার প্রক্রিয়ার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারা এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিকে আরও বড় পরিসরে (২৫০ শয্যা) উন্নীত করার দ্রুত বাস্তবায়ন দেখতে চান, যেন সাধারণ মানুষকে আর কখনো মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসার দুর্ভোগ পোহাতে না হয়।