1. admin@dhakapost71.com : admin :
  2. dhakapost71@gmail.com : dhakapost71 :
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
নাগেশ্বরীতে ৭ দফা দাবিতে দলিল লেখক সমিতির প্রতিবাদ সভা তারুণ্যকে কাজে লাগিয়ে সাভার উপজেলা থেকে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি দুর করতে চাই – মোঃ তমিজ উদ্দিন মামুদনগর যুব সংঘের পুনরায় সভাপতি হলেন জনাব মোঃ আরিফুল ইসলাম এবং সম্পাদক হলেন জনাব মো: হুমায়ুন কবির। কবিরহাট উপজেলায় অর্থাভাবে কোন কৃতি শিক্ষার্থী হারিয়ে যাবে না দীর্ঘদিন পর নিকলী হাওরের বুকে জমজমাট নৌকা বাইচ ব্রাহ্মণপাড়া ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি মৃত্যুর অভিযোগ, সাড়ে ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকায় ‘রফা’ নাগেশ্বরীতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে দুই আসামি গ্রেপ্তার, একজনের ১৫ দিনের কারাদণ্ড নিরাপদ স্বাস্থ্য আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হলেন – মাওলানা আব্দুল মোতালেব। মাধবপুরে কৃষিজমি থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন, ড্রেজার ও পাইপ বিনষ্ট। ন‌ওগাঁর মান্দায় তিন বিলে মৎস্য আহরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন

টাঙ্গাইলে ভাইরাসের আক্রমণে ক্ষেতেই পচছে আখ, লোকসানের শঙ্কায় দিশেহারা কৃষক

  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬
  • ৬০ বার পঠিত

শুভ্র মজুমদার, স্টাফ রিপোর্টার:-

টাঙ্গাইলে চলতি মৌসুমে আশাব্যঞ্জক আখ উৎপাদনের স্বপ্নে বড় ধাক্কা দিয়েছে অজ্ঞাত ভাইরাসজনিত রোগ। ফসল পরিপক্ক হওয়ার আগমুহূর্তে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেতের পর ক্ষেত আখ পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি বাজারমূল্যও কম থাকায় চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন আখ চাষিরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ৪৬৫ হেক্টর জমিতে আখের চাষ হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ভাইরাসের আক্রমণে আখের কাণ্ডে পচন দেখা দিয়েছে। অনেক ক্ষেতেই অধিকাংশ আখ নষ্ট হয়ে গেছে। যেগুলো টিকে আছে, সেগুলোরও আকার ও মান আশানুরূপ হয়নি। বর্তমানে বাজারে প্রতি পিস আখ সর্বোচ্চ ২০ টাকায় বিক্রি হলেও গত বছর একই সময়ে ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত দাম পাওয়া গিয়েছিল।

সরেজমিনে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, একসময় সবুজে ভরা আখক্ষেত এখন পচনের কবলে। বছরের প্রধান আয়ের উৎস নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্তরা সরকারের জরুরি সহযোগিতা, কৃষি বিভাগের কার্যকর পদক্ষেপ এবং কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ বা প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন।

কৃষক সুলতান কবির বলেন, শুরুতে আখের বৃদ্ধি খুব ভালো ছিল। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ আগে ভাইরাসের আক্রমণ শুরু হলে একের পর এক আখ পচে যায়। বিশেষ করে ঈশ্বরদী জাতের আখ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ না পাওয়ায় ক্ষতি আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আরেক কৃষক রমজান আলী বলেন, ভালো ফলনের আশায় আখ চাষে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করেছিলেন। এখন অধিকাংশ আখ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ঋণের টাকা পরিশোধ নিয়েই দুশ্চিন্তায় আছেন।

কৃষক শফিক আহমেদ জানান, বিষয়টি কৃষি বিভাগকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো সমাধান পাননি। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে আরও কৃষক ক্ষতির মুখে পড়বেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

সদর উপজেলার খারজানা গ্রামের কৃষক আবু হানিফ জানান, ১০ শতাংশ জমিতে আখ চাষে প্রায় ১৫ হাজার টাকা ব্যয় করেছেন। ভাইরাসের কারণে আখ নষ্ট হওয়ায় খরচের টাকাও উঠে আসবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।

পাকুল্ল্যা এলাকার কৃষক দবির উদ্দিন বলেন, গত বছর ৩৩ শতাংশ জমি থেকে প্রায় ২ হাজার ৪০০টি আখ বিক্রি করেছিলেন। এবার একই জমিতে ভাইরাসের কারণে আখের সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে। ফলে লাভের পরিবর্তে লোকসানের মুখে পড়েছেন।

অন্যদিকে কৃষক মাহমুদ আলী জানান, প্রায় ১৫০ শতাংশ জমিতে আখ চাষ করেছেন। ব্যাপক পচনের কারণে উৎপাদন কমে গেছে। যে আখগুলো ভালো আছে, সেগুলোও পর্যাপ্ত মোটা হয়নি।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক শোয়েব মাহমুদ বলেন, কয়েকটি এলাকায় আখে ভাইরাসজনিত সমস্যার তথ্য পাওয়া গেছে। মাঠপর্যায়ে তদন্ত চলছে এবং আক্রান্তের কারণ নির্ণয়ের পাশাপাশি কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান।

Facebook Comments Box
এ জাতীয় আরও খবর
© All rights reserved © 2023 Dhaka Post 71
Theme Customized By Shakil IT Park