
বিশেষ প্রতিনিধি:
রুহুল আমীন খান (উজ্জ্বল)।
হবিগঞ্জের মাধবপুরে পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে মো. জয়নাল উদ্দিন ও তার স্ত্রীকে মারধর, গোয়ালঘর ভাঙচুর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আপন তিন ভাই ও তাদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় মো. জয়নাল উদ্দিন মাধবপুরের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৯ জনকে আসামি করে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে দণ্ডবিধির ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩০৭/৩৫৮/৪২৭/৫০৬(II)/১১৪ ধারার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী জয়নাল উদ্দিনের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি চার ভাইয়ের মধ্যে তৃতীয়। তার বড় ভাই গিয়াস উদ্দিন, মেজ ভাই ইনস্থান উদ্দিন এবং ছোট ভাই ফরিদ উদ্দিন। পারিবারিক ও জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দীর্ঘদিন ধরে তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো ও মারধর করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আদালতে দেওয়া অভিযোগে জয়নাল উদ্দিন বলেন, গত ৬ আগস্ট ২০২৬ সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে তার বাড়ির উঠানে গোয়ালঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে আসামিরা লাঠিসোঁটা নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে তারা গোয়ালঘর ভাঙচুর শুরু করলে তার স্ত্রী বাধা দেন। এ সময় আসামিরা তার স্ত্রীকে ঘেরাও করে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, তার স্ত্রীকে লাঠি দিয়ে আঘাত করার পাশাপাশি উরু ও কোমরে একাধিকবার মারধর করা হয়। স্ত্রীর চিৎকার শুনে জয়নাল উদ্দিন এগিয়ে গেলে তাকেও হত্যার উদ্দেশ্যে মাথা লক্ষ্য করে লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। এতে তার নাকে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয় বলে দাবি করেন তিনি।
জয়নাল উদ্দিনের অভিযোগ, এ সময় আরও কয়েকজন আসামি তাকে কিল-ঘুষি মারেন এবং অন্যরা গোয়ালঘরটি ভাঙচুর করে ক্ষতিসাধন করেন। একইসঙ্গে তার স্ত্রীকে চুলের মুঠি ধরে টানাহেঁচড়া ও শ্লীলতাহানির অভিযোগও করা হয়েছে।
চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ও সাক্ষীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে আসামিরা মামলা-মোকদ্দমা করলে পুনরায় মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেন জয়নাল উদ্দিন।
অভিযোগকারী আরও জানান, ঘটনার পর তিনি ও তার স্ত্রী মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। তার স্ত্রী ৬ আগস্ট থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে তিনি দাবি করেন। ঘটনার পর মাধবপুর থানায় অভিযোগ দেওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ায় আদালতে অভিযোগ দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে, নিজের অভিযোগের বিষয়ে বিবাদীদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাক্ষাৎকার দিতে রাজি হননি বলে জানান জয়নাল উদ্দিন। তবে তিনি দাবি করেন, গোপনে তার মেজ ভাইয়ের একটি বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে, যেখানে তাকে বাড়াবাড়ি না করার জন্য হুমকিসূচক কথা বলা হয়েছে বলে অভিযোগকারীর দাবি।
অভিযোগের বিষয়ে আদালত কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন, তা এখনো জানা যায়নি। অভিযোগগুলো তদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা ও দায়ীদের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।