
মোঃ শহিদুল ইসলাম
নিজস্ব প্রতিবেদক খুলনাঃ-
খুলনা জেলার দিঘলিয়া, রূপসা ও তেরখাদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগীদের নিম্নমানের খাবার সরবরাহ নিয়ে খুলনা- ৪ আসনের এমপি আজিজুল বারী হেলালের অভিযোগের তদন্তে নেমেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট খাদ্য সরবরাহকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং চুক্তি বাতিল করে নতুন দরপত্র আহ্বানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের ক্রয় ও সংগ্ৰহ-১ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মোঃ সাইফুল ইসলাম মজুমদার স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, খুলনা -৪ আসনের সাংসদ এস কে আজিজুল বারী হেলাল পৃথক তিনটি আধা সরকারি ডিও পত্রে দিঘলিয়া, রূপসা ও তেরখাদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভর্তি রোগীদের জন্য সরবরাহ করা খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ উত্থাপন করেন। তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন, দায়িত্ব প্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গুলো চুক্তির শর্ত অনুযায়ী মানসম্মত খাবার সরবরাহ করছে না। ফলে হাসপাতালে ভর্তি রোগীরা নির্ধারিত মানের খাবার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
সংসদ সদস্যের পাঠানো অভিযোগ আমলে নিয়ে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং চুক্তি বাতিল করে নতুন দরপত্র আহ্বানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় আরো বলা হয়েছে
তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগকে অবহিত করতে বলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীদের জন্য বরাদ্দকৃত খাবারের মান নিশ্চিত করা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন ও নিম্ন মানের খাবার সরবরাহের অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পর দিঘলিয়া, রূপসা ও তেরখাদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
অপরদিকে খুলনা জেলার দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগীদের খাবার ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও তা আবার ধামাচাপা পড়ে গেছে। শুধুমাত্র সতর্ক করা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রয়েছে।
খুলনা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ২১ শে জুলাই খুলনার সিভিল সার্জন দিঘলিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভর্তি রোগীদের খাবারে অনিয়মের বিষয়ে জানতে চেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে শোকজ করেন। কিন্তু শোকজের পরও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে শুধুমাত্র সতর্ক করা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ডাঃ মাহাবুবুল আলম বলেন, মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে মামলা চলমান থাকায় ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। এ কারণে তাকে সতর্ক করা হয়েছে। সিভিল সার্জন অফিসের শোকজের জবাব লিখিত আকারে দাখিল করেছি।
স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মোঃ সাইফুল ইসলাম মজুমদার স্বাক্ষরিত ২২ জুলাইয়ের এক পত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে এবং তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সহ জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং চুক্তি বাতিল করে নতুন দরপত্র আহ্বানের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।