
বিশেষ প্রতিনিধি:
রুহুল আমীন খান (উজ্জ্বল)।
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় একদিকে তীব্র নদীভাঙনে গ্রাম ও জনপদ বিলীন হওয়ার আশঙ্কা, অন্যদিকে নদী থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো নদী থেকে বালু উত্তোলন করায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
শনিবার (৮ আগস্ট) সরেজমিনে উপজেলার ফয়জুল্লাহপুর, বিষ্ণুপুর, প্রতাপপুর বাজার ও শাল্লাগ্রাম এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নদীভাঙনের কারণে বিস্তীর্ণ এলাকা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে প্রতাপপুর বাজারসংলগ্ন নদীতে কয়েকটি বড় স্টিল বোট থেকে বালু উত্তোলন করতে দেখা যায়।
বালুবাহী নৌকার শ্রমিকদের কাছে বালুর উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা জানান, বালু উজান থেকে আনা হয়েছে। কারা এই বালু সরবরাহ করছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তারা নোয়াগাঁও এলাকার শাহীন মিয়ার নাম উল্লেখ করেন। শ্রমিকদের দাবি, এসব বালু পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কাজের জন্য আনা হয়েছে।
তবে নদী থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনে বসতবাড়ি, আবাদি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। এর মধ্যে নদী থেকে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে ভাঙন আরও তীব্র হয়ে অবশিষ্ট জনপদও হুমকির মুখে পড়বে।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ওবায়দুল হকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অন্যদিকে শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, “আমি এখনই পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। তারা কোথা থেকে বালু আনছে এবং অবৈধভাবে বালু উত্তোলন হলে সেটি কেন হচ্ছে, তা তদন্ত করা হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নদী থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে নদীভাঙনে আরও বাড়িঘর ও কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।