
বিশেষ প্রতিনিধি: রুহুল আমীন খান (উজ্জ্বল)।
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার প্রাণকেন্দ্র মাধবপুর বাজারের অভ্যন্তরে অবস্থিত দীর্ঘদিনের দখলকৃত পুকুরটি উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দখলমুক্ত করে সরকারি আওতায় আনা হয়েছে। পরবর্তীতে পুকুরটি ঘিরে বাউন্ডারি নির্মাণ করা হয় এবং এলাকাবাসীর বিনোদনের জন্য সেখানে একটি মিনি পার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ইতোমধ্যে কাজের একটি বড় অংশ সম্পন্ন হলেও এখনও কিছু উন্নয়নমূলক কাজ বাকি রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে শুধুমাত্র অবকাঠামো নির্মাণ করলেই একটি স্থান সুন্দর ও বাসযোগ্য হয়ে ওঠে না; এর জন্য প্রয়োজন নাগরিকদের সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণ।
বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, পার্কসংলগ্ন এলাকায় অনেকেই বাসাবাড়ির ময়লা-আবর্জনা যেখানে-সেখানে ফেলছেন। এমনকি দর্শনার্থীদের বসার জন্য নির্মিত বেঞ্চ ও বিশ্রামস্থলের আশপাশে প্রকাশ্যে প্রস্রাব করার ঘটনাও ঘটছে। এতে চারদিকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে এবং পরিবার-পরিজন কিংবা দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা স্বস্তিতে বসতে পারছেন না। ফলে প্রশাসনের সুন্দর উদ্যোগটি অনেকটাই ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু প্রশাসনের নয়; এলাকাবাসীকেও সমানভাবে এগিয়ে আসতে হবে। যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা না ফেলা, উন্মুক্ত স্থানে প্রস্রাব না করা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং পার্কের সৌন্দর্য রক্ষায় সবাইকে সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে।
এছাড়া এলাকাবাসীর উদ্যোগে পার্কের চারপাশে বিভিন্ন প্রজাতির ফুল ও ছায়াদানকারী গাছ লাগানো হলে স্থানটির সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি পাবে। পরিচ্ছন্ন ও সবুজ পরিবেশ মানুষকে মানসিক প্রশান্তি দেবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করবে।
এ বিষয়ে সচেতন নাগরিকরা বলেন, “দশে মিলে করি কাজ, হারি-জিতি নাহি লাজ”—এই চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাই যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করি, তাহলে মাধবপুর বাজারের এই মিনি পার্কটি একসময় উপজেলার অন্যতম সুন্দর ও আকর্ষণীয় বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হবে।
পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের পাশাপাশি জনসচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগই পারে এই স্থানটিকে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও মনোরম করে তুলতে।