1. admin@dhakapost71.com : admin :
  2. dhakapost71@gmail.com : dhakapost71 :
সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ০২:১৪ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সাংবাদিক নুর আলাম বিপ্লবের একমাত্র মেয়ে ফাওজিয়া আলম রোদেলা নোয়াখালী চাপরাশিরহাট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পাওয়ায় ঢাকা পোস্ট৭১ এর পক্ষ থেকে অভিনন্দন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ্ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সৌজন্য সাক্ষাৎ। বরগুনার আমতলীতে বস্তাবন্দি মরদেহ সনাক্ত, স্কুলছাত্র হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন। মাধবপুর পৌর প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন স্থানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। শাল্লায় নদীভাঙনের আতঙ্ক, বালু উত্তোলনের অভিযোগে ক্ষোভ। কবিরহাটে ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ, ডিএনএ পরীক্ষার দাবিতে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ ও মানববন্ধন। বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট পুলিশ ইমিগ্রেশন পরিদর্শন করলেন এসবি প্রধান।। তারেক রহমানের কিশোরগঞ্জ-কটিয়াদী আগমন: নিকলীতে বিএনপির প্রস্তুতি সভা বরগুনার উন্নয়নই আমাদের অঙ্গীকার” — চীফ হুইপ নুরুল ইসলাম মণি। “ কবিরহাটে গলায় দড়ি প্যাঁচানো যুবদল নেতার মরদেহ উদ্ধার

অগ্নিঝরা জুলাইয়ের সেই দিনগুলো কেমন ছিল তারই স্মৃতিচারণ করেছেন জুলাই যোদ্ধা কামরুজ্জামান

  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩৭ বার পঠিত

আকতার হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার

অগ্নিঝরা জুলাইয়ের সেই দিনগুলো কেমন ছিল তারই স্মৃতিচারণ করেছেন জুলাই যোদ্ধা কামরুজ্জামান । এসময় তিনি বলেন ” আমি কামরুজ্জামান আকাশ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের একজন একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নির্দেশে এবং ছাত্রদল নেতা মোঃ তমিজউদ্দিন ও মাহফুজ ইকবাল ভাইয়ের নেতৃত্বে ৭ জুলাই ২০২৪ সালে ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার জালেম সরকারের বিপক্ষে ছাত্র জনতার আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করি । ৭ জুলাই ( ২০২৪ ) বাংলা ব্লকেট কর্মসূচিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সাধারণ ছাত্র-জনতার সমন্বয়ে এক কর্মসূচি পালিত হয় । ঐ কর্মসূচিতে আমি স্ব শরীরে উপস্থিত থেকে আন্দোলন কার্যক্রমে নিজের সম্পৃক্ততা ও উপস্থিতি জানান দেই । ৯ জুলাই বর্তমান জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু ভাইয়ের নেতৃত্বে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করি এবং ঐ আন্দোলনে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করি । ১০ জুলাই আপিল বিভাগ কর্তৃক কোটা সংক্রান্ত রায়ের স্থগিত আদেশ প্রদান করা হলেও সকলের সম্মিলিত সিদ্ধান্তে আন্দোলন সংগ্রাম অব্যাহত থাকে এবং আমিও সে আন্দোলন সংগ্রামে আমার জায়গা থেকে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখার চেষ্টা করি । ১১ জুলাই সকাল দশটায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় উক্ত দিনের কর্মসূচি নির্ধারণ করে বিকেল ৪টা থেকে ৬:৪৫ পর্যন্ত ঢাকা আরিচা মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচিতে ডেইরিগেট সংলগ্ন স্থানে অবস্থান করি এবং উক্ত কর্মসূচি সম্পন্ন হওয়ার পরে আব্দুর রশিদ জিতু ভাই আমাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য প্রদান করেন এবং পরবর্তী আন্দোলন সংগ্রামের আংশিক দিকনির্দেশনা প্রেরণ করেন । ১৪ জুলাই ছিল এই আন্দোলনের একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন সেই দিন তৎকালীন অবৈধ সরকারের ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কটুক্তি করে রাজাকারের বাচ্চা বলে সম্বোধন করে যার তীব্র প্রতিবাদে বাংলাদেশের সমগ্র ছাত্র সমাজের মতো আমিও ফেটে পড়ি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে শহীদ মিনারে মোমবাতির প্রজ্জ্বলন ও অবস্থান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করি এবং নানা গ্রাভিটি চিত্রাঙ্গনে সহযোগিতা করি । ১৫ জুলাই সকালবেলা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে আন্দোলনের কর্মসূচি প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নের প্রস্তুতি কালে সন্ত্রাসী ও নিষিদ্ধ বাহিনী ছাত্রলীগ দ্বারা হামলা ও নির্যাতনের শিকার হই । আমি ছাড়াও আরো অনেকে এ হামলায় আঘাতপ্রাপ্ত হয় । ১৬ জুলাই বাংলাদেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ও বিভিন্ন জায়গায় এই আন্দোলন আগুনের ফুলকির মতো ছড়িয়ে পড়ে এবং এই দিনই ওয়াসিম ও আবু সাঈদ ভাই সহ ছয় শিক্ষার্থী নিহত হয় । যার ফলে ছাত্র সমাজ রাগে ক্ষোভে ফুসে উঠে । এই দিন তৎকালীন ফ্যাসিজ সরকার সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও আবাসিক হল বন্ধ ঘোষণা করে পানি ও বিদ্যুতের লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেয় ওই সময় আমি বিভিন্ন শিক্ষার্থীর আবাসন ব্যবস্থার সহযোগিতা করি ১৮ জুলাই এই আন্দোলন এক অভূতপূর্ব মোড় লাভ করে । এই দিন আমি উত্তরাতে বিভিন্ন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সাথে দিয়াবাড়ি – আব্দুল্লাহপুর এই জায়গাগুলোতে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করি এবং এই দিনই খুনি হাসিনার পতনের চূড়ান্তর রুপরেখা বাস্তবায়নের দিকে ধাবিত হয় । যার ফলে কারফিউর আদেশ প্রদান করে । ছাত্র-জনতার এই আন্দোলনকে ব্যর্থ করে দেওয়ার এক নীল নকশা প্রণয়ন করা হয় তবে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা তাদের অধিকার আদায়ের ব্যাপারে ইস্পাত সদৃশ ঐক্যবদ্ধ ছিল । ২১ জুলাই থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত সরকারের বিভিন্ন বাহিনীর দ্বারা গ্রেফতার ও হয়রানির কারণে আন্দোলনে কিছুটা স্থবিরতা থাকলেও আমরা বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের ইউনিটগুলোর সাথে এবং সমন্বয়কদের সাথে যোগাযোগ প্রতিস্থাপন ও বাংলাদেশের মানুষের গণতন্ত্রের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে যে সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন তাদের সাথে যোগাযোগ ও পরামর্শ চলমান রাখি । ২৮ জুলাই হাইকোর্টের আদেশের ওপর রিট করা হলে ২৯ জুলাই থেকে আন্দোলন নতুন রূপে প্রাণশক্তি ফিরে পায় আর এই সময় প্রত্যেকটি দিনই মনে হচ্ছিল এক একটি ইতিহাস আর প্রত্যেক দিনের কর্মসূচি শেষ করে বাসায় ফিরে নিজেকে সেই ইতিহাসের অংশ হিসেবে কল্পনা করে এক মধুর আনন্দ ও শান্তি উপলব্ধি করি । ১ আগস্ট ( ২০২৪ ) Remembering the heroes নামক কর্মসূচিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক কর্মীগণ ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের ব্যক্তিবর্গরা এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এর পাশাপাশি সেদিন বিশ্ববিদ্যালয় সহ সাভারের প্রত্যেকটি স্থানে তীব্র আন্দোলন গড়ে ওঠে আমি সেদিন পাকিজা মোড় ছায়াবীথি ডেইরি গেট সহ আশেপাশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করি এবং সেদিন আমার নেতৃত্বে প্রায় ৫২ জন মুক্তি কামি ছাত্র জনতা আন্দোলন অংশগ্রহণ করে । ২-৪ আগস্ট প্রত্যেকটি দিন ছিল এক একটি ইতিহাস এই দিনগুলোতে বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষগুলো এবং শ্রমজীবী ও অভিভাবকবৃন্দরা রাস্তায় নেমে আসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণ তাদের বিবেকের তাগিদে শিক্ষার্থীদের মাথার ওপর ছায়া হয়ে দাঁড়ান । ৪ আগস্ট এই আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ, সজীব ভূঁইয়া ভাইয়ের ঘোষিত রোড টু ঢাকা কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ৪ আগস্ট গভীর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকাতে অবস্থান করি ৫ আগস্ট এক থমথমে পরিবেশের মধ্য দিয়ে একে একে সবাই একত্রিত হতে থাকে ইতিমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ বিভাগের সম্মানিত শিক্ষিকা এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মমতাময়ী মা হিসেবে আবির্ভূত ডক্টর সায়মা ম্যাম ও শহীদুল্লাহ স্যারের সফরসঙ্গী হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হই এবং ৫ আগস্ট দুপুরবেলা সেই কাঙ্ক্ষিত ঘোষণাটি আসে এবং খুনি হাসিনা দুপুর একটা চল্লিশ মিনিটে দেশ ত্যাগ করে আর আমরা ১৪০০শহীদের জীবনের বিনিময়ে ও অজস্র ভাই বোনের রক্তের বিনিময়ে হারিয়ে ফেলা স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের অধিকার ফিরে পাই । এ আন্দোলন ছিল ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধে উঠে এসে দেশের তরে নিজের জীবন বিলিয়ে দেওয়ার এক সুবর্ণ সুযোগ । এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে হয় ” ।

Facebook Comments Box
এ জাতীয় আরও খবর
© All rights reserved © 2023 Dhaka Post 71
Theme Customized By Shakil IT Park