
মাওলানা মোঃ আব্দুল মোতালেব,
স্টাফ রিপোটার।
বরগুনা গৌরীচন্নায় মৃধা বাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রয়াত জুলফিকার আলি( জলফু) মাস্টার সাহেবের স্মৃতি বিজরীত একটি ঘরের আসবাবপত্রসহ সব মালামাল মুহুর্তেই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) আনুমানিক বিকেল ৩টা দিকে হঠাৎ করে ওই ঘরে বিদ্যুৎ এর শর্টসার্কিটে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন এবং বরগুনা ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এতে আগুন আশপাশের বসতঘরে ছড়িয়ে পড়া থেকে রক্ষা পায়।
ঐ ঘরটিতে গৌরিচন্না নওয়াব সলিমুল্লাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা মোঃ আনোয়ার হোসেন ও শিপন নামের একজন রাজমিস্ত্রী এ-ই দুটি পরিবার ভাড়া থাকতেন। জুম্মার নামাজ শেষে জনাব আনোয়ার মাস্টার সাহেব ও তার স্ত্রী ঘরেই ঘুমিয়ে ছিলেন, অগ্নিকান্ডের অবস্থা দেখে খালি গায়ে দৌড়ে বাহিরে বেরিয়ে জীবন রক্ষা করে, ততক্ষণে ঘরের আসবাবপত্র সহ সব মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বরগুনা জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবীদ, গৌরিচন্না নওয়াব সলিমুল্লাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি জননেতা জনাব ফজলুল হক মাষ্টার। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, “অগ্নিকাণ্ডে একটি পরিবারের স্বপ্ন ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী মুহূর্তের মধ্যে পুড়ে গেছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও হৃদয়বিদারক ঘটনা। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বরগুনা জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য সচিব ও বরগুনা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জননেতা জনাব এ্যাডভোকেট আব্দুল ওয়াসী মতিন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ঘরটি পরিদর্শন করে বলেন, “আগুনে একটি পরিবারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পুড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তাদের এই দুর্দিনে আমরা সহমর্মিতা প্রকাশ করছি। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”
তিনি আরও বলেন, “অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে বের করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে বৈদ্যুতিক সংযোগ ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা সম্পর্কে সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে।”
আরো উপস্থিত ছিলেন – বরগুনা জেলা ওলামা দলের সংগ্রামী সদস্য সচিব ও গ্লোবাল এভিয়েশন অ্যান্ড টুরিজম জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি জনাব মাওলানা মোঃ আব্দুল মোতালেব, সাংবাদিক নেতা ডাক্তার মোঃ এনামুল হক, গৌরিচন্না নওয়াব সলিমুল্লাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব মোঃ সাইফুল ইসলাম,
বরগুনা জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ নুরুল ইসলাম রনি। তিনি বলেন, “অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে আমরা আছি এবং তাদের এই দুর্দিনে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি আহ্বান জানাই। একটি পরিবারের সর্বস্ব পুড়ে যাওয়া অত্যন্ত কষ্টের বিষয়।”
মোঃ শহিদুল ইসলাম শিমুল মৃধা জানান -, ওই ঘরে ভাড়াটিয়া বসবাস করতেন। তবে সৌভাগ্যক্রমে অগ্নিকাণ্ডে কোনো ভাড়াটিয়ার শারীরিক ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ঘরে থাকা আসবাবপত্র, পোশাক, প্রয়োজনীয় সামগ্রীসহ বিভিন্ন মালামাল আগুনে পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে বরগুনা সদর থানা পুলিশের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।
স্থানীয়দের প্রাথমিক ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে একটি পরিবারের বসতঘর ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পুড়ে যাওয়ায় এলাকায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।