
মু আ হা ইবনে জালাল
শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে ৪০০ বছরের প্রাচীণ বন্দর ভোজেশ্বর বাজার। বর্তমান প্রজন্ম এর অনেক কিছুই জানেন না।জানানোর এই কাজটি করেছেন উক্ত বন্দরের দীর্ঘ দিনের ব্যবসায়ী মরহুম আলহাজ্ব শহর আলী মাদবরের বড় ছেলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন এর অব.ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার সুলেখক জনাব এস এম এ সোবহান।
৩১ জুলাই ২০২৬ রোজ শুক্রবার বিকেল ৪.৩০ টায় ঢাকাস্থ শরীয়তপুর লেখক পরিষদের আয়োজনে পাঠক সমাবেশ, কাটাবন শাখায় এস এম এ সোবহান রচিত “ভোজেশ্বরের ইতিকথা” গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান অত্যন্ত আন্তরিক, সুশৃঙ্খল ও প্রাণবন্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের সূচনা হয় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে। এরপর জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয় এবং সম্প্রতি প্রয়াত কবি ফণীন্দ্র নাথ রায়-এর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে শোক প্রকাশ করা হয়। কবি আবুল বাশার মাল কবিতা পাঠ করেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন শরীয়তপুর লেখক পরিষদের সম্মানিত সভাপতি, লেখক ও গবেষক মিজানুর রহমান গ্রামসি। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কবি রোকন রেহান। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন লেখক, কবি ও অধ্যক্ষ প্রফেসর ওয়াজেদ কামাল।
আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বিশিষ্ট লেখক আবদুর রব শিকদার, লেখক ও গবেষক অধ্যাপক আ. আজিজ মিয়া, শেখ খুরশীদ আলম (সচিব, অব.), মো. ইউনুস আলী (প্রধান বন সংরক্ষক, অব.) ও সমাজসংগঠক, অধ্যক্ষ (অব.) মুজিবুর রহমান, অধ্যক্ষ মো. হারুনুর রশিদ, শরীয়তপুর এসডিএস-এর প্রতিষ্ঠাতা মজিবর রহমান মাদবর, ডা. ইশতিয়াক হোসেন মিল্টন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অব.) বখতিয়ার হোসেন ভূঁইয়া, ভোজেশ্বর অঞ্চলের (নশাসন) কৃতী সন্তান ড. মোমিত আল রশিদ, অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং লেখক, গবেষক ও ফারসি ভাষার বিশেষজ্ঞ; নুরুল আমিন রতন, প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষক নেতা; ও আরও অনেক সাহিত্যপ্রেমী, ইতিহাস-গবেষক ও গুণীজন।
শরীয়তপুরের কবি, সাহিত্যিক, লেখক, গবেষক, পত্রিকা সম্পাদক, অধ্যক্ষ, অধ্যাপক, শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা, চিকিৎসক, সমাজসংগঠক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে এক অনন্য মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করে।
বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে কৈশোরের ভোজেশ্বরের নানা স্মৃতি তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, ভোজেশ্বর শুধু একটি জনপদের নাম নয়; এটি একটি সংস্কৃতি, একটি ঐতিহ্য এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল প্রতীক। তাঁদের ভাষায়, বাংলাদেশের অন্যতম শান্তি, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির জনপদ ভোজেশ্বর। তাঁরা গ্রন্থটির ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং স্থানীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য ও স্মৃতিকে তথ্যনির্ভরভাবে গ্রন্থাকারে সংরক্ষণ করার এ প্রয়াসকে অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ও প্রশংসনীয় কাজ বলে উল্লেখ করেন।
লেখক হিসেবে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে এস এম এ সোবহান মহান আল্লাহ তাআলার প্রতি অশেষ শুকরিয়া জ্ঞাপন করে বলেন,, তাঁর অশেষ রহমতে এই গ্রন্থ প্রকাশের সৌভাগ্য হয়েছে। একই সঙ্গে যাঁরা বিভিন্ন সময়ে তথ্য, পরামর্শ, উৎসাহ ও সহযোগিতা দিয়ে পাশে ছিলেন এবং যাঁরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে আমাকে সম্মানিত করেছেন, তাঁদের প্রত্যেকের প্রতি জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।
তিনি আরো বলেন, আপনাদের এই ভালোবাসা, উৎসাহ ও স্বীকৃতিই আমার আগামী দিনের পথচলার অনুপ্রেরণা। সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি।সকলের প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।