
মোঃ শহিদুল ইসলাম
নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনাঃ-
টার্গেট কিলিংয়ের ঘটনা বিবেচনায় খুলনার দিঘলিয়া চরম ঝুঁকিপূর্ণ অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান (স্পেশাল ড্রাইভ) শুরুর তৃতীয় দিন দিঘলিয়ায় শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ০ ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের অধিকাংশই অনলাইন জুয়া ও মাদক ব্যবসায়ী।
খুলনার দিঘলিয়ায় চরমপন্থি সংগঠন ‘পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (এমএল-জনযুদ্ধ)’–এর সাবেক আঞ্চলিক নেতা নাসিমুল গনি ওরফে নাসিম (৫৫) হত্যাকাণ্ডের ৬ দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখনও হত্যার মূল মোটিভ উদঘাটন করতে পারেনি। অধরাই থেকে গেছে কিলিং স্কোয়াডের সদস্যরা । তাদের ধরতে এবং আইন- শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় নিহতের পরিবার উদ্বেগ উতকণ্ঠে ও হতাশায় দিন পার করছে।
ঘটনার পর নিহত নাসিমের স্ত্রী সেলিনা খাতুন মুক্তি বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৭–৮ জনকে আসামি করে দিঘলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এজাহারে অজ্ঞাত আসামিদের পাশাপাশি জীবদ্দশায় নাসিমকে হত্যার হুমকি দেওয়া ৪ ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ এবং অন্ধকার জগতের পুরোনো শত্রুতাকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, খুলনার দৌলতপুর পাবলা এলাকার কাদের শেখের পুত্র জুম্মন শেখ , দেয়ানা বকুল তলার মোঃ দুলাল মোল্লার পুত্র মোঃ রায়হান মোল্লা, দেয়ানা দক্ষিণ পাড়ার সোবহান খানের পুত্র রিপন ওরফে এ্যালকো রিপন, কুদ্দুস বিহারীর পুত্র শরিফুল বিহারী এই ৪ জনের সাথে নাসিমের বিরোধ ছিল এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রাণনাশের আশঙ্কায় ভুগছিলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে।
যেভাবে ঘটে হত্যাকাণ্ড:
উল্লেখ্য, গত রোববার (৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ফরমাইশখানা এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে তৈয়বের চা দোকানে বসেছিলেন নাসিম। এ সময় ভ্যানে করে আসা একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তাঁকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি বর্ষণ করে। ঘাতকদের ছোড়া তিনটি গুলি সরাসরি তাঁর মাথায় বিদ্ধ হয়। এরপর দুর্বৃত্তরা ফাঁকা গুলি ছুড়ে বীরদর্পে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত নাসিম ফরমায়েশখানা এলাকার মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে। সোমবার (৫ অক্টোবর) ময়নাতদন্ত শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হলে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।
দিঘলিয়া থানার নবনিযুক্ত অফিসার ইনচার্জ অরূপ কুমার চৌধুরী জানান, আসামিদের অবস্থান শনাক্ত ও গ্ৰেফতারে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। হত্যার সাথে জড়িতদের ধরতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে। হত্যাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে অনলাইন জুয়া ও মাদক ব্যবসায়ী সহ ০৬ জনকে আটক করা হয়েছে ।
পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে চান তিনি। অপরাধীদের উদ্দেশ্যে তার বার্তা, মাদক ও অবৈধ অস্ত্র নিয়ে এলাকায় কোনো কাজ করা যাবে না।
জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাদক, অবৈধ অস্ত্র, সন্ত্রাস ও অন্যান্য অপরাধ দমনে ধারাবাহিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে জেলা পুলিশ। সম্প্রতি সময়ে সংঘটিত কয়েকটি ঘটনা, বিশেষ করে টার্গেট কিলিংয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা আরও সুসংহত করতে বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক। ।