
মো:আল হেলাল
রোজা ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত এবং এটি আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া অর্জন ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের একটি মহান সুযোগ।মহান আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের অন্যতম ইবাদত সিয়াম পালন।কুরআন ও হাদিসে রোজার অনেক ফজিলত বর্ননা করা হয়েছে। রোজার কিছু প্রধান ফজিলত হলো,
১. তাকওয়া অর্জন
আল্লাহ তাআলা বলেন:
“হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।” (সুরা বাকারা: ১৮৩)
২. গুনাহ মাফ এবং জান্নাতের সুসংবাদ
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন:
“যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা রাখে, তার পূর্ববর্তী সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।” (বুখারি, মুসলিম)
৩. দোয়া কবুল হয়
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
“তিন ব্যক্তির দোয়া কখনো ফিরিয়ে দেওয়া হয় না— রোজাদারের দোয়া, ন্যায়পরায়ণ শাসকের দোয়া, এবং মজলুমের দোয়া।” (তিরমিজি)
৪. দোযখ থেকে মুক্তির সুযোগ
রমজানের শেষ দশকে আল্লাহ তাআলা অনেক মানুষকে দোযখ থেকে মুক্তি দেন। তাই এই সময়ে বেশি বেশি ইবাদত করা উচিত।
৫. সিয়াম কিয়ামতের সুপারিশকারী হবে
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন:
“রোজা ও কুরআন কিয়ামতের দিন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে।” (মুসলিম)
৬. জান্নাতের বিশেষ দরজা ‘রাইয়ান’
রাসুল (সা.) বলেছেন:
“জান্নাতে রাইয়ান নামে একটি দরজা রয়েছে, যা দিয়ে শুধু রোজাদাররা প্রবেশ করবে।” (বুখারি, মুসলিম)
রোজা শুধু পানাহার বর্জন নয়, বরং আত্মসংযম, খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকা ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম। তাই আমাদের উচিত, রমজানকে সর্বোত্তমভাবে কাজে লাগানো এবং রোজার শিক্ষা সারা বছর ধরে অনুসরণ করা।