1. admin@dhakapost71.com : admin :
  2. dhakapost71@gmail.com : dhakapost71 :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৫৩ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
কবিরহাটে ছোট ভাইয়ের জায়গা দখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন টাঙ্গাইলে শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার ইউএনও গোলাম রব্বানী সরকারকে নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে একটি মহল, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি। মাধবপুর পৌরসভার উন্নয়ন তহবিল থেকে ১ নম্বর ওয়ার্ডের বটগাছা মোড়া কবরস্থানে বরাদ্দ, এলাকাবাসীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ। পোরশায় জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা সরকারি হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা দূর করতে প্রয়োজন পরিকল্পিত কর্মসূচি – সাভারে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বরগুনা আলিয়া মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুর রশিদ ভূঁইয়ার মৃত্যুতে ওলামা দল নেতা আব্দুল মোতালেবের শোক। প্রতারক চক্রের ফোন নম্বর শনাক্ত, আর্থিক লেনদেন না করতে জনসাধারণকে সতর্ক করলেন বেনাপোল পোটথানার ওসি শহীদ তিতুমীর।। পোরশায় স্থানীয়দের সহায়তায় ৩ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, ৩২ পিস ট্যাপেন্টাডল জব্দ নারীর স্বাস্থ্যসুরক্ষা ও স্বাবলম্বিতা একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম ভিত্তি: চীফ হুইপ নুরুল ইসলাম মণি।

ইসলামী ভাবাদর্শের ওপর ভিত্তি করে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি, সমাজ বা রাষ্ট্র গঠনে চাপ সৃষ্টিকারী এবং চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জনে শক্তি সঞ্চয় করা প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।

  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৩৬ বার পঠিত

এই ধরনের লক্ষ্য অর্জনে সাধারণত যে কৌশল ও ধাপগুলো অনুসরণ করা আবশ্যক👇

১. নাগরিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি ও আদর্শিক ভিত্তি👇

👉একটি ইসলামী ভাবাদর্শভিত্তিক নাগরিক প্ল্যাটফর্ম সাধারণত সমাজ থেকে অন্যায় দূর করা এবং নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে। ইসলামে ‘আমর বিল মারুফ ওয়া নাহি আনিল মুনকার’ (সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ) ধারণার সাথে এটি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

আদর্শিক স্পষ্টতা👉প্ল্যাটফর্মের মূল লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং কর্মপন্থা ইসলামী শরীয়াহ ও নৈতিক মূলবোধের আলোকে সুনির্দিষ্ট করা।

সচেতনতা বৃদ্ধি👉 সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, প্রকাশনা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে সাধারণ মানুষের মধ্যে ইসলামী সমাজ ও রাষ্ট্রের সুফলগুলো তুলে ধরা।
আভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতা👉 কর্মীদের আবেগ ও বাস্তবতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা এবং চরমপন্থা বা উগ্রতা থেকে প্ল্যাটফর্মকে মুক্ত রাখা।

সম্ভাবনাসমূহ👇

বিকল্পের সন্ধান👉 বর্তমান পুঁজিবাদী বা ধর্মনিরপেক্ষ ব্যবস্থার নৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে মানুষ এখন একটি ইনসাফভিত্তিক ও নৈতিক বিকল্প ব্যবস্থার খোঁজ করছে।

তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ👉 বর্তমান যুগের শিক্ষিত ও সচেতন যুবসমাজ নৈতিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার এবং তারা একটি সুশৃঙ্খল ও ইতিবাচক প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হতে আগ্রহী।
হাদীসের কথা-

إِذَا مَاتَ الْإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَمَلُهُ إِلّا مِنْ ثَلَاثَةٍ مِنْ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ وَعِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ وَوَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ.

মানুষ যখন মারা যায়, তখন তার সকল আমলের দুয়ারই বন্ধ হয়ে যায়। তবে তিনটি আমল এর ব্যতিক্রম- এক. সদকায়ে জারিয়া, দুই. উপকারী ইলম, তিন. তার জন্যে দুআ করে এমন নেক সন্তান। -সুনানে নাসাঈ, হাদীস ৩৬৫১

২.(ক) শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও রূপান্তর👇

আল্লাহ বলেন,اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ، خَلَقَ الْإِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ، اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ، الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ، عَلَّمَ الْإِنْسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ- ‘পড়! তোমার প্রভুর নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্তপিন্ড হ’তে। পড়, আর তোমার পালনকর্তা বড়ই দয়ালু। যিনি কলমের মাধ্যমে শিক্ষা দান করেছেন। শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানতো না’ (‘আলাক্ব ৯৬/১-৫)।

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِم، ‘জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের উপর ফারয’

ইসলামে জ্ঞানার্জনকে প্রতিটি মুসলিমের জন্য ফরজ (বাধ্যতামূলক) করা হয়েছে। একটি আদর্শিক প্ল্যাটফর্মের জন্য শিক্ষাক্ষেত্রে করণীয় বিষয়গুলো হলো:

সমন্বিত শিক্ষা ব্যবস্থা👉 আধুনিক বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, অর্থনীতি ও রাজনীতির সাথে ইসলামী মূল্যবোধ ও নৈতিকতার সমন্বয় ঘটানো। শুধু তাত্ত্বিক শিক্ষা নয়, বরং বাস্তবমুখী ও নৈতিক শিক্ষার বিস্তার।

গবেষণা ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা👉 সমসাময়িক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমস্যার ইসলামী সমাধান খোঁজার জন্য উচ্চতর গবেষণা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা।

গণশিক্ষা ও সচেতনতা👇
কুরআনের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী 👉 হাদীসের দৃষ্টিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلّمَ الْقُرْآنَ وَعَلَمَه

তোমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ সেই, যে নিজে কুরআন শেখে এবং অন্যকে তা শেখায়। -সহীহ বুখারী, হাদীস ৫০২৭

👉 সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও তৃণমূল মানুষের কাছে মৌলিক শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়া, যাতে তারা তাদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে পারে।

(খ) সুস্থ ও আদর্শিক সংস্কৃতির বিকাশ👇

সংস্কৃতি হলো একটি জাতির দর্পণ। অপসংস্কৃতির ভিড়ে ইসলামী ভাবাদর্শের ভিত্তিতে একটি বিকল্প ও আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক বলয় তৈরি করা অপরিহার্য:

পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষা👉 পশ্চিমা বা বিজাতীয় সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ থেকে সমাজকে রক্ষা করে পারিবারিক বন্ধন, বড়দের শ্রদ্ধা, ছোটদের স্নেহ এবং প্রতিবেশীর অধিকারের মতো সুন্দর ইসলামী সামাজিক রীতিগুলো পুনরুজ্জীবিত করা।

শিল্প ও সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতা👉 কবি, লেখক, সাংবাদিক এবং বুদ্ধিজীবীদের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি করা, যারা তাদের কলম ও চিন্তার মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক চিন্তার জোয়ার তৈরি করবেন।

ডিজিটাল ও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম👉 আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের মনস্তত্ত্বে ইতিবাচক প্রভাব ফেলা এবং অপপ্রচারের বিরুদ্ধে যৌক্তিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা।

সারসংক্ষেপ👇
শিক্ষা যদি হয় একটি আদর্শিক আন্দোলনের মেরুদণ্ড, তবে সংস্কৃতি হলো তার প্রাণশক্তি। এই দুটি ক্ষেত্রে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারলে সমাজ ও রাষ্ট্রে গঠনমূলক পরিবর্তন আনা এবং চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হিসেবে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করা অনেক সহজ হয়।

৩.আত্মিক ও নৈতিক সংস্কার👇
পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হচ্ছে-
ﱡﭐ هُوَ الَّذِي بَعَثَ فِي الْأُمِّيِّينَ رَسُولًا مِنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلَالٍ مُبِينٍ ﱠ
‘তিনি উম্মীদের (নিরক্ষর জাতির) প্রতি তাদের মধ্য হতেই একজনকে পাঠিয়েছেন রাসূলরূপে, যিনি তাদের নিকট আল্লাহর আয়াত পাঠ করেন, তাদেরকে পরিশুদ্ধ করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন অথচ ইতোপূর্বে তারা স্পষ্ট গোমরাহিতে নিমজ্জিত ছিল।’ (সুরা জুম‘আহ: ২)

তাকওয়া ও জবাবদিহিতা👉 কল্যাণ রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি হলো প্রতিটি নাগরিকের, বিশেষ করে দায়িত্বরত ব্যক্তিদের জবাবদিহিতার মানসিকতা। আল্লাহর ভয় এবং আখিরাতে জবাবদিহিতার অনুভূতি ছাড়া কেবল আইন দিয়ে দুর্নীতি ও অন্যায় রোধ করা অসম্ভব।

চরিত্র গঠন👉 সততা, আমানতদারিতা এবং পরোপকারের মতো মৌলিক মানবিক গুণাবলি সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন।

৪. অর্থনৈতিক সমতা ও সামাজিক নিরাপত্তা👇

যাকাত ব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ👉 ধনী ও দরিদ্রের মধ্যকার ব্যবধান কমাতে যাকাতের সঠিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা অপরিহার্য।

সুদমুক্ত অর্থনীতি👉 শোষণমুক্ত সমাজ গঠনে সুদের বিকল্প হিসেবে অংশীদারিত্বমূলক (মুদারাবা ও মুশারাকা) কল্যাণমুখী অর্থনৈতিক মডেল চালু করা।

মানবাধিকার ও সংখ্যালঘুদের অধিকার👉 ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী অমুসলিম নাগরিক এবং দুর্বল শ্রেণির জান-মালের পূর্ণ নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।

নীতি নির্ধারণে প্রভাব👉 সরকারের নীতি বা আইন যেন ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের পরিপন্থী না হয়, সেজন্য চাপ প্রয়োগ করা।

অন্তর্ভুক্তিমূলক নেতৃত্ব👉 সমাজের সৎ, যোগ্য, এবং দক্ষ মেধাবী ও পরিশ্রমী শ্রেণীর মানুষদের একত্রিত করে একটি শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি করা।

৫. চাপ প্রয়োগকারী গোষ্ঠী হিসেবে ভূমিকা👇

নীতি নির্ধারণে প্রভাব👉 সরকারের নীতি, আইন এবং সামাজিক সংস্কারে ইসলামী মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটাতে নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে চাপ প্রয়োগ করা।

জনমত গঠন👉 সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় কোনো অন্যায়, দুর্নীতি বা অনৈসলামিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ, স্মারকলিপি প্রদান এবং গণস্বাক্ষর অভিযানের মাধ্যমে জনমত তৈরি করা।

গঠনমূলক সমালোচনা👉 রাষ্ট্রের ভুলত্রুটিগুলো কেবল বিরোধিতার খাতিরে নয়, বরং বিকল্প সুন্দর সমাধানসহ গঠনমূলকভাবে উপস্থাপন করা।

৬. মূল লক্ষ্য হাসিলে শক্তি সঞ্চয়👇
আল্লাহ তায়ালা বলেন 👉
وَاَعِدُّوۡا لَهُمۡ مَّا اسۡتَطَعۡتُمۡ مِّنۡ قُوَّةٍ

পবিত্র কুরআনের সূরা আল-আনফালের ৬০ নম্বর আয়াতের প্রথম অংশটি তিলাওয়াত করা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ আয়াতাংশের অর্থ হলো:

“আর তোমরা তাদের (শত্রুদের) মোকাবিলার জন্য তোমাদের সাধ্যানুযায়ী শক্তি প্রস্তুত করো…”

“ইসলামী ভাবাদর্শভিত্তিক নাগরিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি ও শক্তি সঞ্চয়”-এর প্রসঙ্গের সাথে এই আয়াতের গভীর যোগসূত্র রয়েছে। ইসলামী রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজ সংস্কারের দৃষ্টিতে এই আয়াতের আধুনিক ও কৌশলগত ব্যাখ্যা নিচে তুলে ধরা হলো:

(ক)👉 শক্তির ব্যাপক অর্থ 👇

ইসলামে ‘শক্তি’ বা ‘কূওয়াত’ (قُوَّة) বলতে কেবল শারীরিক বা সামরিক শক্তি বোঝায় না। সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে একটি নাগরিক প্ল্যাটফর্মের জন্য “সাধ্যানুযায়ী শক্তি” বলতে মূলত কয়েকটি ক্ষেত্রকে বোঝায়:

ঈমানী ও নৈতিক শক্তি👉 কর্মীদের সততা, নিষ্ঠা এবং চারিত্রিক দৃঢ়তা, যা যেকোনো প্রতিকূলতায় অবিচল থাকতে সাহায্য করে।

বুদ্ধিবৃত্তিক ও জ্ঞানতাত্ত্বিক শক্তি👉 বর্তমান যুগের রাজনীতি, অর্থনীতি, আইন এবং সমাজনীতি সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করা। আধুনিক চ্যালেঞ্জের বুদ্ধিদীপ্ত জবাব ও বিকল্প সমাধান প্রস্তুত রাখা।

সাংগঠনিক শক্তি👉 একটি সুশৃঙ্খল, গতিশীল এবং ঐক্যবদ্ধ দলীয় কাঠামো তৈরি করা।

অর্থনৈতিক শক্তি👉 পরনির্ভরশীলতা কাটিয়ে উঠে নিজস্ব হালাল ও টেকসই অর্থায়নের ব্যবস্থা করা।

যোগাযোগ ও মিডিয়া শক্তি👉 নিজস্ব গণমাধ্যম, তথ্যপ্রযুক্তি এবং শক্তিশালী সোশ্যাল মিডিয়া নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, যার মাধ্যমে জনমত গঠন করা যায়।

(খ)👉সাধ্যানুযায়ী প্রস্তুতি👇
আয়াতে বলা হয়েছে “মাত্তাতাতুম” (مَّا اسۡتَطَعۡتُمۡ) অর্থাৎ “তোমাদের সাধ্যানুযায়ী”। এর অর্থ হলো, ফলের আশা আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়ে নিজের সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে প্রস্তুতি নিতে হবে। একটি নিয়মতান্ত্রিক নাগরিক প্ল্যাটফর্মের ক্ষেত্রে এর অর্থ হলো—দেশের প্রচলিত আইন, সংবিধান এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের সীমার মধ্যে থেকে সর্বোচ্চ শান্তিপূর্ণ ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রস্তুতি নেওয়া।

(গ)👉কৌশলগত প্রতিরোধ ও প্রভাব👇

এই আয়াতের পরবর্তী অংশে বলা হয়েছে, এই শক্তির মূল উদ্দেশ্য হলো শত্রুদের মনে আল্লাহর ভয় ও ন্যায়বিচারের সমীহ তৈরি করা। একটি প্রেশার গ্রুপ বা চাপ সৃষ্টিকারী নাগরিক প্ল্যাটফর্মের ক্ষেত্রে এর অর্থ হলো—প্ল্যাটফর্মটি যখন জ্ঞান, নৈতিকতা এবং বিপুল জনসমর্থনে বলীয়ান হবে, তখন রাষ্ট্র বা কোনো অন্যায়কারী শক্তি সহজে সমাজ বা ইসলামের ক্ষতিকর কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারবে না। তারা এই প্ল্যাটফর্মের বুদ্ধিবৃত্তিক ও সামাজিক অবস্থানকে সমীহ করতে বাধ্য হবে।

সুতরাং, উল্লেখিত লক্ষ্য অর্জনে এই আয়াতটি একটি মূল চালিকাশক্তি ও রণকৌশল হিসেবে কাজ করে। এটি নির্দেশ করে যে, কোনো পরিবর্তন হঠাৎ আসে না, তার জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও ধাপে ধাপে শক্তি অর্জন করতে হয়।

(ঘ)👉 ইসলামে শক্তি অর্জন এবং নিজেদের যোগ্য ও মজবুত করে গড়ে তোলার ব্যাপারে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এটি কেবল শারীরিক শক্তি নয়, বরং ঈমানী, আত্মিক, মানসিক ও কৌশলগত শক্তিকেও নির্দেশ করে।

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ ও হাদিসের বাণী থেকে শক্তি অর্জনের গুরুত্ব স্পষ্ট জানা যায়:

(ঙ) 👉মুমিনের প্রধান গুণ👉 ঈমানী ও শারীরিক শক্তি👇

রাসূলুল্লাহ (সা.) একজন দুর্বল মুমিনের চেয়ে শক্তিশালী মুমিনকে বেশি পছন্দ করেছেন।

হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “দুর্বল মুমিনের চেয়ে শক্তিশালী মুমিন আল্লাহর নিকট অধিক উত্তম এবং প্রিয়। তবে উভয়ের মধ্যেই কল্যাণ রয়েছে…”
— [সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ২৬৬৪]

ইসলামী ভাবাদর্শে ‘শক্তি সঞ্চয়’ বলতে কেবল রাজনৈতিক বা বস্তুগত শক্তি নয়, বরং বহুমুখী সামর্থ্য অর্জনকে বোঝায়:

নৈতিক ও আত্মিক শক্তি👉 কর্মীদের মাঝে সততা, আমানতদারিতা, এবং খোদাভীতি (তাকওয়া) সৃষ্টির মাধ্যমে একটি আদর্শিক দল গঠন করা।

মেধা ও জ্ঞানভিত্তিক শক্তি👉 আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা, অর্থনীতি, আইন এবং প্রযুক্তিতে দক্ষ একদল বিশেষজ্ঞ তৈরি করা, যারা যেকোনো পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রের হাল ধরতে সক্ষম।

(চ)👉সামাজিক ও অর্থনৈতিক শক্তি👉 দাতব্য প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এবং স্বনির্ভর অর্থনৈতিক প্রজেক্টের মাধ্যমে সমাজের তৃণমূল মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করা।

(ছ)👉আপনার বক্তব্যে শক্তির প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। সমাজবিজ্ঞান ও রাজনীতির ভাষায় ‘শক্তি’ (قُوَّة) সঞ্চয়কে কয়েকটি উপায়ে ব্যাখ্যা করা যায়👇

বৌদ্ধিক ও আদর্শিক শক্তি👉শক্তিশালী যুক্তি, শিক্ষা, এবং গবেষণার মাধ্যমে নিজেদের আদর্শকে সমাজের সামনে গ্রহণযোগ্য করে তোলা।

সাংগঠনিক শক্তি👉 শৃঙ্খলাবদ্ধ কর্মী বাহিনী এবং তৃণমূল পর্যায়ে মজবুত নেটওয়ার্ক তৈরি করা।

নৈতিক শক্তি👉 নেতাদের সততা এবং আদর্শের প্রতি অবিচলতা, যা সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করতে সাহায্য করে।

জনশক্তি👉 একটি বড় অংশের মানুষের সমর্থন লাভ করা, যা যেকোনো সামাজিক বা রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রধান হাতিয়ার।

(জ)👉ধাপভিত্তিক অগ্রগতি👉 তাড়াহুড়ো না করে প্রথমে ব্যক্তি গঠন, তারপর পরিবার, সমাজ এবং সবশেষে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আদর্শিক পরিবর্তনের চেষ্টা করা।

হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
مَنْ دَلّ عَلَى خَيْرٍ فَلَهُ مِثْلُ أَجْرِ فَاعِلِهِ.
কেউ যখন কাউকে কোনো ভালো কাজের পথ দেখিয়ে দেয়, সে ব্যক্তি কাজটি করে যে সওয়াব পাবে, যে তাকে এর পথ দেখিয়ে দিল সেও অনুরূপ সওয়াব লাভ করবে। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৫১৩১

✍️
মাওলানা শাহ্ মোঃ মাসউদুর রহমান
সহ-সভাপতি আইএবি ময়মনসিংহ জেলা দক্ষিণ শাখা।

Facebook Comments Box
এ জাতীয় আরও খবর
© All rights reserved © 2023 Dhaka Post 71
Theme Customized By Shakil IT Park