1. admin@dhakapost71.com : admin :
  2. dhakapost71@gmail.com : dhakapost71 :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৫৩ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
কবিরহাটে ছোট ভাইয়ের জায়গা দখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন টাঙ্গাইলে শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার ইউএনও গোলাম রব্বানী সরকারকে নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে একটি মহল, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি। মাধবপুর পৌরসভার উন্নয়ন তহবিল থেকে ১ নম্বর ওয়ার্ডের বটগাছা মোড়া কবরস্থানে বরাদ্দ, এলাকাবাসীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ। পোরশায় জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা সরকারি হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা দূর করতে প্রয়োজন পরিকল্পিত কর্মসূচি – সাভারে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বরগুনা আলিয়া মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুর রশিদ ভূঁইয়ার মৃত্যুতে ওলামা দল নেতা আব্দুল মোতালেবের শোক। প্রতারক চক্রের ফোন নম্বর শনাক্ত, আর্থিক লেনদেন না করতে জনসাধারণকে সতর্ক করলেন বেনাপোল পোটথানার ওসি শহীদ তিতুমীর।। পোরশায় স্থানীয়দের সহায়তায় ৩ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, ৩২ পিস ট্যাপেন্টাডল জব্দ নারীর স্বাস্থ্যসুরক্ষা ও স্বাবলম্বিতা একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম ভিত্তি: চীফ হুইপ নুরুল ইসলাম মণি।

অবুঝ শিশু কলির পাষন্ড হত্যাকারী রিমান্ডে পুলিশের কাছে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন

  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৪৪ বার পঠিত

স্টাফ রিপোর্টার :

পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলুনিয়া গ্রামের ১০ বছরের শিশু শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার পাষন্ড খুনি মোস্তফা কামাল রিমান্ডে পুলিশের কাছে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। পুলিশের ভাষ্য, মাগরিবের নামাজের জায়নামাজ থেকে ওঠার পরই শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয় এবং এর প্রায় ১৫ মিনিটের মধ্যে তাকে হত্যা করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শিশুটিকে খোঁজার কাজেও অংশ নেন তিনি। পুলিশ বলছে, ঘটনার পর রক্তমাখা শরীর নিয়ে গোসল করেন মোস্তফা এবং রাত ১০টার দিকে আবার তার মুদি দোকান খোলেন । রিমান্ডে তিনি ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। দুজন মিলে শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা বলেছেন তিনি। তবে অপর আসামি ইয়াসিন আলী ধর্ষণ ও হত্যায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, হত্যার পর মোস্তফা তার কাছে সহযোগিতা চেয়েছিলেন এবং তিনি শুধু ওই কাজে সহযোগিতা করেছেন শুধু। গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর নিখোঁজ হয় স্থানীয় আল ফালাহ একাডেমীর চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি। সাতদিন পর ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে এ ঘটনায় মোস্তফা কামাল ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াসিন আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই বেনু রায় পিপিএম বলেন, মরদেহ উদ্ধারের দিনই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযুক্ত দুজনকে শনাক্ত করা হয়। তাদের আটক করার সময় মোস্তফার আচরণেও পুলিশের সন্দেহ তৈরি হয়। তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার নাম সামনে আসে। এরপর স্থানীয় একজন মেম্বারকে বলা হয়, তাকে গিয়ে দেখার জন্য। মেম্বার গিয়ে তার এক হাত ধরার পর তিনি কাঁপতে শুরু করেন। পরে পুলিশ গিয়ে তার বুকে কান দিয়ে বিষয়টি বুঝতে পারেন এবং তাকে তাৎক্ষণিক আটক করা হয়। বেনু রায় বলেন, এরপর তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যায়। ঘটনার পর কয়েক দিন ধরে মোস্তফা নিহত শিশুটির বাবার সঙ্গে মিশে ছিলেন। কলির পরিবারের সঙ্গে গভীর রাতে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কলির নিখোঁজের বিষয়ে খোঁজখবরও রাখতেন। এমনকি কলির সন্ধান ও বিচারের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ ও মানববন্ধনেও তিনি অংশ নিয়েছেন। এছাড়া মরদেহ উদ্ধারের সময়ও সাংবাদিক ও পুলিশের পাশেই অবস্থান করছেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার দিন সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে কলি তার ভাইকে নিয়ে মোস্তফার দোকানে চিপস কিনতে যায়। ওই সময় মোস্তফা তার মোবাইল ফোনে শিশুটির একাধিক অসঙ্গতিপূর্ণ অঙ্গভঙ্গিতে ছবি তোলেন। পরে ফোনটি পরীক্ষা করে এসব ছবি উদ্ধার করা হয় বলে দাবি পুলিশের। এরপর সন্ধ্যার সময় স্থানীয় সাহেব আলীর ছেলের সঙ্গে মোস্তফার দোকানের সামনে কলি বসেছিলেন। পরে সাহেবের স্ত্রী খুশি খাতুন তার সন্তানকে নিয়ে বাড়িতে চলে যান। এসময় তিনি মোস্তফাকে মাগরিবের নামাজ আদায় করতে দেখে যান। কলিও দোকানের সামনে বেঞ্চের ওপর বসেছিল। নামাজ পরেই তাকে মুদি দোকানের পিছনের একটি কক্ষে নিয়ে কয়েক দফা ধর্ষণ করেন। এর ১৫ মিনিটের মধ্যেই তাকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্যসরোধে হত্যা নিশ্চিত করেন তিনি। তদন্তকারী কর্মকর্তা বেনু রায় আরও বলেন, মোস্তফার মোবাইল ফোনে তার দোকানে আসা বিভিন্ন উঠতি বয়সী ছোট মেয়েরও আপত্তিকর ভঙ্গিতে তোলা অসংখ্য ছবি পাওয়া গেছে। পুলিশের ভাষ্য, এতে তার আগের আচরণ সম্পর্কেও তদন্তকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এসেছে। তিনি আগে থেকেই দুশ্চরিত্র ব্যক্তি। তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, মামলার তদন্ত কাজ প্রায় ৯৯ শতাংশ শেষ হয়েছে। এখন শুধু ডিজিটাল ফরেনসিকসহ কিছু পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া বাকি। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিহত শিশুর সব আলামত রাজশাহী সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়ার পর বোঝা যাবে ধর্ষণের ঘটনায় দুজন জড়িত ছিলেন, নাকি একজন। এরপর দুই আসামির ফরেনসিক প্রতিবেদনও পরীক্ষা করা হবে। বেনু রায়ের তথ্য অনুযায়ী, মোস্তফা বলছে দুজন মিলে ধর্ষণ করেছে। আর ইয়াসিন বলছে, সে ধর্ষণ ও হত্যার কোনোটির সঙ্গেই জড়িত নয়। হত্যার পর মোস্তফা সহযোগিতা চেয়েছিল, তাই সে কিছুটা সহযোগিতা করেছে। ফরেনসিক প্রতিবেদনে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে। তদন্ত কর্মকর্তা জানান, দুটি ভিন্ন ব্যক্তির বীর্যের আলামত পাওয়া গেলে এবং ফরেনসিক পরীক্ষায় তা নিশ্চিত হলে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত আদালতে দাখিল করা সম্ভব হবে। এতো দ্রুত চাঞ্চল্যকর এ মামলার ডিটেকটিভ হওয়ায় পুলিশের বড় একটি সাফল্য বলে মনে করেন তিনি। এর আগে পুলিশ জানিয়েছিল, কলিকে ফুসলিয়ে মোস্তফার মুদি দোকানের পেছনের একটি কক্ষে নেওয়া হয়। সেখানে ধর্ষণের পর তাকে শ্যসরোধে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ বস্তাবন্দি করে গোপন করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু মরদেহের দুর্গন্ধে ও কুকুর তাড়া করলে দৌড়ে পালিয়ে যাওয়াতে মরদেহ বাইরে নিতে পারেননি। পরদিন মরদেহের দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়রা টের পেয়ে পুলিশের খবর দেন। পুলিশ গিয়ে টুকরো টুকরো মরদেহ উদ্ধার করে। পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত ও ডাক্তারি পরীক্ষায় ধর্ষণ প্রমাণ হয়। এরপর দুজনকে হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের কাছে ৫ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ। ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করলেও দ্রুত স্বীকার করায় রিমান্ড আগেই শেষ হয়েছে বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তা। এ ঘটনায় গত তিনদিন ধরে অভিযুক্ত মোস্তফার বাড়িটি ভাঙচুর ও লুটপাট করে বিক্ষুব্ধ জনতা। প্রায় ৮০ শতাংশ বাড়িটি ভাঙচুর হয়েছে। ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। এছাড়াও সাতদিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের দাবিতে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পাবনা আদালত ও ডিসি অফিস ঘেরাও করে নিহতের স্বজন ও সাধারণ জনগণ। মামলার কালক্ষেপণ হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা।

Facebook Comments Box
এ জাতীয় আরও খবর
© All rights reserved © 2023 Dhaka Post 71
Theme Customized By Shakil IT Park