1. admin@dhakapost71.com : admin :
  2. dhakapost71@gmail.com : dhakapost71 :
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪১ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
পোরশায় বিভিন্ন পূজা মন্ডপে পরিদর্শন করলেন সংসদ সদস্য মোঃ- মোস্তাফিজুর রহমান বরগুনার বেতাগীতে দীর্ঘ ৬ দশকেও মেলেনি বাবার পরিচয়, পৈতৃক স্বীকৃতির অপেক্ষায় বাবুল খান। পোরশায় রিং জাল বসানোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, মাথায় আঘাতে যুবকের মৃত্যু শারদীয় দুর্গা পূজা উপলক্ষে সাভার উপজেলার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মোঃ তমিজ উদ্দিন পোরশায় ৩০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ একজন গ্রেপ্তার কালিহাতীতে যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দেয়ালে ধাক্কা ! নিহত ২ এ বছর আনন্দ উৎসব বেশি-পূজা মন্ডপ পরিদর্শনকালে এম এ সালাম বরগুনার বেতাগীতে মাদক-জুয়া ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, তিন বছরে উন্নয়নের সব কাজ সম্পন্নের লক্ষ্য: চীফ হুইপ নুরুল ইসলাম মণি। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সৌন্দর্যবর্ধন ও সবুজায়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী বাটিয়াইউনিয়ন চেয়ারম্যান প্রার্থী নূর উল্যাহ সাহাব উদ্দিনের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা

বরগুনার বেতাগীতে দীর্ঘ ৬ দশকেও মেলেনি বাবার পরিচয়, পৈতৃক স্বীকৃতির অপেক্ষায় বাবুল খান।

  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১২ বার পঠিত

মাওলানা মোঃ আব্দুল মোতালেব,
স্টাফ রিপোর্টার।

বয়স ৬৩ বছর। জন্মদাতা বাবার নাম জানেন, জানেন পৈতৃক বাড়ির ঠিকানাও। তবু পরিবারের স্বীকৃতি ও পিতৃপরিচয়ের দাবি প্রতিষ্ঠা করতে পারছেন না বরগুনার বেতাগী উপজেলার বাবুল খান। শৈশবে মায়ের সঙ্গে জন্মভূমি ছেড়ে খুলনায় চলে যাওয়ার পর কেটে গেছে ছয় দশকের বেশি সময়। মায়ের মৃত্যুর পর বাবার পরিচয় খুঁজতে ফিরে এসেছেন পৈতৃক গ্রাম চান্দখালীতে। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, পরিচয়ের স্বীকৃতি চাইতে গিয়ে উল্টো অপমানের শিকার হতে হয়েছে তাঁকে।

বাবুল খানের বাড়ি বেতাগী উপজেলার কাজীরাবাদ ইউনিয়নের চান্দখালী গ্রামে। তাঁর দাবি, তাঁর বাবা আমির খান। বাবার পরিচয় ও পারিবারিক স্বীকৃতি পাওয়ার আশায় তিনি দুইবার ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ওয়ারিশ সনদ সংগ্রহ করেছেন। এরপরও নিজের পিতৃপরিচয় প্রতিষ্ঠার লড়াই শেষ হয়নি বলে জানান তিনি।

বাবুল খানের ভাষ্য, শৈশবে জীবিকার তাগিদে মায়ের সঙ্গে বরগুনা ছেড়ে খুলনায় চলে যেতে হয় তাঁকে। তখন বাবার পরিচয় বোঝার মতো বয়স হয়নি। কিছুটা বড় হওয়ার পর মায়ের কাছে বাবার পরিচয় জানতে চাইতেন। পরে জানতে পারেন, তাঁর বাবার নাম আমির খান এবং তাঁদের বাড়ি বরগুনার বেতাগী উপজেলার কাজীরাবাদ ইউনিয়নের চান্দখালী গ্রামে।

মাত্র ১৩ থেকে ১৪ বছর বয়সে মাকে হারান বাবুল। এরপর খুলনায় নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠেন তিনি। মায়ের মৃত্যুর পর বাবার পরিচয় ও নিজের শিকড় খুঁজে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা আরও বাড়ে।

দীর্ঘ অপেক্ষার পর ২০১০ সালের দিকে বাবার পরিচয় ও পরিবারের সন্ধানে খুলনা থেকে চান্দখালীতে ফিরে আসেন বাবুল খান। তবে তাঁর অভিযোগ, পৈতৃক বাড়িতে গিয়ে প্রত্যাশিত স্বীকৃতির পরিবর্তে লাঞ্ছনার শিকার হন তিনি। পরিবারের কয়েকজনের কাছ থেকে অপমানজনক কথাও শুনতে হয়েছে তাঁকে।

বাবুল খান বলেন, ‘আমার মা ছিলেন বাবা আমির খানের দ্বিতীয় স্ত্রী। বাবার প্রথম স্ত্রীর ঘরে একটি মেয়ে ছিল। বাবা অসুস্থ হয়ে পড়লে সৎ বোনের অত্যাচার থেকে আমাকে রক্ষা করতে অন্য চাচাদের পরামর্শে মা ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হন। পরে বাবার পরিচয়ের জন্য দুইবার ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ওয়ারিশ সনদ সংগ্রহ করেছি। তারপরও আমার সৎ বোনের সন্তানদের কাছ থেকে “জারজ সন্তান” বলে গালাগাল শুনতে হয়েছে।’

বাবুল খানের দাবির পক্ষে কথা বলেছেন তাঁর চাচাতো ভাই মোজাম্মেল খান। তিনি বলেন, বাবুল খান আমির খানের দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তান। তাঁর জন্মের পর পরিবারের পক্ষ থেকে হুমকির মুখে পড়ে তাঁকে নিয়ে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন তাঁর মা। দীর্ঘ বছর পর ফিরে এসেও বাবার পরিচয় পাচ্ছেন না তিনি। বাবুল যে আমির খানের ছেলে, তা তাঁরা জানেন। বাবার পরিচয় পাওয়া তাঁর অধিকার।

আরেক চাচাতো ভাই আবু খানও বাবুল খানের দাবিকে সমর্থন করেছেন। তিনি বলেন, বাবুল খান আমির খানের ছেলে। তাঁর জন্মের পর তাঁর মাকে সৎ মেয়ের অত্যাচারের মুখে পড়তে হয়েছিল। এ কারণে তাঁদের পরামর্শে একপর্যায়ে তাঁকে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে হয়। এখন বাবুল পৈতৃক ভিটায় ফিরে এসেছেন। কিন্তু বাবার পরিচয় থেকে বঞ্চিত রয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। বাবুল যেন বাবার পরিচয় ফিরে পান এবং পৈতৃক ভিটায় নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারেন, সেটিই তাঁদের প্রত্যাশা।

৬৩ বছর বয়সে বাবুল খানের চাওয়া, নিজের জন্মপরিচয়ের স্বীকৃতি পাওয়া এবং পরিবারের সদস্য হিসেবে সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকা। তাঁর দাবি ও স্বজনদের বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করে বিষয়টির ন্যায়সংগত সমাধান চান তিনি।

Facebook Comments Box
এ জাতীয় আরও খবর
© All rights reserved © 2023 Dhaka Post 71
Theme Customized By Shakil IT Park