
মোঃ আরিফুল হক সাহিন
পোরশা (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
নওগাঁর পোরশায় পূজার ছুটিতে ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে এক পরিবারের সদস্যদের দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় দস্যুতার কাজে ব্যবহৃত একটি ধারালো হাসুয়া ও একটি চাকু উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পোরশা থানার স্থায়ী বাসিন্দা বনিতা (৩০), তাঁর স্বামী স্বপন মিনজ, সন্তান শিবরাজ (১৩) ও যুবরাজ (৩), সুস্মিতা মিনজ (১৯) এবং ভাগ্নি শ্যামলী (২৪) পূজার ছুটিতে ঢাকা থেকে বিআরটিসি বাসযোগে পোরশা উপজেলার পূর্বগ্রাম এলাকার নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন।
গত ১৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ৩টা ২০ মিনিটে তাঁরা পোরশা থানাধীন ফুলতলা ব্র্যাক অফিসের সামনে বাস থেকে নেমে পায়ে হেঁটে বাড়ির দিকে রওনা দেন। পরে রাত আনুমানিক ৩টা ৩০ মিনিটে ফুলতলা ব্র্যাক অফিস থেকে প্রায় ১৫০ গজ পশ্চিমে সরাইগাছী-নিতপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে ওবাইদুল্লাহ শাহের ব্রয়লার মুরগির খামারের পূর্ব পাশে গ্রামীণ রাস্তায় পৌঁছালে অজ্ঞাতনামা ৩-৪ জন ছিনতাইকারী তাঁদের পথরোধ করে।
এ সময় ছিনতাইকারীরা গলায় হাসুয়া ধরে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তাঁদের কাছ থেকে একটি শাড়ির ব্যাগ, তিন আনা ওজনের একটি স্বর্ণের কানের দুল, একটি রুপার পায়ের নূপুর এবং একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
পুলিশের দ্রুত অভিযান
ঘটনার খবর পাওয়ার পর নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম দ্রুত মামলা গ্রহণ, ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারের জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন।
পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় সহকারী পুলিশ সুপার, সাপাহার সার্কেল অরূপ রতন সরকার এবং পোরশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে পোরশা থানা পুলিশের একটি আভিযানিক দল তদন্ত শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিশ্বস্ত সোর্সের তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শনাক্ত করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় ১৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ ভোর আনুমানিক ৫টা ৩০ মিনিটে সাপাহার থানাধীন দিঘীরহাট এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— নওগাঁর সাপাহার উপজেলার নিশ্চিন্তপুর (দিঘীপাড়া) গ্রামের মৃত আলাউদ্দীনের ছেলে মো. জাহাঙ্গীর (৩৮) এবং নওগাঁ সদর উপজেলার আরজি নওগাঁ (মৃধাপাড়া) এলাকার মো. মহব্বতের ছেলে মো. সুমন ওরফে শাহিন (৩০)।
অভিযানকালে তাঁদের কাছ থেকে দস্যুতার কাজে ব্যবহৃত একটি ধারালো হাসুয়া ও একটি ধারালো চাকু উদ্ধার করে জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে মামলার বাদী ও ভুক্তভোগীরা গ্রেপ্তারকৃত দুজনকে দেখে ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বলে শনাক্ত করেন।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে মাদক, চুরি, ডাকাতি ও দস্যুতাসহ বিভিন্ন অপরাধে সাতটি এবং সুমন ওরফে শাহিনের বিরুদ্ধে একই ধরনের অপরাধে ১৩টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
এ ঘটনায় জড়িত অন্য অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে নওগাঁ জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।