
মোঃ শহিদুল ইসলাম
নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনাঃ-
অন্ধকার জগত ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অঙ্গীকার করেছিলেন তিনি। কিন্তু ঘাতকদের নির্মম বুলেটে থেমে গেল সেই চেষ্টা। খুলনার দিঘলিয়ায় চরমপন্থি সংগঠন ‘পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (এমএল-জনযুদ্ধ)’–এর সাবেক আঞ্চলিক নেতা নাসিমুল গনি ওরফে নাসিম (৫৫) হত্যাকাণ্ডের ৪ দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখনও হত্যার মূল মোটিভ উদঘাটন করতে পারেনি। অধরাই থেকে গেছে কিলিং স্কোয়াডের সদস্যরা। অপরাধীদের গ্রেফতারে পুলিশের এই স্থবিরতায় স্থানীয় জনমনে তীব্র শঙ্কা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মামলা দায়ের ও সম্ভাব্য কারণ:
ঘটনার পর নিহত নাসিমের স্ত্রী সেলিনা খাতুন মুক্তি বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৭–৮ জনকে আসামি করে দিঘলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এজাহারে অজ্ঞাত আসামিদের পাশাপাশি জীবদ্দশায় নাসিমকে হত্যার হুমকি দেওয়া চার ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ এবং অন্ধকার জগতের পুরোনো শত্রুতাকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, খুলনার দৌলতপুর এলাকার জুম্মন শেখ, মোঃ রায়হান মোল্লা, রিপন ওরফে এ্যালকো রিপন , শরিফুল এই ৪ জনের সাথে
নাসিমের তীব্র বিরোধ ছিল এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রাণনাশের আশঙ্কায় ভুগছিলেন।
জনঅসন্তোষ ও প্রশাসনিক রদবদল:
হত্যাকাণ্ডের ৪ দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ কাউকেই গ্রেফতার করতে পারেনি। সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। এই অসন্তোষের জের ধরে হত্যাকাণ্ডের পরদিনই দিঘলিয়া থানার (ওসি) হাওলাদার সানোয়ার হোসাইন মাসুমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে পুলিশ পরিদর্শক অরূপ কুমার চৌধুরীকে। তবে থানা প্রধানের রদবদল হলেও তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীরা। যদিও পুলিশের দাবি, তদন্ত কাজ জোরদার করা হয়েছে এবং দ্রুতই মূল রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।
যেভাবে ঘটে হত্যাকাণ্ড:
উল্লেখ্য, গত রোববার (৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ফরমাইশখানা এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে তৈয়বের চা দোকানে বসেছিলেন নাসিম। এ সময় ভ্যানে করে আসা একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তাঁকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি বর্ষণ করে। ঘাতকদের ছোড়া তিনটি গুলি সরাসরি তাঁর মাথায় বিদ্ধ হয়। এরপর দুর্বৃত্তরা ফাঁকা গুলি ছুড়ে বীরদর্পে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত নাসিম ফরমায়েশখানা এলাকার মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে। সোমবার (৫ অক্টোবর) ময়নাতদন্ত শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হলে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।
দিঘলিয়া থানার নবনিযুক্ত অফিসার ইনচার্জ অরূপ কুমার চৌধুরী জানান, মামলা হয়েছে আসামিদের অবস্থান শনাক্ত ও গ্ৰেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
হত্যার সাথে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আজিজুর
রহমান
নির্বাহী সম্পাদক : মাহফুজুর
রহমান