
আকতার হোসেন,
স্টাফ রিপোর্টার
সাভার উপজেলার প্রতিটি মানুষের জন্য উপজেলা ভিত্তিক যে সকল সেবা আছে তা সহজলভ্য করা হবে । উপজেলার যে কোন সেবা পেতে কোন মানুষকে হয়রানির শিকার হতে হবে না । কোন দালাল ধরতে হবে না । সেই সাথে সকল বিষয়ে নিশ্চিত করা হবে জবাবদিহিতা । এমন কথাগুলোই বলছিলেন ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্র দলের সভাপতি ও আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সাভার উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ তমিজ উদ্দিন । যুব সমাজকে সাথে নিয়ে সাভার উপজেলা থেকে মাদক, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাং নির্মূল করতে সর্বোচ্চ চেষ্টার কথা জানিয়েছেন তিনি । ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এই তমিজ উদ্দিন । এর ফলে তিনি গুমের স্বীকার হয়েছিলেন । বর্তমান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ঐ সময়ে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করেন এবং তারই ফলস্বরূপ পরের দিন তমিজ উদ্দিনকে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয় । জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখ সারির একজন বীর যোদ্ধা তরুণ এই ছাত্র নেতা ।
রাজনীতির কলুষিত চর্চা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধারার এক রাজনীতি উপহার দিয়েছেন মোঃ তমিজ উদ্দিন । দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তাঁর বিরুদ্ধে নেই কোনো প্রকার মাদক ব্যবসায় বা মাদক ব্যবসায় নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ, অন্যায়, অপকর্ম, চাঁদাবাজি কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের ন্যূনতম অভিযোগ ।
ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ডাঃ দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর অত্যন্ত আস্থাভাজন, বিশ্বস্ত ও প্রিয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত মোঃ তমিজ উদ্দিন । ডাঃ দেওয়ান মোঃ সালাউদ্দিন বাবুর সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা ও সার্বিক সমর্থনে তমিজ উদ্দিন সাভারের প্রতিটি ঘরের তরুণ সমাজকে সুসংগঠিত ও একতাবদ্ধ করে সমাজকে আলোকিত করার চেষ্টা করছেন ।
রাজনীতিতে অনেকের পথচলা শুরু হয় পারিবারিক ঐতিহ্য, সামাজিক বাস্তবতা কিংবা ব্যক্তিগত কোনো ঘটনার মধ্য দিয়ে । তবে তমিজ উদ্দিনের রাজনৈতিক পথচলার গল্পে রয়েছে শৈশবের রাজনৈতিক অনুরাগ, আদর্শের প্রতি বিশ্বাস এবং রাজনীতির প্রতি এক অদৃশ্য ভালোবাসা । সব সময় বুকে ধারণ করেছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নীতি ও আদর্শ । দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক জীবনে আন্দোলন-সংগ্রাম এবং বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজ অবস্থানে ছিলেন সব সময় অটুট । নীতি এবং আদর্শের প্রশ্নে কাউকে কখনও তিনি ছাড় দেননি । তমিজ উদ্দিনের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় ঘটনাগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে তিনি মোট তিনবার পুলিশের হাতে আটক হন এবং দুইবার কারাবরণ করেন । একবার চুয়াত্তর দিন এবং আরেকবার বিয়াল্লিশ দিন তিনি কারাগারে ছিলেন । তার নামে মোট বাইশটি মামলা হয়েছে ।
কেন এবং কিভাবে এই তরুণ বয়সে সাভার উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচন করা তার জন্য সহজ হবে ? এই বিষয়ে জানতে চাইলে মোঃ তমিজ উদ্দিন বলেন,
" আমি দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সাথে জড়িত । শুধুমাত্র রাজনীতি করার কারণে আমার নামে বিস্ফোরক মামলা সহ মোট বাইশটি মামলা হয়েছে । আমি দুইবার কারাবরণ করেছি । অনেক জুলুম অত্যাচারের স্বীকার হয়েছি । এর ফলে বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ সহ স্হানীয় নেতাকর্মীরা আমাকে ভালো করে চিনেন এবং আমার সম্পর্কে জানেন । বিগত দিনে বিএনপির জন্য আমার ত্যাগের কথা সবারই জানা । বর্তমানে আমি ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্র দলের সভাপতি । সাভার উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন এবং ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে আমার সমর্থক ও কর্মী রয়েছে । বিভিন্ন ইউনিয়নে রয়েছে ছাত্র দলের কমিটি । অনেক ইউনিয়নের ওয়ার্ড গুলোতেও রয়েছে ছাত্র দলের কমিটি । আর এই কমিটির প্রতিটি সদস্য নির্বাচনী কাজ করার জন্য মুখিয়ে আছে । সাভার পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে রয়েছে আমার কর্মী , সমর্থক ও নিরলসভাবে কাজ করার জন্য অনেক কর্মী । এর ফলে আমার নির্বাচনে এজেন্ট,পোলিং এজেন্ট সহ নির্বাচনী কাজে অনেক বড় ধরনের সহযোগিতা আমি তাদের কাছ থেকে পাবো । নির্বাচনী সকল ধরনের প্রচার প্রচারণা আমি সহজেই করতে পারবো । আমি ছাত্র রাজনীতি করি আমার কোন কালো টাকা নেই । আমি কোথাও থেকে কোন চাঁদাবাজি কিংবা অন্য কোন অবৈধ উপায়ে টাকা উপার্জন করি না । সাভার উপজেলার সাধারণ মানুষের চাহিদা এবং তাদের সেবা করার জন্যই আমি নির্বাচন করবো । বলতে পারেন আমি আপামর জনসাধারণের ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী । এই সাভার উপজেলার ছাত্র , কৃষক, শ্রমিক, দিনমজুর এবং খেটে খাওয়া মেহনতী মানুষের প্রার্থী আমি এবং তারাই আমার মূল শক্তি । আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি যদি সাভার উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হতে পারি সাভার উপজেলার সকল শ্রেণী - পেশার মানুষের জন্য আমার দরজা চব্বিশ ঘণ্টা খোলা থাকবে এবং যে কোন বিষয়ে আমি সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ " ।
চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের আদর্শ থেকে কখনও সরে যাননি তিনি । দলের সিদ্ধান্ত ও দলীয় আদর্শের প্রতি দৃঢ়ভাবে অবিচল থাকাটাই ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা । আর সেই সকল পরীক্ষায় তিনি পাশ করেছেন খুব ভালো করে । মানুষের জন্য কাজ করা এবং নিজের রাজনৈতিক আদর্শের প্রতি আস্থা রাখাই তাঁর কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ।
রাজনৈতিক নেতৃত্বের উন্নয়ন ও সুশাসনের বার্তা তৃণমূল মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া, অন্যায়-জুলুমের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া, তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখা, আইটি ও কর্মমুখী শিক্ষার প্রসার এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখাই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য ।সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে সব সময় পাশে থাকতে চান তিনি । মানুষের যে কোন বিপদে তাদের পাশে দাঁড়ানোই তাঁর জন্য অনেক আনন্দের । মানুষের সেবা করা তার রাজনৈতিক জীবনের মূল উদ্দেশ্য । জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মানুষের পাশে থেকে তাদের সেবা করতে চান মোঃ তমিজ উদ্দিন ।
বর্তমানে সাভারের সর্বস্তরের মানুষ মোঃ তমিজ উদ্দিনের দলের প্রতি ত্যাগ ও আনুগত্য, সততা,ন্যায় পরায়নতা, স্বচ্ছতা, মানুষের জন্য ত্যাগের মানসিকতা , মানুষের সেবা করার প্রবল ইচ্ছে সব কিছু মিলিয়ে তাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে এক গণজোয়ার । ত্যাগের রাজনীতি, ক্লিন ইমেজ ও অদম্য সাহসিকতার এক জীবন্ত প্রতীক হিসেবে সাধারণ মানুষ তাঁকে সাভার উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে পেতে চায় ।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আজিজুর
রহমান
নির্বাহী সম্পাদক : মাহফুজুর
রহমান