
বিশেষ প্রতিনিধি:
রুহুল আমীন খান (উজ্জ্বল)।
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা ভূমি অফিসে জনবল সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি), কানুনগো ও সার্ভেয়ারসহ গুরুত্বপূর্ণ ১৮টি পদের মধ্যে ১১টিই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। এতে প্রয়োজনীয় ভূমিসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ফলে সেবাপ্রত্যাশীদের ভোগান্তিও দিন দিন বাড়ছে।
উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদটি বর্তমানে শূন্য রয়েছে। মো. আনিসুল ইসলাম এ পদে যোগ দেওয়ার মাত্র ২০ দিনের মাথায় বদলি হয়ে যান। কানুনগো পদটি ২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর থেকে শূন্য। অন্যদিকে সার্ভেয়ার শহিদুল ইসলাম প্রায় চার মাস আগে পদোন্নতি পেয়ে কমলগঞ্জে যোগ দেওয়ার পর থেকে এ পদটিও শূন্য রয়েছে।
বর্তমানে বাহুবল ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার জোনায়েদ আহমেদ সপ্তাহে এক দিন মাধবপুরে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। এতে নিয়মিত ভূমি জরিপসহ সংশ্লিষ্ট কাজগুলো পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এর পাশাপাশি চেইনম্যান, জারিকারক, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক এবং নাজির কাম ক্যাশিয়ারসহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য রয়েছে।
শুধু উপজেলা ভূমি অফিসেই নয়, ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলোতেও জনবল সংকট প্রকট। মনতলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ছয়টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র দুই কর্মকর্তা ও দুজন এমএলএসএস। কালিকাপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ছয়টি পদের মধ্যে চারটিই শূন্য। মাধবপুর সদর ও নোয়াপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দুটি করে পদ শূন্য রয়েছে। আদাঐর ইউনিয়ন ভূমি অফিসেও কর্মরত আছেন মাত্র একজন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ও একজন এমএলএসএস।
মনতলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা মজিবুর রহমান বলেন, তাঁর কার্যালয়ের আওতায় ৯৯টি মৌজার দায়িত্ব রয়েছে। এর পাশাপাশি অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলন বন্ধে অভিযান পরিচালনা এবং বিভিন্ন মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিতে হয়। পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।
কালিকাপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা লোকমান হোসেন বলেন, এলাকায় শিল্পাঞ্চল গড়ে ওঠায় ভূমি-সংক্রান্ত কাজের চাপ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হচ্ছে। অনেক সময় ব্যক্তিগত প্রয়োজনেও ছুটি নেওয়া সম্ভব হয় না।
মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, উপজেলা ভূমি অফিসের জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পত্রও দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাধবপুরে শিল্পায়ন ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে ভূমি-সংক্রান্ত কাজের পরিমাণও বাড়ছে। এ অবস্থায় দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণ করা না হলে ই-নামজারিসহ ডিজিটাল ভূমিসেবার কার্যক্রম আরও ধীরগতির হতে পারে। এতে ভূমি-সংক্রান্ত সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় সেবাপ্রত্যাশীদের দাবি, জনবল সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এবং শূন্য পদগুলোতে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া জরুরি। এতে একদিকে যেমন সরকারি ভূমিসেবার গতি বাড়বে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের সময় ও ভোগান্তি দুটিই কমবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আজিজুর
রহমান
নির্বাহী সম্পাদক : মাহফুজুর
রহমান