
বিশেষ প্রতিনিধি:
রুহুল আমীন খান (উজ্জ্বল)।
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ধনকুড়া গ্রামে টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে মারুফা নামে এক নারীর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও টাকা পরিশোধ না করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আদালতে মামলা হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে বলে অভিযোগকারী পক্ষ জানিয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার থেকে পাঁচ বছর আগে মারুফা তার ছেলেকে ইতালি পাঠানোর কথা বলে জামাল আহমেদের কাছ থেকে টাকা নেন। টাকা নেওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণ করা হয় বলে অভিযোগ। একপর্যায়ে টাকা ফেরত না পেয়ে জামাল আহমেদ আদালতের শরণাপন্ন হন।
অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, এ ঘটনায় দায়রা মামলা নং ৫৮৫/২০২৪ এবং সি.আর মামলা নং ৬৭১/২০২৩-এর উল্লেখ রয়েছে। মামলার পর মারুফার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয় এবং পরোয়ানার কপি মাধবপুর থানায় পৌঁছেছে বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে মামলার নথি ও পরোয়ানার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
এদিকে, মারুফার চাচাতো ভাই রাসেল তালুকদারকে বিষয়টি মীমাংসায় সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। মারুফা কয়েক দিনের মধ্যে টাকা পরিশোধ করবেন—এমন আশ্বাসের পর রাসেল তালুকদার বিষয়টির জিম্মাদারি নেন বলে অভিযোগকারী পক্ষের দাবি। পরবর্তীতে মারুফা অসুস্থ স্বামীকে বাড়িতে রেখে অন্যত্র চলে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, মারুফা বর্তমানে মাধবপুর উপজেলার ৮ নম্বর বুল্লা ইউনিয়নের ধনকুড়া গ্রামে অবস্থান করছেন। ওই বাড়িটি তার বাবার দেওয়া এবং বর্তমানে তার নিজের নামে রয়েছে বলেও স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগকারী পক্ষ আরও দাবি করেছে, দীর্ঘদিন ধরে টাকা ফেরত না পাওয়ায় তারা আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে আদালতের জারি করা পরোয়ানা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এলাকাবাসীর কয়েকজনের অভিযোগ, মারুফার সঙ্গে টাকা-পয়সার লেনদেন নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে এবং পারিবারিকভাবেও বিভিন্ন সময় কলহের ঘটনা ঘটে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে মারুফার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।
অভিযোগের সত্যতা, মামলার বর্তমান অবস্থা এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকরের বিষয়ে মাধবপুর থানা ও সংশ্লিষ্ট আদালতের বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আজিজুর
রহমান
নির্বাহী সম্পাদক : মাহফুজুর
রহমান