
বিশেষ প্রতিনিধি: রুহুল আমীন খান (উজ্জ্বল)
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বুল্লা ইউনিয়নের মাহমুদপুর এলাকায় কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত একটি ড্রেজার মেশিন ও বিপুল পরিমাণ পাইপ জব্দের পর বিনষ্ট করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং- দুপুর আড়াইটার দিকে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসানের নির্দেশনায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও মাধবপুর থানা পুলিশের সমন্বয়ে পরিচালিত অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা ভূমি অফিসের তফসিলদার মুতাকাব্বির।
অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৮ নম্বর বুল্লা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মাহমুদপুর এলাকায় আবুলক মেম্বারের কৃষিজমি থেকে ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল। এ ঘটনায় শেখ শামীম ও পলাশের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ ওঠে। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত একটি ড্রেজার মেশিন ও বিপুল পরিমাণ পাইপ জব্দ করা হয় এবং সেগুলো বিনষ্ট করা হয়।
এ ছাড়া বেজোড়া মৌজার গাগড়াবাড়ি এলাকায় সাজিদ মেম্বারের ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগের কথাও অভিযানসংশ্লিষ্টরা জানান। তবে দুর্গমতা বা অন্যান্য কারণে ওই স্থানে অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে। সেখানে মজুত করে রাখা বালু ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জামের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। ইউএনওর নির্দেশনায় নোয়াপাড়া তহশিলদারকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে গাগড়াবাড়ি, মাহমুদপুরসহ আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে কৃষিজমি ও এলাকার মাটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে বসতবাড়ি ও ফসলি জমি ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
অভিযানের খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা কৃষিজমি রক্ষা ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযানকে স্বাগত জানান। একই সঙ্গে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবি জানান তারা।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, কৃষিজমি রক্ষা এবং অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আজিজুর
রহমান
নির্বাহী সম্পাদক : মাহফুজুর
রহমান