
মোঃ নাজমুস সাকিব (সাতক্ষীরা সদর প্রতিনিধি):
কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাওয়ার পথে সাতক্ষীরার খেজুরের রস। অথচ একটা সময় ছিল শীতের মৌসুম আসলেই জেলার অধিকাংশ গ্রামের গাছিরা ব্যস্ত হয়ে পড়তেন খেজুর গাছ কাটা এবং রস সংগ্রহের কাজে। কিন্তু এখন আগের মতো রস সংগ্রহের আমেজ আর নেই। এর মূল কারণ হলো নির্বিকারে খেজুর গাছ নিধন এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ। ইট ভাটায় খেজুর গাছ পোড়ানো সহ নানা কারণে এই খেজুর গাছ কাটা হয়। ফলে দিনে দিনে বিলুপ্তির পথে সাতক্ষীরার ঐতিহ্য খেজুরের রস ও গুড়।
একটা সময় ছিল জেলার অধিকাংশ গ্রামের গাছিরা ভোর রাত থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত গাছ কাটা, রস সংগ্রহ, রস জ্বালিয়ে গুড় এবং পাটালি তৈরির কাজে ব্যস্ত থাকতেন। কিন্তু বর্তমানে খেজুর গাছ কমে যাওয়ায় পেশাদার গাছির সংখ্যাও কমে গিয়েছে অনেকাংশে। এখান থেকে এক দুই দশক আগেও গ্রামের রাস্তার পাশে, ক্ষেতের পাশে, পুকুরের পাশে সর্বত্র-ই খেজুর গাছ দেখা যেত। এই গাছ মূলত কোনো পরিচর্যা ছাড়াই প্রাকৃতিক ভাবে জন্মে এবং বেড়ে ওঠে। বর্তমানে গ্রামের মানুষের সচেতনতার অভাবে, ইট ভাটায় জ্বালানোর কারণে অনেটা-ই কমে গিয়েছে এই গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য খেজুর গাছ।
শীত আসলেই জেলার প্রতিটি গ্রামের অধিকাংশ বাড়িতে খেজুরের রসের তৈরি পায়েশ, পিঠা পুলি, সহ হরেক রকমের খাবার তৈরি হয়। উৎসবের আমেজ বয় প্রতিটি ঘরে ঘরে।
এ ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে, শুধু সাতক্ষীরা জেলা নয় বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলেই খেজুর গাছ এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। গাছিদের খেজুর গাছ কেটে রস সংগ্রহের এ কাজটি প্রকৃত পক্ষে শিল্প আর নৈপুণ্য দক্ষতায় ভরা।
সকলের সচেতনতা এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে রক্ষা পেতে পারে বিলুপ্তপ্রায় খেজুরের রস এবং গুড়।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আজিজুর
রহমান
নির্বাহী সম্পাদক : মাহফুজুর
রহমান