
মোঃ মজনু শেখ
বাগেরহাট সদর প্রতিনিধি
বাগেরহাট সদর উপজেলার ৪৭ নং সুগন্ধি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শেখ আসিফ ইকবাল এর বিরুদ্ধে ক্লাস চলাকালীন সময়ে শ্রেণিকক্ষে ঘুমিয়ে থাকা'সহ নানাবিধ অভিযোগ উঠেছে।
বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাধ্যমে জানা গেছে, সুগন্ধি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করার পর থেকে-ই তিনি সময় মত বিদ্যালয় উপস্থিত হন না, বিভিন্ন সময় ক্লাস চলাকালীন শ্রেণিকক্ষে ঘুমিয়ে থাকেন এবং শিক্ষার্থীদের সাথে খারাপ ব্যবহার করেন।
প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণীর অভিভাবক সুফিয়া খাতুন বলেন, প্রায় একটা বছর শেষ হয়ে আসছে কিন্তু আমার ছেলেটা এখনো কিছু শিখতে পারিনি। স্যার প্রতিনিয়ত ক্লাসে এসে ঘুমিয়ে থাকেন। আমরা মাঝেমধ্যে রাগ করে স্কুল ছুটি হয়ে গেলে স্যার ঘুমিয়ে থাকার কারণে আমাদের বাচ্চাদের নিয়ে বাড়ি চলে আসি। স্যার যে ক্লাসে ঘুমিয়ে থাকে সেই ছবি দেখলেই আপনারা সবকিছু বুঝতে পারবেন।
বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব আশরাফ ঢালী বলেন, অভিভাবকরা বিভিন্ন সময়ে এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আমাদের কাছে নালিশ করেছে। আমরা উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরকেও বিষয়টি অবহিত করেছি। এই শিক্ষকের গাফিলাতির কারণে এখনো দ্বিতীয় প্রান্তিক মূল্যায়নের ফলাফল প্রকাশ করতে পারিনি। উনাকে বারবার বলা সত্ত্বেও উনি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করেননি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অর্পনা রানী ঘোষ জানান, আসিফ স্যারের কারণে আমাদের বিদ্যালয়ের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। আমি এই বিদ্যালয়ে যোগদান করার পর থেকে এখন পর্যন্ত এই বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে কেউ কোনো অভিযোগ দিতে পারেনি। এ বিষয়ে আমি স্যারকে অনেকবার সতর্ক করেছি।
অভিযুক্ত শিক্ষক শেখ আসিফ ইকবালের সাথে মুঠোফোনে (01712850010) যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাগেরহাট সদর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নুর মোহাম্মাদ খাঁন বলেন, আমাকে মৌখিকভাবে বিষয়টা জানানো হয়েছে। আমি তাদেরকে লিখিতভাবে অভিযোগ দিতে বলেছি, লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শাহনাজ পারভীন বীথি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে বিষয়টি তদন্ত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আজিজুর
রহমান
নির্বাহী সম্পাদক : মাহফুজুর
রহমান