
নাবিদ আকতার শাওন
(বগুড়া সদর প্রতিনিধি)
কোটা আন্দোলন কে ঘিরে গত ৫ জুলাই ঢাকা শাহবাগ এ শুরু হয় ছাত্রদের দাবির আন্দোলন। পরর্বতীতে যে আন্দোলন ভয়াবহ রূপ নিয়ে ছাড়িয়ে যায় দেশের প্রতিটি জেলায়।শুরু হয় পুরো দেশের ছাত্র জনতার আন্দোলন।আওয়ামী সরকারের পতন এবং দেশ মুক্তির নেশায় দেশে ১ দফা ১ দাবীর মাধ্যমে ৫ আগষ্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার পদত্যাগের করে দেশ থেকে পালিয়ে যায় এই ছাত্র আন্দোলন এর মাধ্যমে । বাংলাদেশ পায় আবারো একটি স্বাধীন দেশ।
দায়িত্ব নেন অন্তবর্তীকালীন সারকার,ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস এর নেতৃত্বে তে গঠন করা হয় দেশের নতুন সরকার ব্যাবস্থা, যার মধ্যে পদ দেওয়া হয় ছাত্র আন্দোলন এ প্রধান ২ সমন্বয়ক কে।
শুরু হয় দেশ থেকে আওয়ামী লীগ সরকার এর উচ্চ পর্যায়ের নেতাকর্মী বিরুদ্ধে হত্যা সহ বিভিন্ন মামলা।গ্রেফতারকৃত আসামি দের রিমান্ডে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর অনেক অজানা তথ্য,যার মধ্যে আয়না ঘরের ব্যাপার টা আলোরণ সৃষ্টি করে দেশের আমজনতার কাছে। রক্ষা পায়নি সাবেক দায়িত্ববান বিভিন্ন পদের কর্মকর্তা-কর্মচারী সহ আওয়ামী লীগ সরকার এর প্রভাবশালী পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও।রক্ষা মেলেনি গ্রেফতারকৃত ডিবি হারুণ,পলক এবং সালমান এফ রহমান এর মতো ব্যক্তিদের।
একই ধারাবাহিকতায় বগুড়া জেলায় মামলাকৃত আওয়ামী লীগ এর উচ্চ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের এখনো কোন তথ্য মেলেনি প্রশাসন এর কাছে।যারা ৫ আগষ্ট সরকার পদত্যাগ এর পর পলাতক হয়ে যায় শহর থেকে।
বগুড়া জেলার শীর্ষ পর্যায়ের আওমীলীগ এর প্রভাবশালী নেতাদের বিরুদ্ধে চলছে হত্যা,গাড়ী ভাংচুর সহ অন্যান্য মামলা।যার মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য রাগিবুল হাসান রিপু,সাবেক সদর চেয়ারম্যান শুভাশিষ পোদ্দার লিটন,এবং তার প্যানেল এর অন্যান্য সাবেক নেতাকর্মীদের অন্যতম। যাদের কোন হদিস নেই জেলার প্রশাসন এর কাছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবেক এক নেতার সাথে ব্যক্তিগত ফোন আলাপে জানা যায়,সাবেক সংসদ সদস্য রাগিবুল হাসান রিপু (মামলা সংখ্যা প্রায় শতাধিক) বর্তমানে দেশের বাহিরে আছেন,তবে কোন দেশে আছেন সে ব্যাপার এ সঠিক তথ্য না থাকলেও সাবেক বগুড়া সদর জেলার চেয়ারম্যান শুভাশিষ পোদ্দার লিটন (মামলা সংখ্যা ৭ এর অধিক)।তিনি বর্তমান রয়েছেন নেপালে।তবে নেপালে যাবার আগে প্রায় ১ মাস তিনি ঢাকায় পলাতক অবস্থায় ছিলেন।
স্পষ্ট বিষয় হলো শুভাশিষ পোদ্দার লিটন কে গ্রেফতার করে তদন্তের মাধ্যমে প্রশাসন পারতো সাবেক এই সংসদ সদস্য এর বর্তমান অবস্থান।যা থেকে বেরেরি আসতো এই জেলার অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য।কিন্তু প্রশাসন (পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি) এই বিষয়গুলোতে এখনো তাদের দায়িত্বে ব্যর্থ।
বগুড়া সদর আসনের সাবেক এই চেয়ারম্যান শুভাশিষ পোদ্দার লিটন নেপালে পালিয়ে গেলেও বর্তমানে তার প্যানেল এর সাথে সরাসরি যুক্ত ১৫ জন নেতাকর্মী,যাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে বগুড়া সদর থানায় হত্যা,ভাংচুর সহ ৪ এর অধিক মামলা রয়েছে।
বিশেষ সোর্স এর সাথে তদন্তে জানা যায়,এসব মামলাকৃত আসামি রা বর্তমানে ঢাকায় উত্তরা হাউস বিল্ডিং, মিরপুর ২ এবং মগবাজার এর গায়ে বাতাস লাগিয়ে ঘুরছে।যেন সরকার পদত্যাগ,এবং শতাধিক মামলা তাদের জন্য একটি বিনোদন মাত্র।তাদের নিয়ে বগুড়া জেলার প্রশাসন (পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি) কর্মকর্তা দের ও নেই কোন সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ, নেই কোন তদন্ত কমিটি, নেই কোন সুনির্দিষ্ট তথ্য।মামলাকৃত এই ১৫ জন নেতাকর্মী সহ প্রায় শতাধিক মামলাকৃত নেতাকর্মীদের মতোই বগুড়ার প্রশাসন(পুলিশ,সেনাবাহিনী,বিজিবি) কর্মকর্তা দের কাছেও এযেন বিনোদন মাত্র।
বগুড়া জেলার ছাত্রলীগ,সেচ্ছাসেবলীক সহ অন্যান্য লীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেও মামলা চললেও কোন তথ্য নেই প্রশাসন এর কাছে।চলছে না তেমন কোন তদন্ত।যেন দেশের এমন চাঞ্চল্যকর ঘাটনার ১ মাস পরেও কোন গুরুত্ব নেই বগুড়া জেলার প্রশাসন পর্যায়ের কর্মরতদের কাছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আজিজুর
রহমান
নির্বাহী সম্পাদক : মাহফুজুর
রহমান