
সংবাদদাতাঃ মোঃ নুরুল ইসলাম, নিকলী-কিশোরগঞ্জ
কিশোরগঞ্জের হাওর অধ্যুষিত নিকলীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে গ্রামীণ বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা। নৌকা বাইচকে ঘিরে সোয়াইজনী নদীর চৈল্যাতীর হাওরে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রখর রোদ উপেক্ষা করে নৌকা বাইচ উপভোগ করতে বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে আসেন হাজারো দর্শনার্থী। নদীর দুই তীর ও আশপাশের এলাকায় পরিণত হয় মানুষের মিলনমেলায়।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় নিকলী নাগরিক কমিটির আয়োজনে সোয়াইজনী নদীর চৈল্যাতীর হাওরে এ নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
সাদ্দাম হোসেন (সাদু)-এর সভাপতিত্বে এবং মাহবুবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নিকলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট বদরুল মোমেন (মিঠু), সাধারণ সম্পাদক আতিকুল ইসলাম তালুকদার (হেলিম), করিমগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপিকা শরিফুন্নেছা, নিকলী উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সদস্যসচিব মো. চান্দালী মেম্বার, সহ-সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ জেলা জজ কোর্টের নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল-২-এর পিপি অ্যাডভোকেট এ এম সাজ্জাদুল হক এবং পল্লী বিদ্যুতের এজিএম আবু বকর ছিদ্দিক আকন্দসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
এছাড়া বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় সাংবাদিক, বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত নৌকার মাঝি ও প্রতিযোগী এবং বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল বলেন, বাংলা লোকসংগীত, বাউল, জারি-সারি গানের মতো নৌকা বাইচও বাংলার লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রখর রোদ উপেক্ষা করে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে, গ্রামীণ বাংলার এই ঐতিহ্যের প্রতি মানুষের ভালোবাসা এখনও অটুট রয়েছে।
তিনি বলেন, নৌকা বাইচের মতো আয়োজন মানুষের মধ্যে আনন্দ, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য সৃষ্টি করে। বিশেষ করে তরুণ ও যুবসমাজকে সুস্থ বিনোদনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি তাদের শিক্ষা, নৈতিকতা ও চরিত্র গঠনে এ ধরনের আয়োজন ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। হারিয়ে যেতে বসা লোকজ ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে নৌকা বাইচের মতো আয়োজন আরও বেশি হওয়া প্রয়োজন।
তিনি আয়োজক কমিটি, প্রতিযোগী নৌকার মাঝি এবং প্রখর রোদ উপেক্ষা করে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়া দর্শনার্থীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। পরে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
নদীর বুকে প্রতিযোগিতামূলকভাবে ছুটে চলা সুসজ্জিত নৌকা আর মাঝিদের ছন্দময় বৈঠার তালে তালে পুরো এলাকায় তৈরি হয় প্রাণবন্ত আবহ। প্রতিযোগিতা ঘিরে দর্শনার্থীদের মধ্যে দেখা যায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। দীর্ঘদিন পর এমন আয়োজন দেখতে পেরে স্থানীয়দের মধ্যেও ছিল আনন্দ ও উচ্ছ্বাস।
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। আয়োজকরা জানান, গ্রামীণ বাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য ও লোকজ সংস্কৃতিকে সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যেই ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আজিজুর
রহমান
নির্বাহী সম্পাদক : মাহফুজুর
রহমান