
====================================
চন্দন মিত্র দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ
======================
দিনাজপুরে লিচু বিক্রেতাকে টার্গেট করে যাত্রী বেশে ব্যাটারি চালিত ইজি বাইকে উঠে চিনতা হরেন দাস নামে এক লিচু বিক্রেতাকে ধারালো চাকু দিয়ে আহত করে টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যাবার ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত ২৪মে সকাল ১১টা ১০মিনিটে দিনাজপুর সরকারি কলেজের সামনে ঘটনাটি ঘটে।
বাদীর দায়ের কৃত মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ সুপার শাহ ইফতেখার আহমেদ এর দিকনির্দেশনায় দিনাজপুর কোতোয়ালি পুলিশ অভিযান চালিয়ে গত ২৫মে আসামীদের নিজ বসতবাড়ি বাংগীবেচা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ।
আটককৃতরা হলেন দিনাজপুর সদরের গোলাপবাগ বর্তমান হাজরা পল্লী বাংগীবেচা ব্রীজ এলাকার মোঃ মোস্তাক আহমেদের ছেলে মোঃ ফয়সাল(৩২) এবং বাংগীবেচা ব্রীজ দক্ষিন পাড়া এলাকার মৃত নজরুলের ছেলে মোঃ রাব্বি(২৫)।
রবিবার (২৬মে)সকালে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এ এফ এম মনিরুজ্জামান মন্ডল।এ সময় তিনি সাংবাদিকদের দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন দিনাজপুর যেহেতু লিচুর জন্য বিখ্যাত এবং শহরের কালিতলা থানার মোড়ে লিচুর বড় পাইকারি বাজার বসে।ঘটনার দিন লিচুর খুচরা বিক্রেতা দিনাজপুর
সদর উপজেলার জামতলী এলাকার বাসিন্দা চিন্ত হরেন দাস লিচু মার্কেটে লিচু বিক্রি করে তার পাশ্ববর্তী গ্রামের পূর্ব পরিচিত অটোচালক হিতেশরঞ্জন রায়ের অটোতে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলে পথিমধ্যে কালিতলা নাবিল কাউন্টারের সামনে অজ্ঞাত নামা এক ব্যক্তি যাত্রী বেশে অটোতে উঠে ।কিছুদূর যাবার পর মোমিনুল ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের সামনে থেকে আরেকজন অজ্ঞাতনাম ব্যক্তি যাত্রী বেশে অটোতে উঠে।দিনাজপুর সরকারি কলেজের সামনে পৌছলে উক্ত ছিনতাইকারী দুজন নামার কথা বলে অটো থামায়।অটো থামার সাথে সাথে ছিনতাইকারী দুজন অটোর সামনে এসে লিচু বিক্রেতা চিন্ত হরেন দাসকে চাকু ধরে যা কিছু আছে দিয়ে দিতে বললে সে রাজি না হওয়ায় একজন ছিনতাইকারী তার বা হাতে চাকু দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে সে তার বুক পকেটে থাকা ৩হাজার ৫শত টাকা হাতে মুষ্টিবদ্ধ করে রাখলে অপর ছিনতাইকারী তার হাতের মুষ্টি খুলে জোরপূর্বক টাকা ছিনিয়ে নেয় ।তারা চিৎকার শুরু করলে ছিনকারী দুজন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় ।এ ঘটনার পর চিনতা হরেন দাস অজ্ঞাতনামা আসামী করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরেই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অবস)আবদুল্লাহ আল মাসুমের নেতৃত্বে কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ফরিদ হোসেনের তত্ত্বাবধানে কোতোয়ালি থানার সংগীয় ফোর্স অভিযান শুরু করে প্রাথমিক পর্যায়ে সিসি ফুটেজ দেখে আসামীদের চিহ্নিত করা না গেলেও বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত ও পিসিপিআর দেখে ক্রমান্বয়ে তাদের ছবি ভিকটিম অটোচালক সহ স্থানীয়ের দেখালে এই ঘটনায় জরিত তদন্তে উপরোক্ত আসামীদের আটক করলে তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে ছিনতাইয়ের সব তথ্য ।এবং তারা ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ।এবং আসামী ফয়সালের দেখানো তথ্য মতে ঘটনার সময় ব্যবহৃত ধারালো চাকুটি উদ্ধার করা হয় ।প্রেস ব্রিফিংয়ের সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ উপপরিদর্শক লিখন ও ইন্দ্র মোহন । আসামীদের আদালতে প্রেরন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আজিজুর
রহমান
নির্বাহী সম্পাদক : মাহফুজুর
রহমান