
শুভ্র মজুমদার, স্টাফ রিপোর্টার:-
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলে পাটচাষিদের উন্নয়নে সরকারি বরাদ্দের অর্থ ব্যবহারে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে জেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আজমত আলী আকন্দের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে পাটচাষি, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। সরকারি একটি দাপ্তরিক চিঠিতেও এসব অভিযোগ উত্থাপনের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।
অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, পাট অধিদপ্তরের ‘উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ’ প্রকল্পের আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন উপজেলায় পাটচাষি ও প্রকল্প বাস্তবায়নসংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে বরাদ্দের অর্থ নির্ধারিত খাতে যথাযথভাবে ব্যয় না করে বিভিন্ন পর্যায়ে অনিয়ম করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, চাষিদের প্রশিক্ষণের জন্য বরাদ্দ অর্থের একটি অংশ ব্যয় করা হলেও অবশিষ্ট অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার করা হয়নি। একইভাবে পাটবীজ ক্রয়ের ক্ষেত্রেও বরাদ্দের তুলনায় কম পরিমাণ বীজ সংগ্রহ করে অর্থের অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া প্রচার-প্রচারণা ও বিজ্ঞাপন খাতে বরাদ্দ অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় না করার অভিযোগ উঠেছে। পাটবীজ পরিবহন খাতেও অর্থ ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, বরাদ্দের অর্থ না পাওয়ায় উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের কেউ কেউ নিজস্ব অর্থে পাটবীজ পরিবহন করতে বাধ্য হয়েছেন।
অভিযোগকারীরা আরও জানিয়েছেন, এসব অনিয়মের বিষয়ে পাটচাষিদের বক্তব্য, বিভিন্ন কার্যক্রমের ভিডিও রেকর্ডসহ একাধিক তথ্য-প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত উপ-সহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যথাযথ সমন্বয় না করে কোনো কোনো ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে প্রকল্পের সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে মো. আজমত আলী আকন্দের আগের কর্মস্থল ময়মনসিংহেও অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার দাবি করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, প্রকল্পের অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে প্রশ্ন তুললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ভয় দেখানোর ঘটনাও ঘটেছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন টাঙ্গাইল জেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আজমত আলী আকন্দ। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ময়মনসিংহের ডিও লেটারটিও মিথ্যা। এ ছাড়া আমার বিরুদ্ধে করা লিখিত অভিযোগের কোনো প্রমাণ কেউ দেখাতে পারবে না। সুষ্ঠু তদন্তেই সবকিছু বের হয়ে আসবে।
অভিযোগকারীরা সরকারি অর্থের যথাযথ হিসাব যাচাই, প্রকল্পের বাস্তবায়ন কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যালোচনা এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি তাদের।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আজিজুর
রহমান
নির্বাহী সম্পাদক : মাহফুজুর
রহমান