মাহফুজুর রহমান
(সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার):
খুলনা নগরে পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি বা ওয়াশ খাতে গত তিন বছরের অর্জন ধরে রাখতে এবং এসব সেবা আরও এগিয়ে নিতে সমন্বিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান, সেবাদাতা সংস্থা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা। সেবাগুলো দীর্ঘ মেয়াদে সচল রাখতে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাসও দিয়েছেন তাঁরা।
রোববার খুলনা নগরে ওয়াটারএইড বাংলাদেশের আয়োজনে ও নবলোক পরিষদের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায় এ অঙ্গীকারের কথা উঠে আসে। ‘দায়িত্বপ্রাপ্ত অংশীজনদের নিয়ে কর্মশালা ও সংস্থাভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন’ শীর্ষক এ আয়োজন বাংলাদেশে সুইডেন দূতাবাসের অর্থায়নে বাস্তবায়িত ‘ওয়াশ ফর আরবান পুওর (ওয়াশফরআপ)’ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের অংশ।
কর্মশালায় খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, নগরের নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও নাগরিক সেবার মান বাড়াতে সমন্বিত উদ্যোগ, কার্যকর পরিকল্পনা ও নিয়মিত তদারকির বিকল্প নেই। খুলনায় বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পুষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন, নারীর নিরাপত্তা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ নানা বিষয়ে কাজ করছে। এসব উদ্যোগের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলা গেলে নগরের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে আরও বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রকল্পের মেয়াদ শেষের দিকে এলেও কাজ শেষ হয়ে যাচ্ছে না। বরং অর্জনগুলো ধরে রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য এটি একটি নতুন সূচনা।’
কর্মশালায় প্রকল্পের আওতায় গত তিন বছরে বাস্তবায়িত বিভিন্ন কার্যক্রম ও অর্জন তুলে ধরা হয়। পরে অংশগ্রহণকারীরা দলীয় আলোচনার মাধ্যমে এসব অর্জন ধরে রাখা, সেবাগুলো সচল রাখা এবং ভবিষ্যতে সেবার পরিধি আরও বাড়ানোর উপায় চিহ্নিত করেন। তাঁরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য ভূমিকা ও করণীয় তুলে ধরে প্রাতিষ্ঠানিক কর্মপরিকল্পনাও উপস্থাপন করেন।
খুলনা সিটি করপোরেশন, খুলনা ওয়াসা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও কমিউনিটির প্রতিনিধিরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে ওয়াশ কার্যক্রমে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। স্থানীয় মানুষের প্রয়োজন ও বিদ্যমান সমস্যাগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যৎ কার্যক্রম সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার ওপরও আলোচকেরা জোর দেন।
অংশগ্রহণকারীরা বলেন, একটি প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও মানুষের নিরাপদ পানি, উন্নত স্যানিটেশন ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশের প্রয়োজন শেষ হয় না। তাই প্রকল্পের অর্জনগুলো স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটির নেতৃত্বে এগিয়ে নিতে হবে। এর মধ্য দিয়েই সেবাগুলোর স্থায়িত্ব ও দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন নিশ্চিত করা সম্ভব।
কর্মশালায় খুলনা সিটি করপোরেশন, খুলনা ওয়াসা, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর, সমাজসেবা অধিদপ্তর ও ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের কর্মকর্তারা অংশ নেন। এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকার কমিউনিটিভিত্তিক সংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষক, ওয়াটারএইড বাংলাদেশ ও নবলোক পরিষদের কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আজিজুর
রহমান
নির্বাহী সম্পাদক : মাহফুজুর
রহমান