
মোঃ শহিদুল ইসলাম,
নিজস্ব প্রতিবেদক খুলনাঃ-
টার্গেট কিলিংয়ের মতো একের পর এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার কারণে খুলনার দিঘলিয়া এখন চরম অপরাধ ঝুঁকিতে। অঞ্চলটিতে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করা ‘পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (এমএল-জনযুদ্ধ)’–এর আঞ্চলিক নেতা নাসিমুল গনি ওরফে নাসিম (৫৫) হত্যাকাণ্ডের ৭ দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ দৃশ্যমান কোনো সফলতা দেখাতে পারেনি। বিশেষ অভিযান চালিয়েও মূল ঘাতকদের গ্রেপ্তার করতে না পারায় চরম হতাশা ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে নিহত নাসিমের পরিবার।
স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্র ও জনশ্রুতি থেকে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের মূল নীল নকশা বা পরিকল্পনা করা হয়েছিল খুলনা নগরীর দৌলতপুর এলাকায়। এই মিশনে সহযোগিতা করে নিহতের নিজ গ্রাম ফরমাইশখানারই দুজন ব্যক্তি এবং ঘাতকদের আশ্রয় দেয় পার্শ্ববর্তী গ্রামের জনৈক ব্যক্তি। এমনকি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার ঠিক কিছুক্ষণ আগে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তির উপস্থিতি ও হঠাৎ কেটে পড়ার বিষয়টি এখন স্থানীদের মুখে মুখে আলোচনার মূল বিষয়। তবে স্থানীয়দের মাঝে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য ঘুরপাক খেলেও পুলিশের হাতে এখনো কাঙ্ক্ষিত সুনির্দিষ্ট কোনো ক্লু নেই।
হতাশ পরিবার ও মামলার বিবরণ
নিহত নাসিমের স্ত্রী মোছাঃ সেলিনা খাতুন মুক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
"আমার স্বামী হত্যার এক সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও পুলিশ আসামি গ্রেপ্তারে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। ঘাতকেরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আদৌ পুলিশ হত্যাকারীদের ধরতে পারবে কিনা তা নিয়ে আমরা শঙ্কিত।"
ঘটনার পর নিহত নাসিমের স্ত্রী বাদী হয়ে দিঘলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এজাহারে অজ্ঞাত আসামিদের পাশাপাশি জীবদ্দশায় নাসিমকে সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন—
দৌলতপুর পাবলা এলাকার কাদের শেখের পুত্র জুম্মন শেখ, দেওয়ানা বকুল তলার মোঃ দুলাল মোল্লার পুত্র মোঃ রায়হান মোল্লা, দেওয়ানা দক্ষিণ পাড়ার সোবহান খানের পুত্র রিপন ওরফে এ্যালকো রিপন, এবং কুদ্দুস বিহারীর পুত্র শরিফুল বিহারী।
পরিবারের দাবি, এই চারজনের সাথে দীর্ঘদিন ধরে নাসিমের শত্রুতা চলছিল এবং তিনি সার্বক্ষণিক প্রাণনাশের আশঙ্কায় ছিলেন। এছাড়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ ও অন্ধকার জগতের পুরনো শত্রুতা এ হত্যাকাণ্ডের প্রধান কারণ হতে পারে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
যেভাবে ঘটেছিল সেই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড
উল্লেখ্য, গত রবিবার (৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে দিঘলিয়া উপজেলার ফরমাইশখানা এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে তৈয়বের চা দোকানে বসেছিলেন নাসিম। এ সময় একটি ভ্যানে করে আসা একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তাঁকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে। ঘাতকদের ছোড়া তিনটি গুলি সরাসরি তাঁর মাথায় বিদ্ধ হয়। এরপর দুর্বৃত্তরা ফাঁকা গুলি ছুড়ে এলাকা থেকে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাঁকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত নাসিম ফরমায়েশখানা এলাকার মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে।
পুলিশের বক্তব্য ও বর্তমান অবস্থা
সার্বিক বিষয় নিয়ে দিঘলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অরুপ কুমার চৌধুরী জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জড়িত কেউ পার পাবে না।
তিনি আরও জানান, এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পরিচালিত অভিযানে মাদক ও জুয়াড়িসহ বিভিন্ন মামলার ৫ জনকে ইতিমধ্যে আটক করা হয়েছে। মূল অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারে সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আজিজুর
রহমান
নির্বাহী সম্পাদক : মাহফুজুর
রহমান