
মো আলাউদ্দিন মিয়াজী
কচুয়া প্রতিনিধি
সুরমা সুপারের প্রতিষ্ঠতা আবুল হোসেন মজুমদার প্রথমে কচুয়া উপজেলা থেকে ঢাকাগামী দূরপাল্লার বাস শুরু করলেও ধীরে ধীরে মতলব, শাহারাস্তি এবং হাজীগঞ্জ পর্যন্ত বিস্তার লাভ করে এই পরিবহনটি।রাস্তা বর্ধিত আর গাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে দুর্নীতির মাত্রা ও বৃদ্ধি পেয়েছিলো লাগামহীন ভাবে। তৎকালীন প্রশাসন আর আওয়ামী নেতাদের সাথে নিয়ে কোটিপতি বনে যান আবুল হোসেন মজুমদার। সাবেক একজন শ্রমিক নেতা জানান, রাস্তা অনুমোদনের জন্য বাস প্রতি নেওয়া হতো বিশ লক্ষ টাকা যার একাংশ পেতেন মজুমদার বাকি টাকা প্রদান করা হতো প্রশাসন এবং আওয়ামী নেতাদের।
এইতো গেলো সুরমা সুপার বাস বৃদ্ধি আর রাস্তা বর্ধীত করণ বাবদ দুর্নীতির গল্প।এবার জানা যাক বাস প্রতি কাউন্টার গুলো থেকে কত টাকা হাতিয়ে নিতো মজুমদার সহ আওয়ামী নেতারা। হোসেনপুর থেকে ছেড়ে এসে রাহিমানগর বাস কাউন্টারে, বাস প্রতি প্রদান করা হতো ২৫০ টাকা, যার ষাট টাকা প্রদান করা হতো দুই কেরানীকে, টিকেট ছাপা বাবদ প্রদান করা হতো বিশ টাকা ।এখানে শিরোনামহীন বাকি ১৭০ টাকার হিসাব কষলে দেখা যায় প্রতিদিন ৬৫ টি বাস চলাচলের ভিওিতে প্রতি মাসে দাঁড়ায় ৩,৩১, ৫০০ টাকা।
এবার সুরমা সুপার যখন এর আপন কাউন্টার কচুয়ায় স্থীর করতো এখানে প্রদান করতে হতো এক শত আশি টাকা, যার ত্রিশ টাকা পেতো শ্রমিক কল্যান সমিতি,চল্লিশ টাকা পেতো দুই কেরানী, দশ টাকা পেতো কলার, বাকি এক শত টাকা চলে যেতো তথাকথিত মালিক সমিতির নামে যার কোন অস্তিত্ব নেই।
কচুয়া কাউন্টারের হিসেব কষতে না কষতেই বাঁধা হয়ে দাঁড়াতো কচুয়া পৌরসভার লস্কররা।এখানে দেওয়া হতো পঞ্চাশ টাকা। যার মাসিক পরিমাণ দাঁড়াতো ৯৭,৫০০ টাকা।
সাচার বাজারে চাঁদা প্রদান করতে হতো এক শত টাকা, যার ত্রিশ টাকা পেতো কর্মী বাকি ৭০ টাকা হাতিয়ে নিতো সেখানকার সাবেক ইউ পি চেয়ারম্যান মনির হোসেন।
একেই ভাবে হাজীগঞ্জ এবং মতলব থেকে ছেড়ে আসা বাসগুলোকেও একেই নিয়ম অনুসরণ করতে হতো।
কচুয়ার সিমানা পেরিয়ে গন্তব্য পর্যন্ত যথাক্রমে গৌরীপুর দেওয়া হতো ৪০ টাকা, কাঁচপুর ৫০ টাকা, চিটাগংরোড ৫০ টাকা, সায়দাবাদ বাস টার্মিনালে প্রবেশ করতে ৪০ টাকা, ভিতরে ৩০ টাকা, বাহির হতে ৬০ টাকা, টার্মিনাল জি,বি ৫৫০ টাকা, জনপদ মোড়ে ২৫০ টাকা হারে চাঁদা দিয়ে আসছিলো সুরমা সুপার। যার ফলে যাত্রীদের উপর চাপানো হতো অতিরিক্ত ভাড়া, সাথে ফ্রী ছিলো স্টাফদের খারাপ আচরণ। কেননা তাদের খুঁটির জোড় ছিলো পাতি নেতা থেকে শুরু করে স্হানীয় সাংসদ পর্যন্ত।
কাউন্টারগুলোতে বাস প্রতি শ্রমিক কল্যানের তহবিলে টাকা রাখলেও, শ্রমিকদের মৃত্যুর পরে অথবা দূর্ঘটানার শিকার হলে তাদের পরিবারকে করা হয়নি কোন আর্থিক সহযোগিতা।
রাজনৈতিক বৈষম্যের কারণে বিরুদী দলের কোন স্টাফের স্হান ছিলো না সুরমা কাউন্টার গুলোতে।
এই দিকে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ বনে গিয়েছে মজুমদারের দেওয়া কমিটির সভাপতি আর সেক্রেটারি।জানা যায়,তাদের রয়েছে একাধিক সুরমা গাড়ি, আর বানিয়েছেন আলিসান বাড়ি। পদ পদবীর আগে চোখে পরার মতো কিছুই ছিলোনা তাদের।
গেলো ৫ আগষ্ট ছাত্র জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে নতুন করে দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে গা ঢাকা দেয় সুরমা সুপার পরিচালনা পর্ষদ। রেখে যায় দুর্নীতির ক্ষতচিহ্ন।এমতবস্থায় যাত্রীদের কল্যানে ন্যায্য ভাড়া আদায় করে, ঘুড়ে দাঁড়াতে চায় পরিবহনটির নতুন দায়িত্ব পাওয়া নেতৃবৃন্দুরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আজিজুর
রহমান
নির্বাহী সম্পাদক : মাহফুজুর
রহমান